thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

দেড়শ’র টিকেট আটশ’ টাকায়

২০১৫ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৮:২৮:২৫
দেড়শ’র টিকেট আটশ’ টাকায়

নাজমুল সাঈদ, দ্য রিপোর্ট প্রতিদেক : বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের টিকেট ৫ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চড়াদামে টিকেট বিক্রি হলেও তাদের নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা গেছে। এই অবৈধ টিকেট বিক্রির চক্রে খোদ ফুটবল ফেডারেশন ও ক্রীড়া পরিষদের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের যোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রবিবার বিকেলে ম্যাচ শুরুর আগে সরেজমিন দেখা গেছে, হাতে টিকেট নিয়ে কালোবাজারিরা বিক্রি করছেন। চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দাম কষাকষি। আর পাশেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

দু’একজনকে আটক করলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের। আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে সুপারিশ করছেন ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারাই। এ ব্যাপারে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক ওবায়দুর জানিয়েছেন— না, কেউ সুপারিশ করেনি। তবে রানা নামে এক ব্ল্যাকারকে আটক করা হয়েছিল। পরে তার কাছে থাকা টিকেটগুলো নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

রানা ছাড়া পেলেও জব্দ করা টিকেটগুলো পেতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বাফুফের কর্মকর্তা জামাল। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেছ্নে তিনি। দ্য রিপোর্টকে জামাল বলেছেন, ‘আমি কাউকে ছেড়ে দিতে বা টিকেট ফেরত পেতে সুপারিশ করেনি। আমার একটা টিকেট দরকার ছিল, তাই উনার (পুলিশ) সঙ্গে কথা বলছিলাম।’

এসআই ওবায়দুর দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘আমারা যাকে (ব্ল্যাকার) পাচ্ছি, তাদের আটক করছি। তবে তাদের কাছে থাকা টিকেটগুলো জব্দ করে ছেড়ে দিচ্ছি।’ এ পর্যন্ত দু’জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অদূরেই আবদুল কাদের গলায় এ্যাক্রিডিটেশন ও পুলিশের বিশেষ শাখার ইস্যুকৃত পাস গলায় ঝুলিয়ে তিন নাম্বার গেটের সামনে অবৈধ টিকেট বিক্রি করছেন। দাম জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানালেন, সাধারণ গ্যালারি লাগবে ৩০০ টাকা (যার মূল্য ৮০) এবং ভিআইভি গ্যালারিতে লাগবে ৮০০ টাকা (যার মূল্য ১৫০)।

ক্রীড়া পরিষদে চাকরি করে এই অবৈধ কাজ করা ঠিক হচ্ছে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘কী করব ভাই, অল্প আয়ের মানুষ। দু’একটি টিকেট বিক্রি করে কয়টা টাকা বাড়তি আয় করছি।’

তবে সবার কাছে টিকেটের দাম এক নয়, কারো কারো কাছে একটু কম দামে ব্ল্যাকের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে।

অজিত কুমার টিকেট বিক্রি করছেন সাধারণ ২৫০ টাকা এবং ভিআইভি ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায়।

এত টিকেট কোথায় পেয়েছেন জানাতে চাইলে অজিত দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন, ‘এই টিকেটগুলো আমরাও বেশি দামে কিনে এনেছি। কয়েক টাকা লাভ করে ছেড়ে দিচ্ছি।’

স্টেডিয়ামের পাশে মহিলা ব্ল্যাকারদেরও টিকেট বিক্রি করতে দেখা গেছে। মরিয়ম নামে এক মহিলা দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘কয়টা টাকার জন্য এই কাম করি। এটা দোষের কিছু না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক পুলিশ কর্মকর্তা দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘বাইরে যেসব টিকেট বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর জন্য ফুটবল ফেডারেশনের কিছু অসাধু কর্মরকর্তা দায়ী তারা নিজেদের লোকের কাছে এক হাজার-দেড় হাজার টিকেট বিক্রি করেছে। এখন সেসব টিকেট কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে দায়িত্বরত পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘অবৈধ টিকেট বিক্রেতাদের দেখলে তাৎক্ষণিক আটক করছি। তবে তারা কিভাবে এবং কোথা থেকে টিকেটগুলো পায়, তা ফুটবল ফেডারেশনের লোকজন বলতে পারবেন।’

( দ্য রিপোর্ট/এনএস/সিজি/শাহ/ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ফুটবল এর সর্বশেষ খবর

ফুটবল - এর সব খবর