thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫,  ৮ মহররম ১৪৪০

জট খুলতে ব্যর্থ সংসদ

২০১৪ জানুয়ারি ০১ ০৩:৫৩:৫১
জট খুলতে ব্যর্থ সংসদ

রাজু হামিদ, দ্য রিপোর্ট : বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের চলমান রেষারেষির সূত্রপাত হয়েছিল জাতীয় সংসদে আসন বিন্যাস নিয়ে। পাঁচ বছরে এর সঙ্গে আরও অনেক দাবি যুক্ত হয়ে সহিংস আন্দোলন গড়িয়েছে রাজপথে। ৪১৮ কার্য দিবসের দীর্ঘ অধিবেশনেও দুই দলের সমস্যার জট খুলতে পারেনি স্পিকার।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে ‘সংসদ কার্যকর রাখার’ ঘোষণা দিলেও গোটা পাঁচ বছরে বিএনপির কোনো ভূমিকাই ছিল না। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই পাস করা হয় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিল। দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না ক্ষমতাসীনদের মাঝেও।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য মতে, বিভিন্ন দাবিতে প্রধান বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ৩৪২ কার্যদিবস সংসদের বাইরে ছিলেন। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনুপস্থিত ছিলেন ৪০৮ দিন। যে ১০ দিন তিনি উপস্থিত ছিলেন তখন মোট ৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

সর্বোচ্চ কার্যদিবসের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি সংসদে প্রথমবারের মতো স্পিকার পদে ‘একজন নারীকে’ নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংসদ উপনেতা ও হুইপ পদেও দুইজন নারীকে মনোনীত করা হয়। সংরক্ষিত আসনের সদস্য সংখ্যা ৪৫ থেকে উন্নীত করে ৫০ জন করা হয়েছে। ২৭১টি আইন পাস করে অতীতের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে বেসরকারি তিনটি বিল ছিল।

নবম জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি, যা শেষ হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর ১৯তম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে। তবে আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সংসদ বহাল থাকবে। দেশে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির উদ্বেগ ঘটলে রাষ্ট্রপতি ফের অধিবেশন ডাকতে পারবেন।

বিরোধী জোটের সংসদ বর্জন শুরু হয় সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিন থেকেই। আসন বিন্যাস নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পাঁচ বছরে এ দাবির সঙ্গে আরও অনেক দাবিই যুক্ত হয়। বিরোধী জোটের সবশেষ দাবি হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল।

বিএনপির দাবি, গত ৫ বছরে তাদের কোনো দাবিই পূরণ হয়নি। সাবেক স্পিকার (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও ছিল না।

নবম জাতীয় সংসদেই সংশোধন করা হয় সংবিধানের বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনী। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে যায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি। এ ছাড়া মাত্র চার মিনিটে ৪০০ বছরের পুরনো ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তি, দুদক বিল, সন্ত্রাস দমন বিল, গ্রামীণ ব্যাংক বিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, শ্রম আইন, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিল, ডিমিউচুয়ালাইজেশন বিল, আরপিও সংশোধন, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল দায় মুক্তি বিল, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বিল, কোম্পানি আইন, তথ্য অধিকার আইন, নিরাপদ খাদ্য বিল, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়।

সংসদের পাঁচ বছর মূল্যায়ন করে সংসদীয় রাজনীতির গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, অতীতের মতো একই চিত্র ছিল এবারের অধিবেশনগুলোতে। সংসদে সরকারি দলের প্রধানতম কাজ ছিল বিরোধী দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করে সংসদ কার্যকর করে তোলা। একইভাবে বিরোধী দলের উচিত ছিল জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অধিবেশনে নিয়মিত যোগ দেওয়া। কিন্তু তা হয়নি, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

তার ভাষায়- গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত ঐকমত্য। কিছু নিজস্ব সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে দুই দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে কখনো যূথবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়নি।

(দ্য রিপোর্ট/আরএইচ/সা/শাহ/জানুয়ারি ০১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে