thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫,  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মার্চ : এক অভিন্ন সূত্রগাঁথা

২০১৫ মার্চ ২৫ ২১:৪১:৫৩
মার্চ : এক অভিন্ন সূত্রগাঁথা

নূহ-উল-আলম লেনিন

বাংলায় বসন্ত ঋতু। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে মার্চ মাস। বাঙালী জাতির জীবনের অবিস্মরণীয় এই মাসটি একাধারে আনন্দ-বেদনার এবং রক্তস্নাত নবজন্মের।

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ। গোপালগঞ্জের নিভৃত পল্লী টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়েছিলেন ‘খোকা’ নামের এক শিশু— ইতিহাসে যাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর আসনে অভিষিক্ত করেছে। ইতিহাসের মহানায়ক হয়ে ওঠা এই খোকা— শেখ মুজিবুর রহমান। ৭ই মার্চ, ১৯৭১। বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষাধিক উদ্বেলিত বাঙালীর মহাসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন ইতিহাসের অমোঘ বাণী, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন— সাড়ে ৭ কোটি বাঙালী সেদিন বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণায় অভিন্ন সত্তায় পরিণত হয়েছিল। অভিন্ন ভাষায় উচ্চারিত হয়েছিল, ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’/ ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’/ ‘জয় বাংলা’ ইত্যাকার রণধ্বণি। ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।’ বাংলার ছাত্র, যুবক, তরুণ-তরুণী, কৃষক-শ্রমিক, মধ্যবিত্ত সবাই প্রস্তুত। ২৬ মার্চ, ১৯৭১; বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। ওই রাতের প্রথম প্রহর। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ল সেই বিখ্যাত ওয়্যারলেস বার্তা : বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গ্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই মুহূর্তেই একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতি-রাষ্ট্রের জন্ম হল।

১৯৭১ আমরা এই দু’টি জন্মোৎসব পালন করতে পারিনি। স্বাধীন বাংলাদেশ তখন পাকহানাদার বাহিনীর দখলে ছিল। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সারা বাঙালী জাতি অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। ৯ মাসের যুদ্ধে প্রিয় মাতৃভূমিকে আমরা হানাদারমুক্ত করলাম। বিশ্বের বুকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটল। বাংলাদেশ ছিল মার্চের জাতক। তাই ২৬শে মার্চ আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করি।


কাকতালীয় হলেও সত্য ৭ই মার্চ, ১৭ই মার্চ ও ২৬শে মার্চ অভিন্নসূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে। যার জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না— সেই জাতির পিতার জন্মদিন ১৭ মার্চ, আর ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মদিন। এ জন্যই আমরা বলেছি, মার্চ আমাদের জন্মোৎসবের মাস। এই দিনে আমরা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি সেই মহামানব বঙ্গবন্ধুকে। স্মরণ করি লাখো শহীদদের আত্মদানের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি। সশ্রদ্ধচিত্তে আমরা বাঙালী জাতিকে অভিনন্দন ও স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। আমরা প্রার্থনা করি— কামনা করি, বাংলাদেশ বিশ্বসভায় উন্নত সুসভ্য, সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আমাদের অঙ্গীকার হোক, বাংলাদেশের মাটিতে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবই।
আজ যারা বাংলাদেশের শান্তি, স্বাধীনতা, উন্নয়নকে ব্যাহত করতে চাচ্ছে, যারা সংবিধান পদদলিত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চাইছে, যারা বোমা-সন্ত্রাস করে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের জীবনদীপ নিভিয়ে দিচ্ছে, যারা খালেদা-বিএনপি-জামাতের চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশকে আবার ’৭১-এর মতো রক্তাক্ত করে তুলতে চাইছে— বাঙালী জাতি যে কোনো মূল্যে তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেবে। আমরা তাদের আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এদেশ আমার গর্ব, এ মাটি আমার কাছে সোনা। তারা জেনে রাখুন : ‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি, চিনে নিক দুর্বৃত্ত।’ আমরা কোনো দুর্বৃত্তকেই ক্ষমা করব না। বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাওয়ার এই অভিযাত্রা থেকে বাঙালী জাতিকে কেউই বিরত রাখতে পারবে না। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শুভ হোক জাতির পিতার ও জাতি-রাষ্ট্রের জন্মদিন।

লেখক : রাজনীতিক ও সাহিত্যিক

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

স্বাধীনতার অহংকার এর সর্বশেষ খবর

স্বাধীনতার অহংকার - এর সব খবর