thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫,  ১১ মহররম ১৪৪০

 

সমকালীন নাট্যচর্চায় ঐতিহ্যের ধারা

২০১৫ এপ্রিল ১৩ ১৯:৪৫:৫২
সমকালীন নাট্যচর্চায় ঐতিহ্যের ধারা ॥ আবু সাঈদ তুলু

স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের সাহিত্য-শিল্প ধারায় অন্যান্যের মধ্যে সম্ভবত নাট্যকলা ধারাটি বেশি সমৃদ্ধি লাভ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উঁচু বিদ্যাপীঠে পাঠ্য এবং আন্তর্জাতিক নাট্যসমারোহে বিশ্বসভাপতির আসন লাভ তাই প্রমাণ করে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ নাট্য প্রযোজনার মান বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাট্যমানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আজকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সময়ে বাংলাদেশের নাটক বিশ্বনাট্য ধারায় উপস্থাপনীয় জায়গাতেও পিছিয়ে নেই। বিষয়বস্তু, আঙ্গিক ভাবনা, নির্মোহ উপস্থাপন, পেশাদারিত্ব না থাকলেও পেশাদারিত্বের মনোভাব এক অনন্য মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের নাট্যরীতি অধিকাংশই ইউরোপীয় নাট্যরীতি দ্বারা প্রভাবিত। বিষয়বস্তু উপস্থাপন, মঞ্চকৌশল-ব্যবহার, অভিনয় রীতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রয়োগ কৌশল সামগ্রিক বিষয়েই এ রীতি বিদ্যমান। স্বাধীনতাপরবর্তী ৪২ বছরে ইউরোপীয় রীতিকে পাশ কাটিয়ে সংস্কৃত বা তদুদ্ভূত নাট্যরীতি এবং বাঙালী জীবনের বহমান পরিবেশনারীতিতে অর্থাৎ ঐতিহ্যের ধারা নাট্যরীতিতে বাংলাদেশের নাট্যচর্চা অব্যাহত রয়েছে।

বাঙলার সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরনো। বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির প্রবহমান ধারায় মধ্যযুগ অধ্যায়ে বাঙালী জাতির পরিবেশনা শিল্পকেই বাংলা নাট্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলা নাট্য একটি আঙ্গিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সে পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলা নাট্য বলতে কোনো একটি আঙ্গিকেই নির্দিষ্ট করে না। শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে পরিবেশনা শিল্পের অন্যান্য বিষয় থেকে নাট্যকে আলাদা করা হয়ে থাকে। বিশ্বনাট্য ধারায় বাংলা নাট্যশিল্পও বৈশিষ্ট্যমূলক জায়গায় আলাদা। হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য বর্ণনানির্ভরতা। দ্বন্দ্বের অপ্রাধান্যে জীবনের বিশ্লেষণ করে। বাঙালী জাতির উপস্থাপনীয় নাট্যশিল্প প্রধানত বর্ণনাকেই ভিত্তি করে প্রদর্শনরীতি বাঙালী জীবনের মধ্যযুগ অধ্যায়ে সর্বত্রই দেখা যায়। বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাট্যরীতির বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে মঞ্চ ছিল আসরকেন্দ্রিক। চারদিকে দর্শক বসতো এবং মাঝখানে সংঘটিত হতো নাট্যক্রিয়া। কৃত্যনাট্যে কখনো কখনো মঞ্চ বানিয়ে নাট্য উপস্থাপন করা হতো। সেলিম আল দীন মধ্যযুগের পরিবেশনায় ভূমি সমতল বৃত্তমঞ্চ, চৌকোণ খোলা মঞ্চ বা চৌপথ খোলা মঞ্চ, গৃহাঙ্গন প্রভৃতি স্থায়ী বা অস্থায়ী মঞ্চ ব্যবহৃত হতো বলে তুলে ধরেন। উপস্থাপনার ক্ষেত্রেও বর্ণনাত্মক রীতি শিল্পের সর্বত্রই প্রচলন ছিল। হাজার বছরের বাংলা এ বর্ণনাত্মক নাট্যধারায় গায়েনরীতি, কথানাট্যরীতি, ইত্যাদি নানা রীতিতে উপস্থাপিত হতো। অভিনয়রীতির ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী বাংলা অভিনয়রীতিও ছিল বর্ণনাধর্মী। গায়েন বা কথক ঘটনার বর্ণনা করেন এবং একই সঙ্গে চরিত্ররূপ অভিনয় করতেন। পাশ্চাত্যের চরিত্রাভিনয়ের মতো একই চরিত্রমোহে আবদ্ধ না থেকে আসরে উপস্থিত দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে বর্ণনার সাথে সাথে অভিনয় করেন। পাশ্চাত্যের অভিনয় থেকে বাংলার ঐতিহ্যের ধারায় অভিনয়রীতি ভিন্ন। ঐতিহ্যবাহী বাংলা অভিনয়রীরিতে জীবনের ব্যাখ্যা করে। বাঙলার ঐতিহ্যবাহী নাট্যরীতিতে কখনো কখনো একজন অভিনেতা একই সময়ে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন। পাশ্চাত্যের সংলাপের মতো ঐতিহ্যবাহী বাঙলা নাট্যে সংলাপনির্ভরতা নেই। এখানে কাহিনী বা ঘটনা বর্ণনার উক্তি-প্রত্যুক্তিই প্রধান। গায়েন বা বর্ণনাকারী কখনো সরাসরি চরিত্রের সঙ্গে উক্তি-প্রত্যুক্তি করেন, আবার কখনো দোহার বা সহযোগীর সঙ্গেও উক্তি-প্রত্যুক্তি করেন। কাহিনীবিন্যাস বা বৃত্তরীতিতে নানা রকমের বৃত্ত ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যে দেখা যায়। যেমন— আখ্যানরীতি, পাঁচালী রীতি ইত্যাদি। এতে প্রথমে বন্দনা থাকে, পরে নৃত্য-গীত সহযোগে কাহিনী উপস্থাপিত হয়। ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের শিল্প-নন্দনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যে সেলিম আল দীন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্প বৈশিষ্ট্যের বলে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বর্ণনা, গান, নৃত্য, অভিনয়, কথা সবকিছুই এ নাট্যে একীভূত বা অদ্বৈত।

ঐতিহ্যের ধারার নাট্যকে দুটো শ্রেণীতে বিভাজন করা যায়। গ্রামপর্যায়ের চর্চা এবং অন্যটি শহর পর্যায়ে বিশ্বচিন্তনমুখী চর্চা। ঐতিহ্যবাহী নাট্য আঙ্গিক বৈশিষ্ট্যে সমকালীন নাট্য প্রযোজনার আদর্শ বা প্রভাব বাংলাদেশের অধিকাংশ নাট্যদলগুলোর নাট্যপ্রযোজনার মধ্যে খোঁজে পাওয়া যায়। এ ধারায় প্রায় শতাধিক নাট্য প্রযোজনা গত দু’দশক ধরে বাংলাদেশে মঞ্চে সবচেয়ে আলোচিত ও দর্শকপ্রিয়। ঐতিহ্যের ধারায় শহরপর্যায়ে সমকালীন বাংলা নাট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ঢাকা থিয়েটারের ‘বনপাংশুল’ ‘ধাবমান’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কমলারানীর সাগরদীঘি’ ‘বেহুলার ভাসান’ ‘শাজাহান’ ‘সং ভং চং’ নাট্যকেন্দ্রের ‘আরজচরিতামৃত’ দেশ নাটকের ‘নিত্যপুরাণ’ পদাতিকের ‘বিষাদ সিন্ধু’ মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়ের ‘নিশিমন বিসর্জন’ পালাকারের ‘নারীগণ’ বটতলার ‘খনা’, স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পদ্মাবতী’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উত্তর খনা’ লোকনাট্যদলের ‘লীলাবতী আখ্যান’ সুবচন নাট্য সংসদের ‘মহাজনের নাও’ আরণ্যকের ‘রাঢাঙ’ কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’, সিএটির ‘ভেলুয়া’ প্রভৃতিসহ আরও অনেক।

ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রযোজনা ‘চাকা’ ‘বনপাংশুল’ ‘ধাবমান’ প্রভৃতি নাট্য। সেলিম আল দীন ঐতিহ্যবাহী মধ্যযুগের বাংলার পাঁচালি ও কথকতার ধারায় সমকালীন প্রয়াস হিসেবেই রচনা করেছেন তাঁর অনেক নাটক। ‘বনপাংশুল’ মধ্যযুগের পাঁচালি ধারায় সমকালীন বৈশিষ্ট্যে রচিত। এ নাটককে বলা হয় নব্যপাঁচালি। নাট্য উপস্থাপনে বাংলার ঐতিহ্য উৎসারী ধারায় চারদিকের দর্শক পরিবেষ্টিত মধ্যমঞ্চে উপস্থাপন হয়েছে। বন্দনা, বর্ণনা, উক্তি-প্রত্যুক্তি, নৃত্য-গীতের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ সমকালীন বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে অত্যন্ত শিল্পকুশলতায় ফুটে ওঠেছে। নাট্যটির নির্দেশনায়-নাসির উদ্দীন ইউসুফ। ‘ধাবমান’ নাট্যটি উপস্থাপনেও মঞ্চবিন্যাস ছাড়া ঐতিহ্যের ধারায় বহমান বাংলা নাট্য অন্যান্য সমস্ত বৈশিষ্ট্যই লক্ষ্যণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বেহুলার ভাসান’ সমকালীন বাংলা নাট্যের মাইল ফলক। একদিকে স্বতঃসিদ্ধ পৌরাণিক বেহুলাকে সাধারণ পারিপার্শ্বিকতার ‘বেহুলা’ নিরীক্ষা এবং অন্যদিকে নৃত্য-গীত-বর্ণনা-উক্তি-প্রত্যুক্তির মধ্য দিয়ে চারদিকের দর্শকপরিবেষ্টিত মঞ্চে উপস্থাপন বাংলাদেশের নাট্যাতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ। নবদর্শনজাত এ নাট্যটির নির্দেশনায় ছিলেন— সৈয়দ জামিল আহমেদ। বটতলা নাট্যদলের অনন্য সাধারণ প্রযোজনা ‘খনা’। বাঙালী গার্হস্থ্য সমাজের দার্শনিক, সত্যের ভাষ্যকার ‘খনা’র জ্ঞান ও সত্যদর্শনীয় প্রতিহিংসার শিকারে নির্মম পরিণতির কিংবদন্তি নিয়ে নাট্যটি। নাট্যটির রচনায় সামিনা লুৎফা নিত্রা, নিদের্শনায় মোহাম্মদ আলী হায়দার। ‘খনা’ নাট্যটি উপস্থাপনে বন্দনা, বর্ণনা, নৃত্য-গীত-উক্তি-প্রত্যুক্তিসহ চারদিকের দর্শক পরিবেষ্টিত মধ্যমঞ্চে উপস্থাপিত হয়েছে। ‘সুবচন নাট্য সংসদ’ সংগীত সাধক শাহ আব্দুল করিমের জীবন ও দর্শন নিয়ে ‘মহাজনের নাও’ শিরোনামে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী রীতিতে নাট্য প্রযোজনা করেছে। নাট্যটি রচনা করেছেন শাকুর মজিদ এবং নির্দেশনায় সুদীপ চক্রবর্তী। উপস্থাপনায় আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এরিনা বা চারদিকের খোলা মঞ্চ ব্যবহৃত হয়েছে। বাঙালী জীবনের সংস্কৃতির বহমান ‘পালা’ রীতিকে অবলম্বনে নাট্যটি প্রদর্শিত। স্বপ্নদলের প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’ নাট্যটি। এ নাট্যের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মঞ্চের চারপাশে দর্শক; মাঝখানে উপস্থাপিত হচ্ছে নাট্যটি। নাট্যটির শুরু থেকে শেষ অবধি বাংলা আখ্যান বর্ণনার রীতি অনুসৃত হয়েছে। প্রথমে যোগসূত্রধার বা গ্রন্থকের প্রেক্ষাপট বর্ণনা দিয়ে শুরু, বন্দনা-সংলাপ-আঙ্গিক অভিনয়-নৃত্য-গীতের মধ্য দিয়ে ঘটনার জটিলতা সৃষ্টি। নিদেশনায় ছিলেন জাহিদ রিপন। পালাকারের অনন্য সাধারণ প্রযোজনা ‘নারীগণ’ নাট্যটি। আবহমান বাংলার নিজস্ব পরিবেশনা রীতিতে উপস্থাপিত ‘নারীগণ’ নাট্যটি। নাট্যটির রচনা সৈয়দ শামসুল হক, নির্দেশনা আতাউর রহমান। বাংলা নাট্যরীতিতে ঢাকা থিয়েটার প্রযোজনা করেছে শেক্সপিয়ারের ‘দ্য টেম্পেস্ট’। নাটটিতে শেক্সপিয়ারের কাঠামোর আটসাট তার গড়ন ভেঙে বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী আঙ্গিকের অভিজ্ঞতায় নতুন নাট্যভাষা নির্মাণ করেছেন। নাটকটিতে এলিজাবেথীয় বাস্তববাদী চরিত্রাভিনয়ের বিপরীতের বাঙলার নিজস্ব সংস্কৃতির নির্যাসে নাচ-গান-অভিনয়-বর্ণনা মিলিয়ে এক দ্বৈত শিল্পসুরের মাধুর্যে উপস্থাপন করেছেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত দর্শকনন্দিত প্রযোজনা ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ শেক্সপিয়ারের কাহিনী হলেও বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘সং’ আঙ্গিকে উপস্থাপিত নাটকটি। নাট্যটির নির্দেশনা আল জামীর। নাট্য প্রযোজনাগুলোতে কোনো কোনো নির্দেশকের ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারার বিকাশমূলক সচেতন প্রচেষ্টা না থাকলেও অবচেতনভাবেই ঐতিহ্যের ধারার বাংলা নাট্যের বৈশিষ্ট্যে প্রত্যুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে নাট্য।

দীর্ঘ ইতিহাস এবং সুমৃদ্ধ ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী বাঙালী। বাঙালীর রয়েছে সুসমৃদ্ধ নাট্যসংস্কৃতি। পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট যে, বাঙলার সংস্কৃতি পাশ্চাত্য কিংবা সংস্কৃত থেকেও পৃথকীকৃত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। সাহিত্য-শিল্পচর্চায় ঐতিহ্যের ব্যবহারমূলক নব্য উপনিবেশ কৌশল উপেক্ষায় ঐতিহ্য উৎসারী বিকাশ জরুরি। সমকালীন নানা বৈরী পরিবেশেও উপনিবেশসৃষ্ট ইতিহাস ও জ্ঞানতত্ত্বকে উপেক্ষা করে বাঙালীর নিজস্ব জ্ঞানতত্ত্ব, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিশ্বজনীন উৎসারণমূলক চর্চা অব্যাহত রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যধারা যেভাবে বিকাশে এগিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের শিক্ষা-অর্থনীত-সংস্কৃতি-রাজনীতি তথা অন্য ক্ষেত্রগুলোতে সেভাবে বিকাশ হওয়া প্রয়োজন। ঐতিহ্যের উৎসারী ধারায় বিশ্ব শিল্পমহলে বাংলা নাট্যশিল্প নিজস্বতার পরিচয়ে অম্লান ও সম্মানীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠান হোক— তা আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : প্রাবন্ধিক

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর



রে