thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫,  ১২ মহররম ১৪৪০

‘সামনে ভাল কিছুই অপেক্ষা করছে’

২০১৫ মার্চ ২৩ ২২:৫৯:৪২
‘সামনে ভাল কিছুই অপেক্ষা করছে’

রবিউল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়ার। আকাশ ছোঁয়ার এক ধাপ পেরিয়েছেন বাংলাদেশের তারুণ্যদীপ্ত ক্রিকেটের নতুন সেনসেশন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৯টি উইকেট নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের সেরা বোলার। লক্ষ্য পর্বতশৃঙ্গ ছুঁয়ে দেখার। বাড়ছে আত্মবিশ্বাস। বিশ্বাসের ডাল-পালা বাড়ছে অবিরত। হয়তো আগামী বিশ্বকাপেই হতে পারে বিস্ময়-জাগানিয়া তেমন কিছু। রবিবার দেশে ফিরে সোমবার দুপুরেই দ্য রিপোর্টকে দিয়েছেন একান্ত সাক্ষাৎকার। সেখানে বলেছেন, বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা আর স্বপ্নের অলি-গলি রাজপথের কথা। তার বিশ্বাস, সামনে ভাল কিছুই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আপনি কি সন্তুষ্ট?

তাসকিন : যা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছি এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পেরেছি। এ এক অসাধারণ ঘটনা। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে সেমিফাইনাল-ফাইনাল খেলব ইনশাল্লাহ। এটা হতে পারে সামনের বিশ্বকাপ কিংবা তার পরের বিশ্বকাপেই।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে সেরা দশে থাকার স্বপ্ন ছিল; পূরণ না হওয়ায়; হতাশ কীনা?

তাসকিন : সেরা দশে থাকার চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু হয়নি। এর চেয়ে ভাল বোলিং আমার পক্ষে করা সম্ভব ছিল। তবে আমি চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্যের সহায়তা পাইনি। তবে যা হয়েছে ভালই হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভাল করার চেষ্টা করব। এখন আমার একটাই কাজ; যে সব জায়গায় ত্রুটি আছে সেগুলো বের করে শুধরে নেওয়া। আন্তর্জাতিক লেভেলটা অনেক কঠিন। সেখানে অনেক হার্ডওয়ার্ক করতে হয়। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে খেলতে হয়।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট পেয়েছেন এটা কেমন এনজয় করছেন?

তাসকিন : আসলে ভাবতে ভাল লাগছে, আমি দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও ভাল খেলার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি এখান থেকে। আমার টিমমেটরা আমাকে খুব সাহায্য করেছেন। কোচিং স্টাফরা সাহায্য করেছেন। সিনিয়র ক্রিকেটার যারা আছেন; তারাও উৎসাহিত করেছেন। বিশেষ করে মাশরাফি ভাই। সবমিলিয়ে খুব এনজয় করছি।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপের প্রথম ডেলিভারিটার সময় মনের অনুভূতি কেমন ছিল?

তাসকিন : বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় আমার ২ চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে গড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের সবাই দেখছে; বিশ্বকাপে বাংলাদেশর হয়ে খেলছি। এ এক অন্যরকম অনুভূতি।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে প্রথম উইকেট পাওয়ার আনন্দ কিভাবে উদযাপন করেছেন?

তাসকিন : ওটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সবাই চায় বিশ্বকাপের মতো আসরে অনন্য কিছু করতে। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি, আমি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সবগুলো ম্যাচে খেলতে পেরেছি। সেই সঙ্গে উইকেটও পেয়েছি। প্রত্যেকটা উইকেটই আমার জন্য বিশেষ কিছু।

প্রশ্ন : রোহিত শর্মার উইকেটটা নেওয়ার পর কেমন লেগেছে?

