thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫,  ৭ মহররম ১৪৪০

এলো বৈশাখ

২০১৫ এপ্রিল ১৩ ১৮:৪৪:১৬
এলো বৈশাখ

গায়ের মেলা
খালেক বিন জয়েনউদদীন


টুম্পা শিমুল শোনো
গল্প নয়তো কোনো
তোমার জন্ম শহরে
গাড়িঘোড়ার বহরে।

তুমি দেখনি গাঁও
কাল বোশেখীর বাও
মধুমতির পাড়ে
ঘাঁঘর নদীর ধারে
বসতো গাঁয়ের মেলা
সকাল-সন্ধ্যা বেলা।

মাটির পুতুল ঘোড়া
খেলনা জোড়া জোড়া
আমের আঁটির বাঁশী
ফুলল মধুর হাসি।

আলতা চুড়ি ফিতে
ঘণ্টী নূপুর নিতে
দিদি-বুবুর বায়না
আর যে কাঁকোই আয়না।

মজার পুতুল নাচ
ঘুরছে চড়ক গাছ
পিঠে কঠিন বান
হাসছে সবার প্রাণ।

বাংগি লেচু আতা
হাজার দু’খান পাতা
আকাশপাড়ি ঘুড়ি
যেমন স্বপন বুড়ি।

ছারকাসের মাস
আসেন লক্ষণ দাস
বাঘ ভালুকের খেলা
সেই যে গাঁয়ের মেলা
দেখতে যদি চাও
গৌলা ঘাঁঘর যাও।

এবারের বৈশাখে
নাসের মাহমুদ


উঠু উঠু সূর্য— রক্তিম,
ছবিটায় পূব ভাল।
ডুবু ডুবু সূর্য— পশ্চিম
এঁকেছো, খুব ভাল।

বেশ তো আঁকো তো—
এক থালা ভাত,
আমাদের সকলের
মুখমুখো হাত।

এবারের বোশেখে
এই আঁকা ও শেখে।





বর্ষ আসে-বর্ষা আসে

আসলাম সানী


বর্ষ আসে-বর্ষা আসে
বোশেখ মাসে
সৃষ্টি হাসে-বৃষ্টি হাসে
জলে ভাসে—,

এই প্রকৃতি—
রবি আসে-ছবি ভাসে
এইতো রীতি
শুভপ্রীতি,

বন-বনানী-হাটে-মাঠে
ঢেউয়ের খেলা নদীর ঘাটে
শ্বাস-প্রশ্বাস-দীর্ঘশ্বাস
এমন ভীতি—
বোশেখ মাসে বুকের পাশে
নানান স্মৃতি,

মেঘ-ও আসে বেগ-ও আসে
নীল আকাশে
চন্দ্র হাসে-জোসনা হাসে
ঘাসে ঘাসে
সুর বাতাসে।



স্বাগত
বিলু কবীর


কালবোশেখী
হাল চোষে কি, উল্ট ঝড়ের ফালে;
দাঁপিয়ে হেঁসে
লাফিয়ে এসে, গাছের চালে ঘরের চালে।
খন্দে ক্ষেতে
মন্দে মেতে, সব ভেঙ্গে তোর লাভটা কিযে!
সব নেশেরে
সব শেষেরে, নিভোস কিনা নিভিয়ে নিজে?
ধসিয়ে দিতে
খসিয়ে দিতে, খুব দাঁপটে জম হয়ে যাস,
সত্য যে সে-ই
দত্য এসেই, ভীষণ বেড়ে কম হয়ে যাস!
খান্ত ছিলি
শান্ত ছিলি, চৈত্র মাঘ ও ফাল্গুনেরে,
কী আক্রসে
অবাক রোষে, আবহাওয়া বা তাল-গুণে-রে।
চিহ্ন যত
ছিন্ন ক্ষত, জীর্ণ পুরোন দূর করে দিস,
তরুণ প্রাণের
অরুণ গানের, অন্তরাতে সুর করে দিস।
সত্যেরই জয়
আর কারো নয়, ভুলব না তাই আজ যা গত;
তাইরে তোরে
আইরে ভোরে, পয়লা দিনে আজ স্বাগত।











তবুও বোশেখ

জগলুল হায়দার

দিনটা দারুণ এলোমেলো
হাওয়ার ডানায় আকাশ পেলো
শনৈ শনৈ বেগ
দুরন্ত সব মেঘ।
জমলো আঁধার, কমলো আলো
ঈশান আকাশ নিকষ কালো
উড়ছে পথে ধূল
মত্ত হুলুস্থূল।
ঝড় বৃষ্টি, ঝড় বৃষ্টি
গুড়ুমগুড়ুম বাজ
এলোকেশী মেঘ ছড়িয়ে
দেয়ার সে কি সাজ!
দেয়ার সাজে যদিও কাজে
কেবল বাধে গোল
তবুও বোশেখ, রুদ্র বোশেখ
বাজছে প্রাণের ঢোল।




মহাহাট

সোহেল মল্লিক


আজকেও হাট বসে
গঞ্জের হাট
শত শত লোক আসে
বেঁধে আটঘাট।
কেউ আসে চাল-ডাল-তেল-নুন কিনতে
কেউ আসে দরদাম হাঁকডাক চিনতে
কেউ আসে দলবেঁধে

-------- ঘুরতে

-------------ঘুরতে

-----------------ঘুরতে
মেঘ হয়ে পাখি হয়ে

---------উড়তে

------------উড়তে

----------------উড়তে।

আজ এই হাটে আসে
পিঁপ পিঁপ বাঁশী
তাই কিনে খোকা-খুকু
করে হাসাহাসি।

সাপ খেলা, লাঠি খেলা
আরো কত কিছু
ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে
ছোটে তার পিছু।

হাট হয় মহাহাট
আজ এই বেলা
সকলেই ভালোবাসি
বৈশাখী মেলা।














নতুন দিনের বাঁশী

মিলন সব্যসাচী


বোশেখে আজ মেলবে মেলা
রমনার ওই বটমূলে,
একতারাতে গাইবে বাউল
মনের যত জট খুলে।

তাকডুমা ডুম বাজবে ঢোলক
নাচবে সবাই হর্ষে,
পান্তা-ইলিশ খাবে খুকু
আজকে নববর্ষে।

নাগর দোলায় দুলবে খোকা
ফুটবে মধুর হাসি,
নতুন সুরে বাজবে আবার
নতুন দিনের বাঁশী।

কিনবে খোকা মাটির ঘোড়া
বুবুর জন্য চুড়ি,
মাকে নিয়ে ঘুরবে শেষে
সুখের স্বপ্নপুরী।








এক দিনের বাঙাল

আহমাদ ফেরদৌস

সারা বছর ‘পাংকুমামা’
ডিস্কো প্যান্ট, ডিস্কো জামা
চলন-বলনে ইয়াংকি—
‘বাংলিশে’ কন হগল কথা
‘হিংলিশে’ গান যখন যা-তা
ভাবেন ‘তাহার’ র‌্যাংক্ কী?

ফাস্টফুড খান আর চাইনিজ চাবান
ব্যান্ডের তালে তালে ভ্যাবান
ভাবখানা যেন মস্ত হিরো—
দেশটা তার লাগে না ভাল
দেশের রোদ্দুর দেশের আলো...
যেন দেশের সবই ‘জিরো’!

ক্যাটফিশ চেনেন, স্যাডফিশ চেনেন
ভক্তি-ভরে সে-সব কেনেন
পোষেণ বিলেতী সারমেয়—
সকাল-বিকাল তাদের সাথে
কিংবা দুপুর কিংবা রাতে
শুধু তাদের নিয়ে ‘ভেও-ভেও’।

দেশের কীতি, দেশের রীতি
ভাবেন ও-সব প্রাচীন অতি
চলেন তিনি সযতনে সব এড়িয়ে—
দুপুর রোদে কোর্ট-টাই পরে
হাঁটেন তিনি জোরে জোরে
ভাবেন তিনি ফিরিঙ্গিদেরও ছাড়িয়ে!

কিন্তু—
আজকে তিনি অন্য মানুষ
লোক দেখাতে উড়ান ফানুষ
মাতেন তিনি এক দিনের ফ্যাশনে,
পান্তা খাবেন-হিলশা খাবেন
গা নাচিয়ে মেলায় যাবেন
এক দিনের বাঙাল হবেন বেশ-ভূষণে!










মেলাই যাইরে

হিজল জোবায়ের

বাবা হেঁটে যাবে, কিছু পথ আমি—
চড়ে যাব তাঁর ঘাড়ে,
টলটলে নদী, নৌকায় কোরে—
তারপর ওই পাড়ে।

হঠাৎ কোথাও পাঁকা গমক্ষেত
বাতাসে দুলছে ইশ্!
হেলছে-দুলছে, আমাকে ডাকছে
সোনা রং ধরা শীষ।

পানের বরোজ পাশ কেটে গেলে—
ফাঁকা এক ময়দানে—
পাখির মতন ডানা মেলে রাখা,
জটাধারী এক চোখ বুজে থাকা—
বটগাছ সেইখানে
জড়াজড়ি করে মাটিতে নেমেছে
কত না বটের ঝুড়ি;

সেই গাছ ঘিরে এই নদী তীরে
পসরা সাজিয়ে মেলা বসেছে রে
আকাশে উড়ছে ঘুড়ি।

বাবা তুমি কত আদরের বাবা
কতই না ভাল ছেলে!
বৈশাখ এলো, তারই সাথে করে
এমন জমানো মেলা চত্বরে
আমাকেও নিয়ে এলে।



বৈশাখ বাঙালীর প্রিয় উৎসব
কামাল হোসাইন

তাক ধিন তাক ধিন তাক
এলো এলো এলো বৈশাখ
ওই বাজে ঢোল আর ঢাক
এলো বুঝি নতুনের ডাক।

বটতলা হাটখোলা সবখানে আজ
বাঙালীরা হয়ে গেছে আজ মহারাজ
পুতুলের নাচ দেখি দেখি সার্কাস
নাগরদোলায় চেপে ঘুরি চারপাশ।

বাউলের গান শুনি শুনি জারী-সারী
জিলাপীর মধুরস সামলাতে পারি?
বুকে বুক রেখে আজ ভুলে যাই সব
বৈশাখ বাঙালীর প্রিয় উৎসব।

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

M

M

SMS Alert

ছেলেবেলাপুর এর সর্বশেষ খবর

ছেলেবেলাপুর - এর সব খবর



রে