thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও পটভূমি বিশ্বে তুলে ধরা উচিত’

২০১৫ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৩:৫৫:৫৩
‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও পটভূমি বিশ্বে তুলে ধরা উচিত’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ‘মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও পটভূমি বিশ্বে তুলে ধরা উচিত’ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘ইউনেস্কো আন্তর্জাতিকভাবে বাংলা ভাষাকে মর্যাদা দিয়েছে। বিশ্বের ১৬৩ দেশে এখন ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছে। তাই বিশ্বের সব দেশে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও পটভূমি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা উচিত।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। যাদের নিজস্ব ভাষা আছে। বাংলা ভাষা বিলুপ্তির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে এ সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা বিলুপ্তির আশঙ্কা থাকে। তাই তাদের ভাষা সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

ভাষা আন্দোলনে শহীদ পরিবাররের সদস্যদেরও একুশে পদক দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ভাষাসৈনিক অধ্যাপক আব্দুল গফুর বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল্যবোধের ভিত্তিতে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে তারা যে গণতান্ত্রিক তা প্রমাণ হয় না। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে (খালেদা জিয়া) খাদ্য ও পানীয় বন্ধ করে গণতন্ত্রের নমুনা প্রদর্শন করেছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে সঙ্কট তৈরি হয়েছে।’ অবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে এ সঙ্কট দূর করার আহ্বান জানান এ ভাষাসৈনিক।

ঢাবির সাবেক ভিসি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে নয়। দেশের মিডিয়ায় বলা হয়-সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। কীভাবে সমাধান হবে? বলা হয় আগে সন্ত্রাস দমন করতে হবে। পেট্রোলবোমা মারছে এটা সন্ত্রাস। কিন্তু পুলিশ ও অন্যান্য আইনশ্খৃলা বাহিনীর সদস্যরা যে গুলি করে মারছে, ক্রসফায়ার দিচ্ছে এটা কী সন্ত্রাস নয়? সঙ্কট তৈরি হয়েছে ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন-অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে। এ সমস্যা রাজনৈতিক। তাই রাজনৈতিকভাবেই চলমান সঙ্কটের সমাধান হওয়া উচিত।’

সভাপতির বক্তব্যে বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, ‘একুশের চেতনা-গণতন্ত্রের চেতনা। যে ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে সে ভাষায় কথা বলার অধিকার আজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভাষা আন্দোলনের খণ্ডিত অংশ তুলে ধরা হয়।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএফইউজের মহাসচিব এমএ আজিজ, ডিইউজের (একাংশের) সভাপতি আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ।

দিনব্যাপী মহান ভাষা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতার পাশাপাশি চলে গান ও কবিতা আবৃত্তি। শিল্পী রিজিয়া পারভীন, পলাশসহ জাসাসের শিল্পীরা এতে দেশত্ববোধক গান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া ছড়াকার আবু সালেহসহ অন্যান্য কবি ও ছড়াকার কবিতা ও ছড়া পরিবেশন করেন।

(দ্য রিপোর্ট/কেএ/এনডিএস/ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

আ মরি বাংলা ভাষা এর সর্বশেষ খবর

আ মরি বাংলা ভাষা - এর সব খবর