thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘রাজাকাররা তোমার বউয়ের সর্বনাশ করেছে’

২০১৪ ডিসেম্বর ১৩ ১৮:৫৫:১৫
‘রাজাকাররা তোমার বউয়ের সর্বনাশ করেছে’

সামেনা খাতুনের জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার দোয়াতবাড়ি গ্রামে। বাবার নাম সামাদ মুন্সী। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে গ্রামের লোকজন প্রাণে বাঁচার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করতে থাকেন। একাত্তরের এই দুর্দিনে সামেনাকে একডালা এলাকায় ফুফুর বাড়িতে রেখে আসেন বাবা সামাদ মুন্সী।

কিন্তু আর্থিক সহায়তার আশ্বাসে ফুফু বাড়ি থেকে সামিনাকে দোয়াতবাড়ি নিয়ে আসেন রাজাকাররা। এর দুইদিন পরেই সামেনার সর্বনাশ করেন রাজাকাররা। সম্ভ্রমহানি করেই ক্ষান্ত হয়নি রাজাকাররা, নানাভাবে অত্যাচার করেছে সামেনার পরিবার সদস্যদের প্রতি, উপহাস করেছে সামেনাকে।

দ্য রিপোর্টকে সামেনা বলেন, ‘জন্ম থেকেই আমরা গরীব। অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলত সংসার। ভেবেছিলাম দুর্দিনে কেউ হয়তো উপকার করবেন, আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। রাজাকারের মিথ্যা আশ্বাসে গ্রামে ফিরে আসি। কিন্তু সবকিছু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছি।’

সামেনার স্বামী কাজ করতেন ঠাকুরগাঁও ইটভাটায়। যুদ্ধ শেষে স্বামী ফিরে আসেন। এরপর জানতে পারেন সামিনার ওপর ঘটে যাওয়া পাশবিকতার কথা। তারপরও নিয়তিকে মেনে নিয়েই দু’জন নতুন করে সংসার শুরু করেন।

এক সময় স্বামী আক্রান্ত হন শ্বাসকষ্ট রোগে। কষ্টের তালিকায় সামেনার জীবনে যোগ হয় আরও একটি কষ্ট।

সামেনা বলেন, “আমার স্বামী যখনই গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে যেতেন তারা আমার প্রসঙ্গ তুলত। এর মাধ্যমে আমার স্বামী অপমানবোধ করত, তারপরও মুখ বুঝে সব অপমান সহ্য করেছেন। গ্রামের লোকজন তাকে বলত— ‘রাজাকাররা তোমার বউয়ের সর্বনাশ করেছে।”

একসময় স্বামীর আশ্রয়ও হারান সামেনা। রোগে ভুগে মারা যান তিনি। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের ওয়াবদা ঢালে বসবাস করেন সামেনা। সঙ্গে আছেন তিন ছেলে। ছেলেরা যার যার আলাদা সংসার নিয়ে ব্যস্ত।

সামেনা জানান, বয়স্ক ভাতা আর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সাফিনা লোহানীর অর্থসহায়তায় কোনোভাবে বেঁচে আছেন তিনি।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/একে/আরকে/ডিসেম্বর ১২, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর