thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

গরুর মাংস শতভাগ নিরাপদ নয়

২০১৫ এপ্রিল ০৭ ০৬:২২:৫৩
গরুর মাংস শতভাগ নিরাপদ নয়

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ওষুধ ও রাসায়নিকের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা গরুর মাংসতে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। একই ঝুঁকি রয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করে ভারত থেকে আমদানি করা গরুতেও।

এমন মন্তব্য করেছেন চিকিৎসক আর পরিবেশবাদীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ সব গরুর মাংস খেয়ে কিডনী, লিভার, হৃদপিণ্ডসহ মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্টসহ মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষভাবে শিশু ও গর্ভবতী নারীর জন্য দুঃখজনক পরিণতি বয়ে আনতে পারে এ সব গরুর মাংস।

তারা জানান, এক দিকে দেশের ভেতরে বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারত থেকে গরু আমদানির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ম্যাডকাউ, এনথ্রাক্সসহ যে কোনো পশুবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি থাকে। ফলে ভোক্তা বাজার থেকে যে গরুর মাংস পাচ্ছেন, সে সব নিশ্চিতভাবে শতভাগ নিরাপদ বলা যায় না।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘গরু মোটাতাজা করার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিতে মোটাতাজা করতে ৪-৫ মাস সময় লাগে। কিন্তু লোভী ব্যবসায়ীরা এ পদ্ধতি না মেনে ৩ সপ্তাহ থেকে ২ মাসের মধ্যে গরুকে মোটা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে থাকেন, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকির কারণ। এ ছাড়া বাংলাদেশে জবাইকৃত গরুর শতকরা ৪০ ভাগই ভারত থেকে আসে।’

গরু মোটাতাজাকরণে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া, স্টেরয়েড গ্রুপের ওষুধ ডেকাসন, ওরাডেক্সন, প্রেডনিসোলন, বেটনেনাল, কর্টান, স্টেরন, এ্যাডাম-৩৩ ইত্যাদি। এমনকি ডেকাসন, ওরাডেক্সন, এ্যানাবলিক স্টেরয়েডের মতো মারাত্মক ইনজেকশনও গরুর শরীরে প্রয়োগ করা হয় বলে জানান তিনি।

আব্দুস সোবহান আরও বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আইন অনুযায়ী পশু পরীক্ষা করা, স্থলবন্দরে ভারতীয় গরু পরীক্ষা করার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন হচ্ছে না বলেই এই দৌরাত্ম্য কমছে না। শুধু কোরবানি নয়, সব সময়েই সীমান্তসহ মাঠ পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।’

প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও হেল্থ এ্যান্ড হোপের চেয়ারম্যান ডা. লেনিন চৌধুরী এর ক্ষতিকারক দিক তুলে ধরে বলেন, ‘গরুর মাংসে এ সব ওষুধের কার্যকারিতা রান্না করলেও নষ্ট হয় না। এ সব গরুর মাংস খাওয়ার ফলে রাসায়নিক পদার্থ মানবশরীরে ঢুকে কিডনী, লিভার, হৃদপিণ্ডসহ অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে লিভার ও কিডনীর রোগ দেখা দেয়। বিদ্যমান উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। যাদের রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রা বিপদসীমার কাছাকাছি তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এ ছাড়া স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ মানবশরীরে বেশি মাত্রায় জমা হলে মানুষের বিপাক ক্রিয়াতেও প্রভাব পড়ে। মানুষও মোটাতাজা হতে থাকে, কিন্তু হাড় নরম হতে থাকে।’

এ মাংস মানুষের জন্য এবং বিশেষভাবে শিশু ও গর্ভবতী নারীর জন্য দুঃখজনক পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (উৎপাদন) কালিদাস সরকার দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গরু মোটাতাজাকরণের হারটা সাধারণত কোরবানির আগে বেড়ে যায়। অন্য সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই থাকে। তবে মাঠে আমাদের নজরদারি সব সময়ই থাকে। এ ছাড়া সীমান্তে আমাদের প্রায় ২০০টি স্টেশন রয়েছে যেখানে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে আনার সময় নিয়মিত গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।’

‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে’ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ের অভাব কথাটা ঠিক নয়। আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুষকেই খাবার সরবরাহ করতে হয়। সেই তুলনায় আমাদের মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয় আছে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিনিয়তই বাজারও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

পশু আইন, ২০০৫ এর ধারা-৯ অনুযায়ী পশু পরীক্ষা, ধারা-১০ এ পোস্টমর্টেম পরীক্ষা এবং ধারা-১২ এ সংক্রমিত পশু বাজারজাতকরণের বিধি-নিষেধের বিধান রয়েছে।

ধারা-২৫ এ এই আইনের বিধি-নিষেধ লঙ্ঘনের দায়ে অনূর্ধ্ব দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/পিএম/এএসটি/এসবি/এইচ/এএল/এপ্রিল ০৭, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর