thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

মোহাম্মদ নাসির আলী

২০১৫ জানুয়ারি ১০ ০০:২৯:৫০
মোহাম্মদ নাসির আলী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : শিশুসাহিত্যিক ও প্রকাশক মোহাম্মদ নাসির আলী ১৯১০ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের ধাইদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

নাসির আলীর বাবা হায়দার আলী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। নাসির আলী তেলিরবাগ কালীমোহন-দুর্গামোহন ইনস্টিটিউশন থেকে এন্ট্রান্স (১৯২৬) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম (১৯৩১) পাস করেন। তার পর চাকরির সন্ধানে কলকাতায় যান। ১৯৩৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টে অনুবাদক হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার শিশু বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন (১৯৪৬-৪৮)।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ঢাকায় এসে নাসির আলী হাইকোর্টের চাকরিতে যোগদান করে ১৯৬৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি দৈনিক আজাদের শিশু-কিশোর বিভাগে ‘মুকুলের মহফিল’ পরিচালনা করেন এবং ‘বাগবান’ ছদ্মনামে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্ব পালন করেন। লেখালেখির পাশাপাশি রুচিশীল বই প্রকাশের প্রতিও নাসির আলীর প্রবল আগ্রহ ছিল। ১৯৪৯ সালে বন্ধু আইনুল হক খানের সঙ্গে যৌথভাবে ‘নওরোজ কিতাবিস্তান’ নামে প্রকাশনা সংস্থা গড়ে তোলেন, যা এখনো পুস্তক প্রকাশনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ১৯৬৯ সালে প্রকাশনা সম্পর্কে করাচি থেকে ইউনেস্কো ট্রেনিং গ্রহণ করেন। তিনি ভাল ছবি আঁকতে পারতেন। ফটোগ্রাফিতেও তার প্রশংসনীয় দক্ষতা ছিল।

শিশুতোষ বইয়ের লেখক হিসেবেই নাসির আলী বেশী পরিচিত। তবে তিনি অনেক শিক্ষামূলক গল্প, প্রবন্ধ ও জীবনী লিখেছেন। হাস্যরস সৃষ্টিতে তিনি যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- আমাদের কায়েদে আজম (১৯৪৮), মণিকণিকা (১৯৪৯), শাহী দিনের কাহিনী (১৯৪৯), ছোটদের ওমর ফারুক (১৯৫১), আকাশ যারা করলো জয় (১৯৫৭), আলী বাবা (১৯৫৮), টলস্টয়ের সেরা গল্প (১৯৬৩, ২য় সংস্করণ), ইতালীর জনক গ্যারিবল্ডি (১৯৬৩), বীরবলের খোশ গল্প (১৯৬৪), সাত পাঁচ গল্প (১৯৬৫), বোকা বকাই (১৯৬৬), যোগাযোগ (১৯৬৮), লেবু মামার সপ্তকাণ্ড (১৯৬৮), আলবার্ট আইনস্টাইন (১৯৭৬), মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা (১৯৭৬) ইত্যাদি।

শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নাসির আলী বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত হন। তিনি ১৯৬৭ সালে শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে ইউনেস্কো এবং একই বছর ইউনাইটেড ব্যাংক অব পাকিস্তান পুরস্কার লাভ করেন। বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৭৮ সালে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও ১৯৮৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাকে স্বর্ণপদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করে।

মোহাম্মদ নাসির আলী ১৯৭৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় মারা যান।

সুত্র : ইন্টারনেট

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএস/এজেড/জানুয়ারি ১০, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর