thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

লাশের পাশেই আমার বোন সন্তান প্রসব করে

২০১৪ ডিসেম্বর ১৫ ১৭:৩২:৩০
লাশের পাশেই আমার বোন সন্তান প্রসব করে

স্বাধীনতা যুদ্ধে সবকিছু হারিয়ে আজ সর্বহারা সূর্য বেগম। এতবছর পরও তিনি স্বীকৃতি পাননি বীরাঙ্গনার। সেই ক্ষত চিহ্ন বুকে নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন সূর্য।

বিজয়ের মাস প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ক্ষেপে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কিসের বিজয়? কার বিজয়? এটা মিথ্যা কথা! আমাকে দেখে কি মনে হয় দেশে বিজয় বলে কিছু আছে? বিজয়ের মাসে যারা আনন্দিত হবার কথা ছিল আজও তাদের মুখে হাসি ফুটেনি।’

সূর্য বেগম জানান, তার জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার নতুন ভাঙাবাড়ি গ্রামে। বাবার নাম বাবর আলী। সংসারে আয় রোজগারের একমাত্র মানুষ তিনিই ছিলেন। বড় পরিবার সামলাতে বাবা রীতিমত হিমসিম খেত। শত অভাবের মাঝেও যখন বড় বোনের সন্তান হওয়ার সংবাদ পায় তার বাবা। তখন খুব খুশি হয়েছিল।

সূর্য বেগম বলেন, ‘তখন স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আমার বোনেরও সন্তান প্রসবের দিন এগিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতি নিয়েই চলেছি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। চারদিকে দেখতে পাই মানুষের লাশ। নদীর কিনারে লাশের পাশেই আমার বোন তার সন্তান প্রসব করে। নবজাতকের এ আগমন আমাদের মধ্যে কী যে ভাল লাগা সৃষ্টি করেছিল তা বোঝানো সম্ভব নয়। কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম দেশে যুদ্ধ চলছে।’

তিনি জানান, যুদ্ধের পরিস্থিতি তখন কিছুটা শান্ত। সূর্যকে বিয়ে দিতে তার বাবা ব্যস্ত হয়ে পড়ে। চারদিকে যেভাবে মা-বোনদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানী সেনারা তাতে তিনি আরও বেশি বিচলিত হয়ে পড়েন। গ্রামের পরিচিত এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয় সূর্যর। বিয়ের একদিন পরেই তার কপালে নেমে আসে অন্ধকার। স্থানীয় রাজাকার বাদশা মিয়া পাকিস্তানী সেনাদের নিয়ে আসে বাড়িতে। ধরে নিয়ে যায় সূর্যকে।

সূর্য বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ওদের (পাকিস্তানী সেনারা) বাবা বলে ডাকলাম হাত জোড় করে মিনতি করলাম কিছুতেই কিছু মানল না। কেড়ে নিল আমার সম্ভ্রম।’

সর্বনাশ করে পাকিস্তানী সেনারা চলে যাওয়ার পর বেঁচে থাকার ইচ্ছাটুকু শেষ হয়ে যায় তার। তারপরও স্বামীর ভালবাসায় বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা জাগে সূর্যর। দেশ স্বাধীন হয়। সূর্যর কোল জুড়ে আসে দুই সন্তান। ৮৮’র বন্যার পর স্বামী মারা যায়। সন্তানদের বড় করার জন্য সূর্য কাজ করতে শুরু করেন। তারপর একসময় সন্তান বড় হয়। তারা তাদের মতো করে চলে। মায়ের খবর নেওয়ার মতো সময় সুযোগ হয় না তাদের। তবুও সন্তানদের প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। তিনি চান সন্তানরা যেন ভাল থাকে।

বর্তমানে ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে বেঁচে আছেন সূর্য বেগম। চিকিৎসা করানোর মতো কোনো অর্থ নেই তার। তাকিয়ে আছেন সরকারের দিকে কবে মিলবে স্বীকৃতি, কবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে সরকার। তিনি জানেন না তার এ তাকিয়ে থাকা পূর্ণতা পাবে কিনা।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এমসি/এইচএসএম/আরকে/ডিসেম্বর ১৫, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর