thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

চাটমোহর মুক্ত দিবস ২০ ডিসেম্বর

২০১৩ ডিসেম্বর ২০ ১৩:৫১:৫২
চাটমোহর মুক্ত দিবস ২০ ডিসেম্বর

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা : ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষ যখন বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, তখনও চাটমোহরে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা অবস্থান করছিল। চূড়ান্ত বিজয়ের ৪ দিন পর ২০ ডিসেম্বর চাটমোহর হানাদারমুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের মে মাসে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাকবাহিনী পাবনা থেকে চাটমোহরে আসে। হিন্দু অধ্যুষিত ছোট শহর চাটমোহরে চালায় হত্যাযজ্ঞ। আগুন ধরিয়ে দেয় বিভিন্ন স্থানে। তদানীন্তন ন্যাশনাল ব্যাংক চাটমোহর শাখা লুট করে পাকবাহিনী। ব্যাংক ম্যানেজার আবুল কালাম খানসহ দুজন গার্ডকে হত্যা করা হয়। নৃশংসভাবে হত্যা করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী যতীন কুণ্ডু, রঘুনাথ কুণ্ডু, ঝড়ু ঠাকুর ও আশ্বিনী কুণ্ডুকে।

দীর্ঘ ৭ মাস পাক বাহিনী ও তাদের দোসররা এখানে রাজত্ব চালায়। মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরকে পরাজিত করতে থাকে। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধারা চাটমোহরে প্রবেশ করেন। ঘিরে ফেলেন চাটমোহর থানা। পাকবাহিনী শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে থানাকে বেছে নেয়। যুদ্ধ শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। এক পর্যায়ে থানার মধ্য থেকে রাজাকাররা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকে। এ স্লোগান শুনে রামনগর গ্রামের দুই সহোদর মোসলেম ও আবু তালেব ভেবেছিলেন থানা দখল হয়ে গেছে। থানায় ঢুকতেই হানাদারদের ব্রাশফায়ারে তারা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ বাড়িয়ে দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হয় দুর্ধর্ষ পাকহানাদার শের আফগান।

অবশেষে হানাদাররা সাদা পতাকা উড়িয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। দীর্ঘ আলোচনার পর হানাদাররা মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি জেলা কমান্ডারকে জানান। পাবনা জেলা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বকুল (প্রয়াত) মিত্রবাহিনীর পোশাকে চাটমোহরে আসেন। ২০ ডিসেম্বর এ নকল মিত্র বাহিনীর কাছেই পাকহানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। শত্রুমুক্ত হয় চাটমোহর। সেই থেকে ২০ ডিসেম্বর চাটমোহর মুক্ত দিবস হিসেবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও চাটমোহরবাসী পালন করে আসছেন।

(দ্য রিপোর্ট/এসএইচএম/শাহ/এএস/ডিসেম্বর ২০, ২০১৩)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিজয়ের মাস এর সর্বশেষ খবর

বিজয়ের মাস - এর সব খবর