thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫,  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা হয়েছিল ৭ নভেম্বর’

২০১৪ নভেম্বর ০৭ ০০:৫২:৩৩
‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা হয়েছিল ৭ নভেম্বর’

মাহমুদুল হাসান, দ্য রিপোর্ট : ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন করে বিএনপি। এই দিবসটিতে দলের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই থাকে নানা আয়োজন। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ১০ দিনের কর্মসূচি পালন করছে দলটি। এ দিনটি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দ্য রিপোর্টের সঙ্গে এক স্বাক্ষাতকারে কথা বলেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর তাৎপর্য অপরিসীম। এই দিনে সিপাহী জনতার অভূতপূর্ব স্রোতে রাস্তায় নেমে এসেছিল। কারণ কতগুলো মূল উদ্দেশ্য ছিল। এর আগে এক ভয়ঙ্কর দুঃশাসন এ দেশের মধ্যে চেপে বসে ছিল। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল একদলীয় বাকশাল কায়েম করে। মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে হরণ করা হয়েছিল। আমাদের গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বাধীনতা ছিল হুমকির মুখে। ২৫ বছরের একটি গোপন চুক্তি করা হয়। নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি ছিল না।

রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর বিল্পবের মধ্য দিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি তৈরি হয়েছে। একটি দেশ নিজের স্বার্থে কথা বলার জন্য আরেকটি দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে আলাপ আলোচনা করতে পারে, চুক্তি করতে পারে সেই নীতি তৈরি হয়েছিল। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষের যে সম্মিলিত ক্রোধ, বিরোধিতা, প্রতিবাদ সেটি এই বিপ্লবের ফলে বের হয়ে আসে। মূলত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা হয়েছিল।

১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ বিএনপির এ নেতা বলেন, ৭ নভেম্বর বিপ্লবের ফলে আজকে যে আমরা খবরের কাগজ পড়ছি, কথা বলছি, আমরা যে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ করার অধিকার, সাংবিধানিক অধিকারসহ আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো পেয়েছিলাম। যা চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে হরণ করা হয়েছিল। সেগুলো আবার ফিরে পেয়েছি ৭ নভেম্বর। এখন আবার এই দিন তাৎপর্যপূর্ণ। এখন এটি আরও কার্যকর।

তিনি বলেন, এখন আমরা দেখছি, নতুন কায়দায় দ্বিতীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছে। আজকের সংসদ এক দলীয় সংসদ, কথা বলা, মিছিল করা নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। গণমাধ্যমগুলো যেন স্বাধীনভাবে সত্য কথা তুলে ধরতে না পারে। সেই ব্যবস্থা করছে সরকার। সুতরাং আজও ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অত্যন্ত অপরিসীম। আমরা মনে করি সিপাহী বিপ্লবের যে প্রেরণা নিয়ে এ দেশের মানুষ আজও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে তারা লড়াই করবে, তারাই রুখে দাঁড়াবে।

৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীন ছিল একটি তাঁবেদার সরকার। আজকের যারা ক্ষমতায় আছে তারা যেমন তাঁবেদার সেটিও ছিল একটি তাঁবেদার সরকার। বর্তমান সরকার ১১ জানুয়ারির সরকারকে বলে ছিল, তাদের আন্দোলনের ফসল। সুতরাং চরিত্রে বৈশিষ্ট্যে, সাংস্কৃতিতে, আচরণে, রূপে এবং রঙে এই দুটি সরকার ছিল একই সরকার। তারা (ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীন) যেগুলো চেয়েছিল, সেই কাজগুলো এরা (আওয়ামী লীগ সরকার) সেখান থেকেই শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও অন্যান্য যে সকল দল স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, স্বাধীনতা রক্ষায় যারা বিশ্বাস করে, তারা অত্যন্ত ভাল করেই জানে ৭ নভেম্বরের প্রেরণাটা কী ছিল?

তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বর আগে যে গোপন চুক্তি হয়েছিল, তা আজও জনগণকে জানতে দেওয়া হয়নি। আধিপত্যবাদের সেই থাবা আবারও বিস্তার লাভ করেছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলছে।

ছুটি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বার বার দাবি করে আসছি, এই মহান দিবসে আগেও সরকারি ছুটি ছিল। আগেই বলেছি তাঁবেদার সরকার, অগণতান্ত্রিক শক্তি এই ছুটি বন্ধ করে দিয়েছে। জনগণের দেশপ্রেমিক শক্তি যখন আবার ক্ষমতায় আসবে তখন এই সরকারি ছুটি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হবে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে রিজভী বলেন, তরুণ প্রজন্ম আজকে বাকস্বাধীনতা, নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে। আজকে যে আন্দোলন হচ্ছে এটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উত্তরণের জন্য। সুতরাং এ দেশের তরুণরা যেভাবে ৫২, ৬২, ৬৯, ৭১, ৯০-এর স্বৈরাচারকে হটিয়েছে আজও তারা সংগঠিত এ চেতনার পক্ষে। তারা ৭ নভেম্বরের চেতনার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তরুণরা চায় না, তাদের স্বাধীনতা হরণ করা হোক। তারা চায় না, তাদের কথা বলার অধিকার কেউ হরণ করে নিক। তরুণরা জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে।

সিপাহী বিল্পবের চেতনা জাসদের দাবির প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সিপাহী-জনতার বিপ্লবে তারা একটা কৌশল অবলম্বন করে ছিল। এটাকে অন্যখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দলটির নেতারা। বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সিপাহী-জনতা এটাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। কারণ একটি দেশ চলবে দেশের মতো। সেনানিবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করে। কিন্তু জিয়াউর রহমান তা হতে দেননি। কারণ তার জনপ্রিয়তা ছিল যেমন মানুষের মধ্যে তেমনি সেনাবাহিনীর মধ্যেও। তিনি একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হল সেনাবাহিনী। সেই আধুনিক সেনাবাহিনী জিয়াউর রহমান গড়ে তুলেছিলেন। এ বাহিনীকে বিশৃঙ্খল করা, সেখান থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিলেন। এগুলো তারা এখন বিভিন্নভাবে উষ্মা প্রকাশ করে। সিপাহী জনতা যেটা চেয়েছিলেন। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং মানুষের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়া, তারা সেই দিনের ইচ্ছা চেতনার প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমানকে বেছে নিয়েছিলেন। সেই দিনের মতো জিয়া আজকেও সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। জাসদ নিশ্চিয় জনপ্রিয় নয়। তাদের একজন নেতা একা একা কোনো ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক, দেখেন কত ভোট পায়?

জিয়াউর রহমানকে ঘিরে কর্নেল তাহের হত্যা নিয়ে নানা বির্তক সম্পর্কে জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, এ বিতর্ক যাদের করার তারাই করে থাকে। আইনের যে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সেইভাবেই তার বিচার হয়েছে। যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়, কেউ দেশের স্বাধীনতা নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে তাহলে কী তার বিচার হবে না? বিচারের যে প্রক্রিয়া আছে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কর্নেল তাহেরের বিচার করা হয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচ-টিএস/এমসি/আরকে/নভেম্বর ০৭, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

৭ নভেম্বর এর সর্বশেষ খবর

৭ নভেম্বর - এর সব খবর