thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

ভিক্ষা করে সংসার চালান সাবিত্রী

২০১৪ ডিসেম্বর ০৭ ১৬:১৯:৪৭
ভিক্ষা করে সংসার চালান সাবিত্রী

ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ : দেশের জন্য অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করলেও তার কোনো মূল্যায়ন মেলেনি। বরং অনেকেই ঘৃণার চোখে দেখে একাত্তরে সম্ভ্রম হারানো এই নারীকে। এ সব বাধা উপেক্ষা করে বীরাঙ্গনা সাবিত্রী নায়েক এখনো বেঁচে আছেন। তবে তিনি সংসার চালান ভিক্ষা করে।

সাবিত্রী নায়েক বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর অবশ্য পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। অনেকেই তাকে সমীহ করছেন।

জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা সাবিত্রী দ্য রিপোর্টকে জানান তার দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা। ১৯৭১ সালে পরিবারের সঙ্গে চান্দপুর চা বাগানে থাকতেন ১৫ বছরের কিশোরী সাবিত্রী। চা শ্রমিক মধু নায়েকের ২ মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সাবিত্রী সবার ছোট।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চা বাগানের শ্রমিকরা যখন কয়েক মাইল দূরত্বের সীমানা পাড়ি দিচ্ছিলেন তখন সাবিত্রীর পরিবারের সদস্যরাও ভারত যাত্রার প্রস্তুতি নেয়। তবে তার ভাই অসুস্থ হওয়ায় আর ভারত যাওয়া হয়নি তাদের।

এপ্রিল মাসে চান্দপুর চা বাগানের ফ্যাক্টরিতে ক্যাম্প স্থাপন করে পাকিস্তানী বাহিনী। ক্যাম্প স্থাপনের কয়েকদিন পরই সাবিত্রীদের বাড়িতে হানা দেয় তারা। চা বাগানের ৬ নং বাংলোতে নিয়ে আটকে রাখে তাকে। ওই রাতেই তার ওপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন। বাগানের ক্যাম্পে দু’সপ্তাহ ছিলেন সাবিত্রী। প্রতিদিনই পালাক্রমে পাকসেনারা তাকে পাশবিক নির্যাতন করত।

পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানের একটি বাংলোতে। সেখানে তার সঙ্গে আরেকটি মেয়েকে রাখা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তারা। স্বাধীনতার পর চা বাগানের বাসিন্দারা তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। তারা সাবিত্রীকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

তবে এরপর সাবিত্রীর জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। কেউ তাকে বিয়ে করবে কি না তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েন সাবিত্রীর পরিবারের সদস্যরা।

সেই দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে চান্দপুর বাগানের মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের ১৩ বছরের মাথায় সংসার ভেঙে যায় দুই ছেলের মা সাবিত্রীর। তবে বিপদের সময় তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কেরামত আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দেশের জন্য এতবড় ত্যাগ স্বীকার করলেও দেশের কাছে বেশি কিছু চাওয়ার নেই এই বীরাঙ্গনার।

তার দুই ছেলে বিয়ের পর থেকে আলাদা থাকে। সাবিত্রী থাকেন তার পালিত মেয়ে ও তার স্বামীর সংসারে। মেয়ের স্বামীর দিনমজুরিতে তাদের ৩ জনের সংসার চলে না। তাই ভিক্ষা করেন সাবিত্রী।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সব হারানো সাবিত্রী এরপরও দেশকে ভালোবাসেন। বলেন, সব হারাইছি, তয় দ্যাশটা তো স্বাধীন হইছে। দ্যাশটারে মায়ের মতন ভালোবাসি। তিনবেলা খাইয়া-পইরা বাঁচতে পারলেই চলব।

(দ্য রিপোর্ট/এফসি/কেএন/এনআই/ডিসেম্বর ০৭, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে