thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট দ্রুত পাসের দাবি (ভিডিওসহ)

২০১৪ নভেম্বর ২৪ ১৭:৪৯:৫৯
ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট দ্রুত পাসের দাবি (ভিডিওসহ)

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে শেয়ারবাজারের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতার স্বার্থে জাতীয় সংসদে দ্রুত ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট’ পাসের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে নতুন প্রাথমিক গণ-প্রস্তাব (আইপিও) আসার ক্ষেত্রে তথ্যসমূহ যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার অনলাইন নিউজপোর্টাল দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম ও অ্যাপোলো ইস্পাত-এর যৌথ উদ্যোগে এ গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়।

দ্য রিপোর্ট সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিখি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। গোলটেবিল আলোচনায় একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা, ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক সভাপতি মো. শাকিল রিজভী, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিএসইর সাবেক সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন এবং আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএমবিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ বাজারে যত বিপর্যয় হোক না কেন সম্ভাবনার সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারসহ সকল রেগুলেটরদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এগুলো বাস্তবরূপ দিতে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, গুড গর্ভনেন্স, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ভাল কোম্পানি তালিকাভুক্ত করাতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় হলে পুঁজিবাজারে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। মন্ত্রী ও সচিবদের বিরোধিতার কারণে এটা সম্ভব হয় না। কারণ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে তারা গাড়িসহ অন্যান্য যেসব সুবিধা নিয়ে থাকেন সেগুলো পেতে কিছুটা অসুবিধা হবে।

অধ্যাপক আবু আহমেদ অবিলম্বে সংসদে ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট’ পাসের দাবি জানিয়ে বলেন, এটা না হওয়ার কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর হিসাবে অস্বচ্ছতা থেকে যাচ্ছে। এর ফলে শেয়ার অতিমূল্যায়িত হচ্ছে ও নানা রকম ম্যানিপুলেশন হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিএসইসির উচিত শুধু ইস্যু ম্যানেজারের তৈরি পেপারের উপর নির্ভরশীল না থেকে সরেজমিন কোম্পানিগুলো পরিদর্শন করা, প্রদত্ত তথ্য যাচাই করা এবং কোম্পানির ট্যাক্স ফাইল দেখা।

ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট গত ১০ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে তা পাস হতে পারে। তবে এতে কী আছে এখনও তা প্রকাশ করা হয়নি। এ রকম একটি পাবলিক ইস্যুতে কেন এত গোপনীয়তা, তা আমার জানা নেই।’

কোম্পানি একীভূতকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোম্পানির একীভূতকরণের বিষয়ে বিদ্যমান আইনে অসঙ্গতি রয়েছে। এক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। আইন-কানুন বদলানো না গেলে স্টক এক্সচেঞ্জের করার কিছু নেই।’

ফান্ড ব্যবস্থাপকদের দুর্বলতা কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৮টি ফান্ড এসেছে। কিন্তু ২০১৪ সালে কোনো ফান্ড আসেনি। এর পেছনের কারণ সম্পর্কে বলা যায়, এটা ফান্ড ব্যবস্থাপকদের দুর্বলতা। এ ছাড়া এক্ষেত্রেও আইনি দুর্বলতা রয়েছে। ফান্ড ম্যানেজারদের বিষয়ে রেগুলেটরি বডিকে আরও কঠোর হতে হবে।’

ডিএসই পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, শেয়ারবাজারের সবকিছু অডিট রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে। সুতরাং শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য অন্য সঠিক ও মানসম্মত অডিট হওয়া দরকার।

‘১৯৯৬ ও ২০১০ সালের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়’ সেজন্য বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক কোম্পানির শেয়ারের দর অহেতুক বাড়ে। তবে একটি কোম্পানির আয়, সম্পদ ও লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষমতার ওপর শেয়ার দর বাড়া দরকার।’

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিএসইর সাবেক সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘বাজার থাকলে কারসাজি থাকবে। নিয়ন্ত্রকদের এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে। যদি কেউ ১ কোটি টাকার কারসাজি করে তাহলে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করলে হবে না, দ্বিগুণ জরিমানা (২ কোটি টাকা) জরিমানা করতে হবে। শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে ও সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে আমাদের শেয়ারবাজারের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ফোর্সড সেল বলে কোনো কিছুই নেই। এ ধরনের কার্যক্রমকে বলে মার্জিন কল। এ শব্দ কে আবিষ্কার করেছেন তা আমি জানি না। ২০১০ সালে মার্জিন কল বন্ধ না করা ভুল ছিল। ফোর্সড সেল মূলত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই করা উচিত ছিল। কিন্তু বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেখা গেছে এটা বন্ধের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সুপারিশ করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর চেয়েও আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেশি হয়ে থাকে। এর মধ্যে অনেক দুর্বল কোম্পানিও থাকে। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘২০১০ সালে আইন মেনে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে অনেক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অাইন মেনেই ফেসভ্যালুতে কোম্পানিগুলো বাজারে আসছে। এ জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য তৃতীয় চক্ষু ব্যবহার করা প্রয়োজন। কারণ আইনের ভেতরে থেকে কিছু জিনিস দেখা দরকার যা বাজারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।’

দ্য রিপোর্ট সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যদি তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে তাহলে শেয়ারবাজার এগিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘২০১০ সালের ধ্বসের পরে মার্জিন কল বন্ধ করা ভুল ছিল যে কারণে শেয়ারবাজার আজকের অবস্থানে রয়েছে। ওই সময় মার্জিন কল বন্ধ না করলে শেয়ারবাজার আজকের অবস্থায় আটকে থাকত না।’

(দ্য রিপোর্ট/এসআর/এইচএসএম/এইচ/নভেম্বর ২৪, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর