thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বন্যরা বনে সুন্দর ভারতীয়রা টাইগারদের পেটে

২০১৫ মার্চ ১৬ ১৯:১৭:০৬
বন্যরা বনে সুন্দর ভারতীয়রা টাইগারদের পেটে

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৫-এর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশের এই বিশাল সফলতাকে অনেকেই প্রশংসা করতে পারছেন না বা ছলেবলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করছেন। ক্রিকেটের জন্য এটা একটা কলঙ্কজনক নজির।

রমিজ রাজা বা বাসিত আলীদের বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অকারণ কটাক্ষ করা, প্রতিপক্ষ না হয়েও তৃতীয় পক্ষের অবস্থানে অর্থাৎ কমেন্টি বক্সে বসে বাংলাদেশীদের ভাল খেলাকে তাচ্ছিল্য করার মতো হীনমন্যতা অন্ধ বাংলাদেশী বিদ্বেষ ছাড়া কিছুই নয়। রমিজ একজন খাঁটি পাকিস্তানী। এ কারণে বাংলাদেশের উপযুক্ত প্রশংসা না করে তাচ্ছিল্য করার মতো বিদ্বেষের উৎস হয়তোবা ’৭১-এর সেই গ্লানিকর পরাজয়। রমিজ রাজার এই হীনমন্যতাকে আমরা ধিক্কার জানাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রতিপক্ষ সমর্থকগণ পরস্পরকে ঘায়েল করার জন্য বাক্যবান প্রয়োগ করতেই পারে। বাংলাদেশর প্রতিপক্ষ যখন ভারত তখন ভারতীয়দের থেকে যে সব বাংলাদেশী সমর্থন প্রত্যাশা করে, তারা বাংলাদেশের সমর্থক হিসেবে অপূর্ণ। প্রতিপক্ষের অনুগ্রহ কামনা প্রকৃতপক্ষে নিজের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। প্রতিপক্ষ তো তার দেশই সমর্থন করবে; অশালীন বা অনাকাঙ্ক্ষিত পথে বা ভাষায় না করলেই হল।

আমরা যেমন বলতে পারি, কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের দম্ভ এবার ধুলোয় মিশিয়ে দেবে টাইগাররা। চ্যাম্পিয়ন ভারতের চোখে সর্ষে ফুল ফুটিয়ে ছাড়ব। ভারতের ক্রিকেটকে তছনছ করে টাইগাররা এবার বিজয় ছিনিয়ে আনবে। অপরদিকে, ভারতের সমর্থক প্রসেনজিতরা ভারতের সমর্থনে বলতেই পারে ভারত এবার টাইগারদের বিড়াল বানিয়ে ছাড়বে। টাইগাররা ইংল্যান্ডকে দেখেছে কিন্তু ভারতকে দেখেনি। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্ষগণ পরস্পর এ ধরনের আক্রমণাত্মক বা রসাক্রমণাত্মক উক্তি করেই থাকে। এই উক্তি দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, প্রসেনজিত বাংলাদেশকে যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে না করলে এ ধরনের আক্রমণাত্মক উক্তি করা যায় না। প্রসেনজিতের এই উক্তিতে যারা ক্ষুণ্ন হয়েছেন তারা প্রতিপক্ষের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থী। প্রতিপক্ষের কাছে অনুগ্রহ আশা করা অতি লজ্জা ও অসম্মানের। যোগ্যতা দিয়েই প্রতিক্ষকে মোকাবেলা করতে হয়। বাংলাদেশীরা সম্মানিত জাতি। প্রতিপক্ষের অনুগ্রহ আমাদের কাম্য নয়। বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য প্রতিপক্ষ সমর্থকদের অনুগ্রহ কেন লাগবে? প্রতিপক্ষ সমর্থকরা বাংলদেশকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেই মূল্যায়ন করবে এবং দুটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মধ্য বাকযুদ্ধ হবে, এটাইতো স্বাভাবিক। ভারতীয় সমর্থক প্রসেনজিতের উক্তির জবাব উপযুক্ত উক্তি দিয়েই টাইগারদের সমর্থক হিসেবে আমরা দিব, কিন্তু প্রসেনজিতকে এই ধরনের উক্তি থেকে বিরত থাকতে কেন বলব? আমরা কি দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে অক্ষম?