তাসকিন : ভারতের সঙ্গে ৩টি উইকেট পেয়েছি। ওরা সবাই ভাল ব্যাটসম্যান। ওই সময় ইয়র্কার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এবং তাতেই সাফল্য পেয়েছি। শুধু ওই উইকেটটা নয়; সবগুলো উইকেটই ভাল ছিল।

প্রশ্ন : ভারতের সঙ্গে ম্যাচে মাশরাফি আপনাকে বেশ উত্তেজিতভাবে কিছু বলছিল; কি বলছিল?

তাসকিন : আমি স্লগ ওভারে ইয়র্কার ভাল করতে পারি। কিন্তু ইয়র্কার না দিয়ে আমি শর্ট বল কিংবা স্লোয়ার দিচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি ইয়র্কার দিয়েই সফল হয়েছি। এটাই মাশরাফি ভাই জোড়ে বলছিলেন। আসলে আমার সঙ্গে মাশরাফি ভাইয়ের যেমন সম্পর্ক তাতে করে তিনি এমনভাবে বলতেই পারেন। উইকেট পাওয়ার পর মাশরাফি ভাই বলেছেন আমি এ জন্যই বলেছিলাম ইয়র্কার কর।

প্রশ্ন : ভারত ম্যাচের আগে কি ছিল আপনার প্ল্যান?

তাসকিন: আমরা প্রত্যেক ম্যাচের আগের খেলোয়াড়ের উপর ভিডিও বিশ্লেষণ দেখতাম। আমরা জানতাম কার কোথায় দুর্বলতা। আমরা সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ীই বোলিং করেছি। ধোনিকেও তার দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনে আউট করেছি।

প্রশ্ন : এই বিশ্বকাপে কোচিং স্টাফদের কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?

তাসকিন : তারা সবাই খুব সাহায্য করেছেন। আমার ফিল্ডিংয়ে বেশ সমস্যা ছিল। হ্যালস্যাল খুব ভালভাবেই সমাধান দিয়েছেন। আমার ফিল্ডিংয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। এ ছাড়া হিথস্ট্রিক ও হাথুরুসিংহে অনেক সাহায্য করেছেন। দলের সবচেয়ে জুনিয়র খেলোয়াড় আমি। তাই তো আমারপ্রতি সবার একটু আলাদা নজর ছিল। সবাই কোনো ভুল করলে শাসনও করে; আবার ভাল কিছু করলে আদরও করে।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ চলাকালে ভাল-মন্দ নিয়ে মাশরাফির সঙ্গে কথা হতো?

তাসকিন : অবশ্যই। ম্যাচ শেষে হোটেলে ফিরে আমি আগে খোঁজ নিতাম মাশরাফি ভাই ফ্রি আছে কিনা। সুযোগ থাকলেই রুমে গিয়ে কথা বলতাম ম্যাচ নিয়ে। জানতে চাইতাম ম্যাচে কেমন বোলিং হয়েছে। মাশরাফি ভাই ভুলগুলো ধরিয়ে দিতেন। কিংবা বলতেন এটা খুব ভাল হয়েছে।

প্রশ্ন: রোহিতের উইকেটের পর সেলিব্রেশনটা এভাবে কেন?

তাসকিন : আসলে এটা ছিল ভিন্ন ধরনের এক্সসাইটমেন্টের বহির্প্রকাশ। এর আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও আমি এটা করেছিলাম। হুট করেই মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে রোহিতের উইকেটের উদযাপনটা ওভাবে করেছি। মজার বিষয় হল দ্বিতীয় বার করতে গিয়ে পড়ে গেছি। অবশ্য ২ জন পরে যাওয়ায় মনে হয়েছে এটা অন্যরকম সেলিব্রেশন।

প্রশ্ন : মাশরাফি আপনার আইডল; তাকে পাশে রেখে বিশ্বকাপে বল করার অনুভূতিটা কেমন ছিল?

তাসকিন : মাশরাফি বড় ভাই, খেলোয়াড়, ব্যক্তি- সব দিক থেকেই একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাকে আমি খেলোয়াড় এবং বড় ভাই হিসেবে খুব পছন্দ করি। আমি অনেক খুশি; তার মতো একজনের সঙ্গে খেলতে পেরে। আমি চাই মাশরাফি ভাই আরও অনেক দিন খেলুক। তিনি যতদিন খেলবেন; আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু অর্জন করতে পারব। তার অভিজ্ঞতা, তার ব্যক্তিত্ব তার সব কিছুই আমি অর্জন করতে চাই।

প্রশ্ন : এই বিশ্বকাপটাই হয়তো মাশরাফির শেষ বিশ্বকাপ; এ ক্ষেত্রে তার জায়গায় আপনাকে অনেক ভাবছে। এই চ্যালেঞ্জ নিতে কতটুকু প্রস্তুত?

তাসকিন : আমি সব সময় চেষ্টা করছি নিজেকে আরও ভালভাবে তৈরি করতে। মাশরাফি ভাই যতদিন খেলবেন; তার কাছ থেকে আমি আরও অনেক কিছু শিখতে পারব। মাশরাফি ভাইয়ের মতো মানুষ হতে চাই। ভবিষ্যৎ তো আর বলা যায় না। আমি আমার দিক থেকে পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশ দলকে কিছু দিতে চাই। অবশ্যই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। এই চ্যালেঞ্জটা মাশরাফি ভাই থাকাকালীনও থাকবে। আর মাশরাফি ভাইকে বলব যতদিন সম্ভব বাংলাদেশের হয়ে খেলে যাবার।

প্রশ্ন : বড় বড় বোলারদের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করছেন?

তাসকিন : না। আসলে আমারা খুব ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। দেখা হওয়ার সুযোগ খুব একটা ছিল না। আর আমাদের দলেই বিশ্বমানের পেসার আছে; আমাদের মাশরাফি ভাই। পুরো বিশ্বকাপেই আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। শুধু আমি না। আমরা সবাই শিখতে পেরেছি।’

প্রশ্ন : বিমানবন্দরে ‘ম্যারি মি তাসকিন’ এমন সব প্ল্যাকার্ড ছিল; কিছু বলবেন?

তাসকিন : (হাসি) এটা নিয়ে কী বলব। তবে একটা কথা বলতে পারি, ভক্তরা আছে বলেই কিন্তু আমরা ক্রিকেটার হতে পেরেছি। তাদের সাপোর্ট সব সময় প্রত্যাশা করি। তারা যেন ক্রিকেটের পাশে সব সময় থাকেন।

প্রশ্ন : বিশ্বমঞ্চের তারকা এখন এর অনুভূতিটা কেমন?

তাসকিন : অবশ্যই ভিন্ন অনুভূতি। আগে দেশের মানুষ চিনত। এখন বিশ্বের অনেকেই চিনেন। পাকিস্তান-ভারত-শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়ার অনেকেই অটোগ্রাফ নিয়েছেন। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এক কথায় অসাধারণ।

প্রশ্ন : প্রবাসী সমর্থকদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?

তাসকিন : আমরা ক্যানবেরায় যখন আফগানিস্তানের সঙ্গে মাঠে নেমেছি, আমাদের তখন মনে হয়নি আমরা অন্য দেশে খেলছি। মনে হয়েছে আমরা বাংলাদেশেই খেলছি। তাদের ধন্যবাদ।

প্রশ্ন : সামনের ম্যাচগুলোতে আমাদের নিজেদের এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখাটা কতটা চ্যালেঞ্জের?

তাসকিন : আমাদের সামনে যে সিরিজগুলো আছে; বিশ্বকাপের এই পারফরম্যান্সগুলো অনেক সহায়তা করবে ভাল খেলতে। আমার মনে হয় আমরা এখন অনেক বেশি আত্মিবিশ্বাসী। আমাদের সামনের সিরিজগুলো বড় বড় দলের বিপক্ষে। আমার বিশ্বাস ভাল কিছুই সামনে অপেক্ষা করছে।

ছবি : অনিন্দ্য আরিফ দিব্যর সৌজন্যে প্রাপ্ত

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/এএল/মার্চ ২৩, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে