thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

ফুলমতি রাণীর দুঃখগাথা

২০১৪ ডিসেম্বর ১৪ ১৮:১৫:৫৭
ফুলমতি রাণীর দুঃখগাথা

জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ, গাইবান্ধা : বীরাঙ্গনা ফুলমতি রাণী সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে আজ সর্বহারা। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও ফুলমতি রাণী স্বীকৃতি পায়নি বীরাঙ্গনার। ’৭১-এর ক্ষত চিহ্ন বুকে নিয়ে দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে বেঁচে আছেন তিনি।

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া ভূমি অফিসের সামনে রাস্তার পাশে সরকারি খাস জমিতে তার বাড়ি। বাড়ি তো নয়, কয়েকটি টিন, বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি একটি ঘর।

৮৫ বছর বয়সী ফুলমতি রাণী বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। পরিবার নিয়ে প্রায়ই না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

তিনি জানান, যুদ্ধ চলাকালে এক রাতে স্থানীয় একজন বিহারীর সঙ্গে কয়েকজন পাকিস্তানী সেনা তার বাড়িতে প্রবেশ করে। ঘর থেকে টেনে বের করে বাইরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। কয়েকবার পাকিস্তানী সেনারা এ ঘটনা ঘটায়।

তিনি জানান, কেউ খোঁজ করে না তার। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়ায়নি কোনো বিত্তশালী ব্যক্তি কিংবা কোনো সংগঠন। কপালে একবার জুটেছিল দুই বান্ডিল ঢেউটিন আর সম্মাননা পুরস্কার।

ফুলমতি বলেন, ‘১৯৮৮ সালে স্বামী ফশিরাম রবি দাস মারা যাবার পর তিন ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছি। এখন ছেলেদের সংসারে খেয়ে না খেয়ে বোঝা হয়ে আছি।’

বছরের পর বছর ধরে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ফুলমতি রাণী নানা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু আজও বীরাঙ্গনা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি না থাকায় সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।

ফুলমতি রাণীর ছেলে মনিরাজ বলেন, ‘আজও আমার মায়ের স্বীকৃতি হিসেবে বীরাঙ্গনা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এর আগেও কয়েকবার নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু আবেদন করেও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

সাদুল্যাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুর রশীদ আজমী বলেন, ‘বীরাঙ্গনা স্বীকৃতির জন্য তিনি কয়েকবার আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনে আমরাও সুপারিশ করি। কিন্তু আজও তিনি স্বীকৃতি পাননি। আমরা এখন চেষ্টা করছি তাকে তালিকাভুক্ত করার।’

(দ্য রিপোর্ট/জেআরএম/এমসি/সা/ডিসেম্বর ১৪, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর



রে