thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫,  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বীরাঙ্গনা ছাফাতনের ঠাঁই গুচ্ছগ্রামে

২০১৪ ডিসেম্বর ২২ ০১:৫১:৫০
বীরাঙ্গনা ছাফাতনের ঠাঁই গুচ্ছগ্রামে

জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ, গাইবান্ধা : ভূমিহীন, অসহায় ও দরিদ্রদের আশ্রয়স্থল ‘গুচ্ছগ্রাম’। সেই গুচ্ছগ্রামের ঘরে ঠাঁই খুঁজে পেয়েছেন বীরঙ্গনা ছাফাতন বেওয়া (৮১)। অসহায় ও দরিদ্র ছাফাতন বেওয়া জীবনের শেষ বষয়ে এসে গুচ্ছগ্রামে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন।

ছাফাতন বেওয়া গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামের মৃত শুকনা শেখের স্ত্রী।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছাফাতন বেওয়া বলেন, ১৯৭১ সালে দেশে যুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধের ভয়ে স্বামী বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তখন কোলে মাত্র ২৫ দিন বয়সের ছেলেসন্তান শহর আলী। ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোর মধ্যে একদিন তিন সন্তানসহ খাদ্যের সন্ধানে একই গ্রামের সাহাপাড়ার ব্যবসায়ী বসন্ত সাহার বাড়িতে যান। খাওয়ার সময় হানাদার বাহিনী উপস্থিত হয় ওই বাড়িতে। তারা কোলের শিশুসন্তান শহর আলীকে কোল থেকে তুলে নেয়। একপর্যায়ে পাকবাহিনী শহর আলীকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল পলাক্রমে সম্মানহানি ঘটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে যায় ছাফাতনকে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব থাকার জায়গা তো দূরের কথা, সরকারি সহযোগিতা তেমন পাননি। দুই-এক বান্ডিল ডেউটিন, রিলিফের চাল আর একবার কপালে জুটেছিল স্থানীয়দের সংবর্ধনা। নিজের বলতে কিছুই নেই তার। ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে জয়েনপুর গ্রামে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করতে হতো। স্বামী মারা যাওয়ার পর ওই ঘরে আর থাকা সম্ভব হয়নি। এখন গুচ্ছগ্রামের নিজ ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন।

ছাফাতন বলেন, বর্তমানে অন্যর বাড়ির পাশে পতিত জায়গা থেকে শাকপাতা সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাড়িতে বিক্রি করছেন। শাকপাতা বিক্রি থেকে দৈনিক ৪০-৫০ টাকা আয় হয়। তাই দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয়।

বীরাঙ্গনা ছাফাতন বেওয়ার এখন একটাই দাবি হলো স্বীকৃতি পাওয়া। কয়েকবার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তালিকাভুক্ত হননি।

বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কাউয়ুম হুদা বলেন, ‘ছাফাতনকে ৬ মাস আগে গুচ্ছগ্রামে ঘর দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি বাকি জীবনটা নিশ্চিন্তে কাটাতে পারেন।’

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেছের উদ্দিন বলেন, ছাফাতন বেওয়ার নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এর আগে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। এবারও তালিকা পাঠানো হয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/জেডআর/টিকে/শাহ/ডিসেম্বর ২১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর