thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০
মুহম্মদ আকবর

দ্য রিপোর্ট

‘রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে, না হয় বলবে দায় নেই’

২০১৪ ডিসেম্বর ১৭ ১৯:৩২:৫৮
‘রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে, না হয় বলবে দায় নেই’

‘পাকিস্তানী সেনাদের ভয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াতাম। কোনো জায়গায় বেশিদিন থাকতাম না। কিন্তু একসময় স্থানীয় আবুল রাজাকারের প্ররোচনায় ধরা পড়ে যাই পাকিস্তানী সেনাদের হাতে। মানুষরূপী জানোয়ারগুলো আমাকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর...’— কথাটি বলেই থেমে যান বীরাঙ্গনা শামসুন নাহার বেওয়া। ক’ফোটা চোখের জল ফেলে বলেন, ‘বাবারে তুমি আমার নাতির বয়সী। তোমার সামনে নিজের সম্ভ্রম হারানোর কথা বলতে লজ্জা করে।’

১৯৭১-এ যুদ্ধে যায় শামসুন নাহারের স্বামী, তারপর আর ফিরে আসেননি। বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন কোনো কিছুই জানেন না। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জের সদর থানার তেলকুপি গ্রামে জরাজীর্ণ এক ঘরে বসবাস করেন।

শামসুন নাহার বলেন, ‘জীবনের অন্তিম সময়ে এসেছি। হয়ত মৃত্যু কাছাকাছি। আজ সময় এসেছে বলার। হয় রাষ্ট্র আমাদের স্বীকৃতি দেবে, না হয় বলতে হবে আমাদের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো দায় নেই। এত তালবাহানা করার কী আছে?’

তিনি জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার স্বামী কাজ করতেন চন্দ্রঘোনা নদীর মোহনায়। শ্বশুর-শাশুড়িসহ সবাই একসঙ্গে থাকত। যুদ্ধের দিনে প্রতিটি দিন-রাত ভীষণ অস্থিরতায় কাটত তাদের। নিজের পরিবার সম্পর্কে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি নন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষকে কারা বোঝাবে যে আমরা অপরাধী নই, পরিস্থিতির শিকার। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে আমরা পরিস্থিতির শিকার হই। যে দেশ লাখ লাখ নারী-পুরুষের মৃত্যু আর সম্ভ্রমের বিনিময়ে সৃষ্টি হয়েছে, সেই দেশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার ও সম্ভ্রমহারা নারীদের খবর নেয় না কেউ। সে দেশের ভবিষ্যৎ কি হবে?’

এখন সংসার চলে কেমন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো পরিবারের দুশ্চিন্তা তো শুরু হয় জন্ম থেকেই। স্বাধীনতা যুদ্ধে সবকিছু হারিয়ে অর্থাভাবে অনাহারে আর মানুষের উপহাসে বেঁচে থাকা। মৃত্যুই এখন একমাত্র সমাধান।’

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এমসি/এইচএসএম/এনআই/ডিসেম্বর ১৭, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর



রে