thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

শাকুর মজিদ

২০১৪ নভেম্বর ২২ ০১:০১:৫৫
শাকুর মজিদ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : লেখক ও স্থপতি শাকুর মজিদ ১৯৬৫ সালের ২২ নভেম্বর সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার মাথিউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফটোগ্রাফি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও জড়িত।

শাকুর মজিদের বাবার নাম আব্দুল মজিদ ও মা ফরিদা খাতুন। তিনি ১৯৭১ সালে মাথিউরা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৭ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ওই কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগে ভর্তি হন ও স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

ছাত্রজীবন থেকে সংবাদপত্রের সঙ্গে তিনি জড়িত। মাসিক অঙ্গনার নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, ভোরের কাগজের বুয়েট প্রতিনিধি, লন্ডনের সাপ্তাহিক সুরমার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেন শাকুর মজিদ। এ ছাড়া দেশের প্রথম সারির নানান পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। তিনি ‘বুয়েট সাংবাদিক সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

শান্তনু আশকার ছদ্মনামে কবিতা লিখে সাহিত্য জগতে শাকুর মজিদের আত্মপ্রকাশ। ১৯৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সিলেট বেতারে আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নাটক ‘যে যাহা করো রে বান্দা আপনার লাগিয়া’ ও ১৯৮৬ সালের জুন মাসে ‘হিসাব বুঝে পেলাম’ প্রচারের মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি।

গীতিকবি ও গায়ক শাহ আব্দুল করিমকে নিয়ে তার উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। তাকে নিয়ে লিখেছেন ‘ভাটির পুরুষ’। পরে একই নামের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। শাহ আব্দুল করিমের জীবনী অবলম্বনে লিখেছেন মঞ্চনাটক ‘মহাজনের নাও’। সুবচন নাট্য সংসদ নাটকটি মঞ্চায়িত করে। ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে ছিল তার সখ্য। যা তার ও হুমায়ূনের বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে। সে সব স্মৃতি নিয়ে লিখেছেন ‘নুহাশ পল্লীর এইসব দিনরাত্রি’ ও ‘হুমায়ূন আহমেদ : যে ছিল এক মুগ্ধকর’ নামের দুটি বই।

শাকুর মজিদ ত্রিশটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার প্রকাশিত ভ্রমণ কাহিনীর সংখ্যা ১২। বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে— ‘রিতা ও দুঃসময়ের গল্প’, ‘ক্লাশ সেভেন ১৯৭৮’, ‘ভাটির পুরুষ’, ‘আমেরিকায় তের রাত’, ‘পৃথিবীর পথে পথে’, ‘কাছের মানুষ দূরের মানুষ’, ‘পাবলো নেরুদার দেশে’, ‘কালাপানি’, সক্রেটিসের বাড়ি’ ও ‘হো চি মিনের দেশে’। এ ছাড়া মঞ্চনাটকের আলোকচিত্র নিয়ে ২০০৩ সালে প্রকাশ হয়েছে ফটোগ্রাফি এ্যালবাম ‘রিদম অন দ্য স্টেজ’। ‘পৃথিবীর পথে পথে’, ‘ভুবন ভ্রমিয়া শেষে’, ‘ইতিহাসের শহর’, ‘দূরদেশ’, ‘দূরে কোথাও’, ‘মসজিদের ইতিকথা’ ও ‘আমাদের এই বসুন্ধরা’ প্রভৃতি শিরোনামে বিভিন্ন টেলিভিশন থেকে তার প্রায় দেড়শতটির মতো প্রামাণ্যচিত্র প্রচার হয়েছে। টেলিভিশনে নাটক-টেলিফিল্ম লিখেছেন ৯টি, নিজে পরিচালনা করেছেন ৫টি। উল্লেখযোগ্য হলো— লন্ডনী কন্যা, করিমুন্নেসা, নাইওরী, একটি লাল শাড়ি, সাদা মাটির ঘ্রাণ, চেরাগ ও বৈরাতি।

শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে ২১টি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৯০ সালে ইউনিসেফ আয়োজিত মেয়ে শিশু বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় ও খেলাঘর আয়োজিত বাংলাদেশের শিশু বিষয়ক আলোকচিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির আলোকচিত্র পুরস্কার ও নিউইয়র্কের লেন্সভিউ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে বুয়েটে 'স্থাপত্য বিভাগ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে ‘পৃথিবীর পথে পথে’-র জন্য কলকাতার রেনেসাঁ বাংলা পদক লাভ করেন।

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএস/এইচএসএএম/ এনআই/নভেম্বর ২২, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর