thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

আশ্বাস-অবকাশে সীমাবদ্ধ সার্ক, সমাপ্তি বিকেলে

২০১৪ নভেম্বর ২৭ ১১:৫৬:৪৪
আশ্বাস-অবকাশে সীমাবদ্ধ সার্ক, সমাপ্তি বিকেলে

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ১৮তম সম্মেলনের যবনিকা পড়তে যাচ্ছে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে।

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ছয় নেতা অবকাশ যাপনের জন্য কাঠমান্ডু থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নেপালের অন্যতম নয়নাভিরাম ধুলিখেলের দাওয়ারিকা রিসোর্ট পৌঁছেছেন।

ফলে কাঠমান্ডু সম্মেলনে কোনো চুক্তিই আর স্বাক্ষরিত হচ্ছে না। শুধু আশার বাণী, ভ্রমণ আর নৈশভোজেই সীমাবদ্ধ থাকল সার্কের ১৮তম সম্মেলন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা আবাসস্থল কাঠমান্ডুর হোটেল ক্রাউন প্লাজা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রথমে ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে যান। সেখান থেকে সাড়ে ১০টার দিকে ধুলিখেলের দাওয়ারিকা রিসোর্ট পৌঁছান।

ধুলিখেলের ‘দাওয়ারিকা রিসোর্ট’ অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিন তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজা পাকসে ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

নেপাল তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, সার্ক শীর্ষ নেতারা ধুলিখেলের দাওয়ারিকা রিসোর্টে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সেখানে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে। তবে সেটা একান্তই ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে।

পরে সেখান থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় অতিথি গৃহে সার্কের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নেতারা। সমাপনী অনুষ্ঠানে সার্কের ‘কাঠমান্ডু ঘোষণা-২০১৪’ প্রকাশ করা হবে এবং পরবর্তী সার্ক সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানের নাম ঘোষণা করা হবে।

পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবনে নেপালের রাষ্ট্রপতি ড. রামবরণ যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। নেপালের রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভোজসভায়ও যোগ দেবেন তারা। এর মাধ্যমেই শেষ হবে ১৮তম সার্ক সম্মেলনের সব আনুষ্ঠানিকতা।

ফলে এবারের সম্মেলনে আলোচিত তিনটি চুক্তির একটিও সম্পন্ন হচ্ছে না। অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এ সম্মেলন। এমনকি পাকিস্তানের জোর দাবি থাকা সত্ত্বেও পর্যবেক্ষক দেশগুলোকে সদস্যপদ দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদে।

অথচ বুধবার সার্কের উদ্বোধনী পর্বে সার্কভুক্ত আটটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই সার্ককে কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এবারের সম্মেলনে চীন, জাপান, মিয়ানমার, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৯টি পর্যবেক্ষণ রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

কাঠমান্ডু সম্মেলনে স্বাক্ষরের জন্য আলোচিত চুক্তিগুলো ছিল— সার্ক বিদ্যুৎ সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য সার্ক আঞ্চলিক রেল সহযোগিতা চুক্তি এবং সার্ক পণ্য ও যাত্রীবাহী মোটরযান চলাচল বিষয়ক চুক্তি। এসব চুক্তির কোনটির বিষয়েই ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি সদস্যদেশগুলো।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেছেন, চুক্তির ব্যাপারে সদস্য দেশগুলো একমত হতে পারেনি। তবে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি জানান, চুক্তি না হলেও দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে।

‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ২২ নভেম্বর শুরু হয় সার্কের প্রস্তুতি পর্ব। চারদিন ধরে চলেছে সার্কের বিভিন্ন ফোরামের বৈঠক। এসব ধারাবাহিকতা শেষ করে বুধবার মূল পর্বে সার্কের আট শীর্ষনেতা আলোচনায় বসেন। সেখানেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হচ্ছে সার্ক সম্মেলন।

(দ্য রিপোর্ট/ সাআ/কেএন/এনআই/নভেম্বর ২৭, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সার্ক সম্মেলন এর সর্বশেষ খবর

সার্ক সম্মেলন - এর সব খবর