প্রসেনজিতরা টাইগারদের আধমরা করার কথা বলবে, বাঘকে বিড়াল বানিয়ে মেও মেও ডাক শিখিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করবে, একেবারে তুলোধুনা করে ভারতের সঙ্গে খেলতে যাওয়ার সাধ মিটিয়ে দেওয়ার কথাও বলতে পারে।

আমরাও বলতে পারি, টাইগাররা এবার ভারতকে ডাঙ্গুলি দল বানিয়ে ছাড়বে, শিখিয়ে দিবে ক্রিকেট কাকে বলে। বলতে পারি, টাইগারদের হুঙ্কারে এবার ভারতকে জার্সি খুলে মাথা হেঁট করে স্টেডিয়াম ত্যাগ করতে হবে। মনে নেই ২০০৭ সালে এই টাইগারদের হাতে ধরাশায়ী হয়েই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছিলে? মাইক্রোসফট ধোনি, তুমি ঘুঘু দেখেছো কিন্তু বাংলাদেশীদের দেখ নাই। বন্যরা বনে সুন্দর ভারতীয়রা টাইগারের পেটে।

এ সব শালীন বাকযুদ্ধের মাঝেও আনন্দ নিহিত আছে। এটাও খেলার অংশ। এই অংশকে যারা মানতে পারে না তাদের রক্তে মৌলবাদীত্বের গন্ধ আছে। মৌলবাদীরা (যে কোনো বিষয়ে গোঁড়া) প্রতিপক্ষের বক্তব্যের জবাব দিতে না পেরে তাদের মুখ চিরদিনের জন্যে বন্ধ করে দিতে চায়।

অনেক বাঙালী নিরপেক্ষ হতে চায়। বাংলাদেশ যেখানে একটি পক্ষ হিসেবে উপস্থিত সেখানে সরাসরি বাংলাদেশকে সমর্থন না করে যারা নিরপেক্ষ হতে চায় তাদের প্রতি বাঙালীর পক্ষ থেকে রইল চরম ধিক্কার আর বিরূপ করুণা। তারা বাংলাদেশের নয়, হতে পারে না। তারা দো-এচলা শঙ্কর।

অনুরূপভাবে ভারত যেখানে একটি পক্ষ হিসেবে উপস্থিত সেখানে কোনো ভারতীয় সরাসরি ভারতকে সমর্থন না করে যদি নিরপেক্ষ হতে চায় তাহলে ভারতীয়দের পক্ষ থেকে তার প্রতি চরম ধিক্কার প্রকাশিত হবে। ভারতীয়দের চোখে তারাও ‘ক্রসড ভ্রুণ’ হিসেবে খ্যাত হবে।

মনে রাখতে হবে, কমেন্ট্রি বক্স কিন্তু কোনো দেশের নয়, সকলের। একটি মানুষের কমেন্ট্রি বক্সের বক্তব্য সকলের জন্যে কিন্তু দেশের সমর্থন সকলের জন্যে নয়, সেটি একান্তই তার দেশের জন্যে। আমি বাংলাদেশের সমর্থক হিসেবে বলতেই পারি ভারতকে চরমভাবে পরাজিত করে বাংলাদেশ বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে এবং আমি, তাই চাই। বাংলাদেশের কাছে ভারত একটা উচিত শিক্ষা পাক। কিন্তু কমেন্ট্রি বক্সে বসে এই কথাগুলো বলা অনাকাঙ্ক্ষিত।

১৯ তারিখে ভারতীয়রা টাইগার শিকারে নামবে আর বাংলাদেশীরা ভারতকে টুর্নামেন্ট ছাড়া করতে ধেয়ে আসবে; জবার দেবে ২২ গজ। এখন কেবল অপেক্ষা।

লেখক : সাহিত্যিক ও কলাম লেখক

(দ্য রিপোর্ট/এফএইচ/জেডটি/মার্চ ১৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর