thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫,  ৯ মহররম ১৪৪০

‘দেশে ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রবর্তিত হয়’

২০১৪ নভেম্বর ০৭ ০০:১৫:২১
‘দেশে ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রবর্তিত হয়’

মাহমুদুল হাসান, দ্য রিপোর্ট : ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন করে বিএনপি। এই দিবসটিতে দলের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই থাকে নানা আয়োজন। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ১০ দিনের কর্মসূচি পালন করছে দলটি। এ দিনটি নিয়ে বৃহস্পতিবার ফোনালাপে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম দ্য রিপোর্টকে নিজের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সম্পর্কে কিছু বলুন

মেজর হাফিজ : ৭ নভেম্বর দেশের সাধারণ মানুষ এবং সৈনিকদের মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ১৯৭৫ সালে আগস্টে সামরিক হস্তক্ষেপে প্রথমবারের মতো সরকার পরিবর্তন হয়। কিন্তু এ পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। ৭ নভেম্বরের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে এ দেশের জনগণ বাকশালী শাসন থেকে মুক্তি পায়। জিয়াউর রহমানের আবির্ভাবের ফলে দেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রবর্তিত হয়।

ওই সময় জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপ্রধান না থাকলেও তারই অনুপ্রেরণায় পরবর্তীকালে সরকার পরিচালিত হয়েছিল। বাকশালী শাসন ব্যবস্থার ফলে মানুষ সমাজে যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের আবির্ভাবের ফলেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হয়।

জাসাদ নামক একটি রাজনৈতিক দল ৭ নভেম্বর মূল ভূমিকা দাবি করে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে সেনাবাহিনীতে তাদের কোনো কৃতিত্ব বা তাদের কোনো পরিচিতিও ছিল না। তারা যে সমাজতন্ত্রিক বা কর্নেল তাহের যে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা বলেছেন বা বলার চেষ্টা করছেন, সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা কর্নেল তাহের বা জাসদ কারো ছিল না।

তখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে বিপ্লব ঘটানোর মতো তেমন কোনো পরিস্থিতিও ছিল না। জিয়াউর রহমান একজন সৎ পরিচ্ছন্ন, ভাবমূর্তির অধিকারী সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। এটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণার ফলে তার যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয় তা সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর বাইরেও ছিল। সেটা ৭ নভেম্বরের পর জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে এবং কমান্ডার হিসেবে তার যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তিনি সুশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে রূপান্তর করেন। তখন সেনাবাহিনীতে জিয়াউর রহমানের মতো ব্যক্তি না থাকলে আরও অনেক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঘটতো।

জিয়াউর রহমান কঠোর হস্তে সকল বিশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সেনাবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধও রেখেছেন। যার ফলে পরবর্তীকালে তিনি এ দেশে একটি স্টেবল গণতন্ত্র, স্টেবল সরকার প্রতিষ্ঠা ও একটি উন্নয়নকামী দেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই হল আমার কাছে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কর্নেল তাহের হত্যা বিতর্ক আপনি কীভাবে দেখেন?

তাহের একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকতা ছিলেন। সেনাবাহিনীতে সরকার পরিবর্তনের জন্য সৈনিকদের মধ্যে সংগঠন গড়ে তোলা এবং সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তোলা একটি দেশের আইনে, সামরিক বাহিনীর আইনে একটি গুরুতর অপরাধ। সেই অপরাধে অন্যদের যে শাস্তি দেওয়া হয় কর্নেল তাহেরকেও একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সেখানে সেনা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার গিয়ে সংগঠনের অধিকার রাখেন না। তিনি হয়ত বিপ্লব করতে চেয়েছিলেন। সাধারণত বিপ্লব ব্যর্থ হলে সারা পৃথিবীতে যে ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়, সেটাই তিনি পেয়েছেন। এর মধ্যে বেআইনী কিছু নেই। সম্পন্ন আইনগতভাবেই করা হয়েছে।

৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি বাতিল করা প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য কী?

এই দিনটিকে সরকারের ছুটি ঘোষণা করা উচিত। এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সুদূরপ্রসারী একটি দিন। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের মতো একজন ব্যক্তিত্ব তিনি পরবর্তীকালে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে প্রমাণ করেছেন। তিনি যে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করেছিলেন, তা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। সুতরাং এ দিনটিতে ছুটি পুনঃপ্রবর্তন করা উচিত।

৭ নভেম্বর সময়কালে সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দিনটি আপনি কীভাবে প্রত্যক্ষ করেন?

আমি সেনাবাহিনীতে ঢাকা ব্রিগেডে স্টাফ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলাম। আমার কমান্ডার অফিসার ছিলেন ব্রিগেডিয়ার সাফায়াত জামিল। সে দিনের ঘটনা আমি তার অধীনস্ত একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। আমি দর্শক হিসেবে দেখেছি। আমি মেজর ছিলাম, কোনো কমান্ডিং অফিসার ছিলাম না।

নতুন প্রজন্মের প্রতি আপনার আহ্বান?

বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্র প্রিয়। নতুন প্রজন্মের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে গণতন্ত্রকে ধরে রাখার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে তারা যেন প্রস্তুত থাকে। গণতন্ত্র না থাকলে বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হবে না। সুতরাং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে যেকোনো মূল্যে ধরে রাখার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচ-টিএস/এমসি/সা/নভেম্বর ০৭, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

৭ নভেম্বর এর সর্বশেষ খবর

৭ নভেম্বর - এর সব খবর



রে