thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১১ মহররম ১৪৪০

সার্ক কার্যকরের আহ্বান শীর্ষ নেতাদের

চুক্তি ছাড়াই প্রথম অধিবেশন শেষ

২০১৪ নভেম্বর ২৬ ১৪:০১:১৯
চুক্তি ছাড়াই প্রথম অধিবেশন শেষ

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের ১৮তম সম্মেলনের প্রথম দিনের অধিবেশন শেষ হয়েছে। অধিবেশনের বক্তব্যে সকল সদস্যরাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকরা সার্ককে কার্যকরের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।

‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’- এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় ১৮তম দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলনের মূল পর্ব। শেষ হয় দুপুর একটায়।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সয়েলটির ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি গৃহে’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত আটটি দেশের সরকারপ্রধানদের সবাই উপস্থিত ছিলেন। এখন অতিথিরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের পাশেই হোটেল ক্রাউন প্লাজায় অবস্থান করছেন। বিকেলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের বৈঠকে চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হচ্ছে না। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা আর ফটোসেশনের মধ্যেই সার্কের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার আশঙ্কা সত্যি হতে যাচ্ছে।

সকালে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও সার্কের বিদায়ী চেয়ারপারসন আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও সবশেষে নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তার বক্তব্যে আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘কৃষি, তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন ও জ্বালানির সহজলভ্যতার ওপর নির্ভর করছে আমাদের উন্নয়ন।’ এ সবের জন্য সার্ককে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর বক্তব্য রাখেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্র রাজাপাকসে। তিনিও সার্ক কার্যকরের জন্য আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার বক্তব্যে সার্ককে আরও কার্যকর করার দাবি জানান। তিনি বলেছেন, ‘সার্ককে জনগণের সার্ককে পরিণত করতে হবে। সার্ককে এ অঞ্চলের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করা উচিত। এ জন্য সার্ককে কার্যকর করতে হবে।’

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিন তোবগে বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শুধুমাত্র যোগাযোগই পারে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, সার্কভুক্ত দেশসমূহের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য সড়ক, রেল ও আকাশ পথে যোগাযোগের দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে। যোগাযোগ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।

একই কথা বলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং স্বাগতিক নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা।

সার্কসদস্য দেশগুলো ছাড়াও ৯টি পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধিরাও বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

পর্যবেক্ষক দেশসমূহের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি নিশা দেশাই বিশওয়াল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি রেনঝি টেরেনকি, মিয়ানমারের প্রতিনিধি ইউ টি লু, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি কায়াং সু লিসহ ৯টি পর্যবেক্ষক দেশ।

বক্তব্যে সবাই বহুমাত্রিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

২২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল ১৮তম সার্ক সম্মেলনের মূল পর্বের প্রস্তুতি পর্বের নানা আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম দিন সার্কের প্রোগ্রামিং ও পরের দুই দিন স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক শেষে মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে কাঠমান্ডু ঘোষণা চূড়ান্ত হয়। তবে আলোচিত তিনটি চুক্তির ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেননি সচিব ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

চুক্তিগুলো হচ্ছে- সার্ক বিদ্যুৎ সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য সার্ক আঞ্চলিক রেল সহযোগিতা চুক্তি এবং সার্ক পণ্য ও যাত্রীবাহী মোটরযান চলাচল বিষয়ক চুক্তি। কোনোটির বিষয়েই ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি সদস্য দেশগুলো।

সম্মেলন শেষে সন্ধ্যায় সার্ক নেতাদের সম্মানে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা।

সর্বশেষ ১৭তম সার্ক সম্মেলন হয়েছিল মালদ্বীপে ২০১১ সালে। আর ১৮তম সম্মেলনের আগে নেপালে আরও দুইবার ২০০২ সালে অষ্টম এবং ১৯৮৭ সালে তৃতীয় সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

(দ্য রিপোর্ট/সাআ/এমডি/এএল/নভেম্বর ২৬, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সার্ক সম্মেলন এর সর্বশেষ খবর

সার্ক সম্মেলন - এর সব খবর



রে