thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

জিয়া ৭ নভেম্বর বিপ্লবের সূচনায় ছিলেন না

২০১৪ নভেম্বর ০৭ ০২:০৭:৪১
জিয়া ৭ নভেম্বর বিপ্লবের সূচনায় ছিলেন না

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বিপ্লব জড়িয়ে রয়েছে একাত্তারের মুক্তিযুদ্ধের দুই কৃতী সৈনিকের নাম। এ দেশের দুই মহান সন্তানের চিন্তা ভাবনা। একজন আবু তাহের এবং অন্যজন জিয়াউর রহমান। দুইজনই অত্যন্ত উজ্জল বৈশিষ্ট্রে সমুজ্জ্বল নক্ষত্রের মতই। তাদের পাশাপাশি রয়েছে খালেদ মোশাররফের নাম। তিনিও একজন কৃতি মুক্তিযোদ্ধা। এই তিন জন মুক্তিযোদ্ধার কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার পটভূমিকায় সৃষ্টি হয়েছে ৩ নভেম্বরের অধ্যায়। এ অধ্যায় বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপতে এক সুস্পষ্ট মাইলফলক। সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশনের এক সূচক। কথাগুলো বলছি এ জন্য যে ৭ নভেম্বর পর থেকে বাংলাদেশ রাজনীতির ক্ষেত্রে সূচিত হয় বহুমুখি ধারা।

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে গণতন্ত্র যে আর্শিবাদ মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ তার জয়যাত্রা শুরু করে ছিল এবং মাঝ পথে যার গতিরুদ্ধ হয়েছিল। সেই গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা পুর্নবাসনে সমূহ-সম্ভবনা দেখা দেয়। খন্ড ছিন্ন অনৈক্যে ভরা জাতীয় জীবন নতুনভাবে জাতীয় ঐক্য সুষ্টির সূচনা হয় ওই সময় থেকে। গণতন্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য শর্তাবলি যেমন-বহুদল, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন সংবাদপত্র প্রভৃতির পররাষ্ট্রনীতি মুক্তি লাভ করে বিশ্বময় বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ পায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মুক্তিযুদ্ধের অনলুক থেকে প্রাণ পেয়ে বাংলাদেশ যেভাবে মাথা উচু করতে শিখেয়েছিল, নতুনভাবে আবারও মাথা না নেওয়ানোর সংকল্প লাভ করে ৭ নভেম্বরের পর। এই আন্দোলনে সৈনিক এবং জনতার মধ্যে এতদিন পর্যন্ত যে অনতিক্রম্য ব্যবধান বিদ্যমান ছিল তাও অপসারিত হয়।

জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে সিপাহী জনতার সম্মিলিত উচ্চকণ্ঠ সমগ্র সমাজকে সচেতন করে তোলে। এই বিপ্লবের নাম নাম ভূমিকায় ছিলেন কর্ণেল আবু তাহের। প্রথমে সামরিক বাহিনীকে ‘শ্রেণীহীন’ করে গড়ে তুলে, তাকে তীব্রভাবে ‘সচেতন’ এবং ‘শাণিত’ করে তারই মাধ্যমে বাংলাদেশে শ্রেণীহীন সমাজ গঠনের পরিকল্পনা ছিল তার। এই লক্ষ্যে ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোয় বহুসংখ্যক বিপ্লবী সংস্থা গঠিত হয়েছিল। তার এ পরিকল্পনার অংশীদার ছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ)। কর্ণেল তাহের ছিলেন জাসদের গণবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় একবার হাতে এলে শ্রেণীহীন সমাজ গঠন সহজতর হয়ে উঠবে এই বিশ্বাস নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। জিয়াউর রহমান এই বিপ্লবের সূচনায় ছিলেন না। ছিলেন না এর সমাপ্তি পর্বেও। কিন্তু এই বিপ্লবের উত্তাল তরঙ্গে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার উচ্চ বেদিতে চলে এলেন, যদিও ৩ নভেম্বরর সাময়িক অভ্যুত্থানে তিনি গৃহবন্ধি হন। উদ্যোগ ব্যর্থ হলো কেন? এর উত্তর ভুব সহজ নয়।

আমি মনে করি, কর্ণেল তাহের এবং জাসদের নেতারা তখনকার সামাজিক চেতনায় যে দুটি ধারা প্রবাহিত হচ্ছিল, সে সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন না। সামাজিক পুনর্গঠনের চেতনায় তারা এত বেশি উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন যে তারই পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী চেন্তাভাবনা যেভাবে সমান্তরাল প্রভাবিত হয়ে সাধারণ জনগণ এমনকি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা রচিত হয়েছিল, সেই বাহিনীর সাধারণ সিপাহীদের মন-মানসিকতাকেও প্রভাবিত করেছিল গভীরভাবে সে সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। স্বাধীন ভারত বা পাকিস্তানের জন্ম যে প্রক্রিয়ায় হয়েছিল সুতীক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা-পর্যালোচনা-সমালোচনার তীর ঘেষে, বাংলাদেশের জন্ম কিন্ত সেভাবে হয়নি। বাংলাদেশের প্রাণ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে। তাই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে‘আমরা দেশ’ ‘আমাদের জাতি’ ‘আমাদের রাষ্ট্র’‘আমাদের বাংলাদেশ’ ইত্যাদি শব্দ উচ্চারিত হয়েছে নতুন ব্যঞ্জনায় নতুন বোধিতে নতুন দ্যোতনায়। যেহেতু এক গণযুদ্ধের ফসল হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা, যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশ জন্মের পূর্বেই এই ভূখন্ডে জাতীয়তার সুদুঢ় হয়েছে এবং চ’ড়ান্ত পর্যায়ে জাতি রাষ্ট্র রুপে বাংলাদেশ অভ্যুদয় ঘটে, তাই আন্তজার্তিক সমাজতন্ত্রিক পুনর্গঠন চেতনা যতই মক্তিশালী হোক না কেন, জাতীয়তাবাদী গণচেতনাও বিকশিত হয়েছে তেমনি প্রবল পরাক্রমে।

সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভারতবিরোধী চিন্তাভাবনা এই চেতনাকে আরো শক্তিশালী করে। রক্ষ্মিবাহিনী সংগঠন, এই বাহিনী ভারতের প্রত্যক্ষ মদদ, এই বাহিনীর এই বাহিনীর প্রতি সরকারের দুর্বলতা, প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর উন্নয়নে সরকারের অনীহা, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বিজয় উল্লাস, পরাজিত পাকিন্তানি বাহিনীর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া সব ধরনের অস্ত্র ভারতের পাচার এসবই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে ভারতবিরোধী মনোবিরায় সম্পূন্ন ব্যর্ত হন। প্রথম আঘাতই বিশেষ করে যখন সিপাহী-জনতায মুখে, ভারতবিরোধী উচ্চারিত হতে থাকে, সেই অভ’্যত্থান ঘায়েল হয়ে পড়ে।

কর্ণেল তাহের, জিয়াউর রহমান ও খালেদ মোশাররফ ইতিহাস। প্রথম বা সমালোচনার উর্ধ্বে তারা। তাই এই দিনে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন প্রয়োজন। কেননা যে মুক্তিযুদ্ধকে আমরা আমাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় বলে চিন্তকা করি, সেই অগ্নিপুরুষ তারাই।

সংকলনে মাহমুদুল হাসান

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

৭ নভেম্বর এর সর্বশেষ খবর

৭ নভেম্বর - এর সব খবর



রে