thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫,  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ফরমালিন ছাড়াও রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে ফলে

২০১৫ এপ্রিল ০৭ ০৭:৫৭:০৭
ফরমালিন ছাড়াও রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে ফলে

প্রশান্ত মিত্র, দ্য রিপোর্ট : যখনই বিশুদ্ধ ফলের কথা আসে, তখনই স্বাভাবিকভাবে চলে আসে ফরমালিনমুক্ত ফলের কথা। কিন্তু বাজারের তাজা ফলে ফরমালিনের বাইরেও অন্যান্য রাসায়নিক রয়েছে। যা খাওয়ার পর মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমতে পারে, সৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন রোগ।

বর্তমানে উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতির ফলে প্রায় সারা বছরই বাজারে বিভিন্ন ফলমুল পাওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেতেই এগুলো আকারে বেশ বড় এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু উৎপাদন, বিপণন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যমান নিয়ন্ত্রণে চলছে অরাজকতা। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বেশি উৎপাদন, ফলকে সতেজ রাখা, আকারে বড় করা ও রং আকর্ষণীয় করার জন্য যাচ্ছেতাই উপকরণ ব্যবহার করছে।

আবার অনেক কৃষকও নিজেদের অজান্তে ব্যবহার করে ক্ষতিকারক বিভিন্ন কীটনাশক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ফল উৎপাদনে সাইপারমেথ্রিন, ডাইমেথবেট, টাফগর (৪০ ইসি), ছত্রাকনাশক ডায়মেন এম ৪৫, থিড়ভিট, রিডোমিল, পিজিআর-জিফরেমিন, সাইটোকাইনিন, অক্সিন ইত্যাদি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। তবে কীটনাশকগুলো সবই অনুমোদিত। মাত্রায় ব্যবহার করলে কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার হলেই সমস্যা।

এরপর ইথাইলিন জাতীয় গ্যাস ও ইথারেল (এক ধরনের হরমোন), ইথোফোন (নিষিদ্ধ) এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে ওই ফলগুলো পাকানো হয়।

ইথোফোন (নিষিদ্ধ) স্প্রে বা গ্যাস আকারে ব্যবহার করা হলে ক্ষতি হয় না। কিন্তু সচেতনতার অভাবে তারা দ্রত কার্যকরের জন্য তরল আকারে ব্যবহার করে থাকে।

কৃষকের অসেচতনতা এবং অজ্ঞতার কারণেই এ ধরনের কীটনাশক মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করা হয় বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হর্টিকালচার উইং) ড. আজহার আলী।

তিনি আরও জানান, কলা, আম, আনারস, পেঁপে যখন পাকতে শুরু করে তখন আপনা থেকেই এ সব ফল ইথাইলিন গ্যাস ছাড়ে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করে এবং বাজার থেকে ইথারেল কিনে স্প্রে করে। এতে ফলের গাছের রঙ উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের হয়। ক্যালসিয়াম কার্বাইডের সাহায্যেও ফল পাকানো হয়। বাজার থেকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড কিনে ড্রামে বা বড় পাত্রের পানিতে দ্রবীভূত করা হয়। এরপর এই পানিতে কলার কাঁদি, আম, আনারস বা পেঁপে চুবিয়ে তোলা হয়। ফলে ওই সব ফল হলুদ রং ধারণ করে।

তিনি বলেন, ‘ফল পাকাতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো খুব বেশি ক্ষতিকর নয়। এগুলো শরীরের তাৎক্ষণিক প্রভাব না ফেললেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ জালালউদ্দিন আশরাফুল হক দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘সব ধরনের কেমিক্যালেরই একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। প্রভাবটা হয়ত এক দিনে দেখা যাবে না, দীর্ঘমেয়াদে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আস্তে আস্তে এই কেমিক্যালগুলো আমাদের শরীরে জমা হচ্ছে। একটা সময় দেখা যাবে এর প্রভাবে মানবদেহে একটা বিশেষ ধরনের বা কয়েক ধরনের ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে।’

এ জন্য জনগণকে সচেতন করতে সরকারের উদ্যোগ দরকার। উৎপাদনের স্বার্থে কীটনাশক ব্যবহার করতেই হবে। উন্নত দেশেও হচ্ছে। কিন্তু তা সহনশীল, নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে বলে জানান তিনি।

ফলের এই মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ রোধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কার্যক্রম প্রসঙ্গে আজহার আলী বলেন, ‘সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কিছুই করার নেই।’

গুড এ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (জিএপি)-এর মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

(দ্য রিপোর্ট/পিএম/এসবি/সা/এএল/এপ্রিল ০৭, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর