thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫,  ৭ মহররম ১৪৪০

বছরজুড়েই দৃষ্টি ছিল সুপ্রিমকোর্টের দিকে

২০১৪ জানুয়ারি ০১ ০৬:৪৯:৫৭
বছরজুড়েই দৃষ্টি ছিল সুপ্রিমকোর্টের দিকে

দিনমজুর থেকে রাষ্ট্রপতি সবাই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের ওপর নির্ভরশীল তাদের অধিকার রক্ষা ও উপদেশের জন্য। এ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন তৈরি, সংশোধন ও মামলার রায় ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বছরজুড়েই সুপ্রিমকোর্টের ওপর মানুষের দৃষ্টি ছিল।

যুদ্ধাপরাধ আইন সংশোধন :

কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মের চাপের মুখে ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধিত) আইন-২০১৩ উত্থাপন করা হয়। ওই রাতেই আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রিপোর্ট চূড়ান্ত করে।

এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামি উভয়পক্ষের আপিল করার সুযোগ রেখে সংশোধিত আইনটি সংসদে পাস করা হয়। বিতর্ক শুরু হয় কোনো মামলায় রায় ঘোষণার পর আইন সংশোধন করা যুক্তিসঙ্গত কিনা, তা নিয়ে। বিষয়টি আপিল বিভাগ নিজেই অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, রায় ঘোষণার পরও সংশোধিত আইন প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩ এর আগেও দুই দফা সংশোধন করা হয়।

প্রথম নারী বিচারপতি :

দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে নাজমুন আরা সুলতানা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে নিয়োগ পান। একই সঙ্গে ১ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের দ্বিতীয় বেঞ্চে তার নেতৃত্বে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর মাধ্যমে প্রথম কোনো নারী বিচারপতিকে প্রধান করে আপিল বিভাগে কোনো বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে নাজমুন আরা সুলতানা আইন ও বিএসসি পাস করে ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে ময়মনসিংহ জজ আদালতে আইনজীবী পেশায় প্রবেশ করেন। অতঃপর ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর জুডিসিয়াল সার্ভিস কামিশনে মুনসিফ হিসেবে যোগদান ও ১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা জজ ও সেশন জজ পদে উন্নীত হন।

২০০০ সালের ২৮ মে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি ও ২০০২ সালের ২৮ মে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। বাংলাদেশের প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগে ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি উন্নীত হন তিনি।

নাজমুন আরা সুলতানা বাংলাদেশ নারী বিচারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক নারী বিচারক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলহত্যা মামলায় আপিলের রায় ঘোষণা :

জাতীয় চার নেতা হত্যা (জেলহত্যা) মামলায় ৩০ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।

জেলহত্যা মামলায় দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে নিম্ম আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখে। যদিও এ দুইজন হাইকোর্টে আপিলের পর খালাস পেয়েছিলেন। আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে যায়।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয়।

জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা :

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় প্রদান করে হাইকোর্ট।

১ আগস্ট হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এ রায় দেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অংশ নেওয়া জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পর ৭ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দলটির নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতকে রাজনৈাতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। এই নিবন্ধনকে চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন একটি রিট আবেদন করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রায় দেয়।

কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর :

২০১৩ সালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি ও তা কার্যকরের বিষয়টি। ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।

এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

৫ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রায় কার্যকর কবে, কখন, কিভাবে হবে তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। এরপর ৮ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠায় ট্রাইব্যুনাল-২।

১০ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সূচি ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত রাত সোয়া ১০টার দিকে রায় কার্যকর স্থগিত করেন। দুই দিন শুনানির পর ১২ ডিসেম্বর রায় রিভিউ গ্রহণের আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

তবে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১২ ডিসেম্বর রাত ১০টা ১ মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

(দ্য রিপোর্ট/এসএ/এসবি/শাহ/জানুয়ারি ০১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে