thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বিশ্বের মুক্তি

এশিয়ান ইউনিয়ন

২০১৫ এপ্রিল ১৩ ২১:৩৮:২৪
এশিয়ান ইউনিয়ন ॥ মোজাই জীবন সফরী

মোরা যাঁহারা দীর্ঘ দিবসযাম মানবের মুক্তির বিস্তর স্বপন নয়নে মেখে, তাহা পুনঃ পুনঃ ভাঙ্গনের ব্যথা হৃদয়ে ধরে আজি অনায়াস আধা সিকি সুখী, আলসে গৃহ যাপিতেছি; নিখিল নৈরাজে বাসা বাঁধিয়াছি, ভাবি তাঁহারদের করণীয় কিয়ৎ কি নেই?

সে দিবস বঙবাসীগণ বঙ্গভঙ্গবিরোধী, বিলিতি ভারত ছাড়ো ইত্যকার আন্দোলন করিয়াছে ভাষা দরুণ প্রাণ দানে ভাষার গৌরব ধরায়েছে, গঠেছে স্বাধীন রাষ্ট্র, তাঁহারা কি স্তিমিত হইবে!? বিলিতি সাম্রাজ্যবাদ বঙ্গবাসীদিগের উপর ক্ষিপ্ত হইয়া রাজধানী দিল্লি সরাইয়াছিল তাহা ১১ সাল; ৫-এর বঙ্গভঙ্গবিরোধী ভূমিকায় বিলিতিগণের এ উপলব্ধি; তদনন্তরকার কোলকাতা হেতু রাজধানী, ও বুদ্ধিজীবিতার কেন্দ্র; কেন্দ্র হইতে তেজঃ চতুর্দিগগমন করিবে কলোনি-রাজনীতি যে জাতির পেশা অঙ্কটি তাঁহারা সরলে বুঝিবেন তাহা স্বাভাবিক; সকল-বঙ্গবাসী মোর লোচ্য; ভাষাদরুণ আন্তরজাতিক মাতৃভাষা দিবস সৃষ্টি, তাঁহারদের কর্ম, সুপ্রচুর প্রাণদান, যুদ্ধ ও ব্যাপক কষ্ট সহিষ্ণুতা, অনুভূতির পারস্পরিক সহযোগ দ্বারা অধুনাবিশ্বে একখানি স্বঅধীন রাষ্ট্র গঠন তাঁহার সার্থকতা বটে;

মৌলবেদনা তদিচ বিশ্বের এ বৃহৎ জাতি ৬৮ বৎসরব্যাপী কুটিল রাজনৈত্যেয় অলাৎ চক্রে বিভক্ত, তাঁহারদের নিবাস মাঝারে বিস্তর কণ্টকতার-সীমানা স্থাপিত; কথা-এ কহিয়া লাল দালানের অন্নগ্রহণ করিতে চাহি না বা গুপ্তাতাঘাতগ্রস্ত হইতে চাহি না যে, সকল সীমানা এক্ষণই ভাঙ্গিয়া উপড়ায়ে একাকার করিয়া দাও; তদিচ কহিতে হইবে, এহার অন্তরিত সকরুণ বেদনা ও জারি ইতোহাস; তাহাতে ধর্ম, রাজনীতির অন্তরীণ হইয়াছে সকলে জ্ঞাত; জাতি, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীমধ্যে সঞ্চলনশীল অনুভব তরঙ্গ বিদ্যমান থাকিবে তদিচ তথা মনু বা পৃথ্বীর আরদশ প্রাণী-ন্যায় দ্বন্দ্বও বিরাজ করিবে; এ দ্বন্দ্ব, রাজনীতির স্বার্থচিন্তনে আকস্মিক ও ধীর প্রয়োগ জগতে বিরল নহে; তবে! কি আমি কহিবার চাই !!!—

সময় বিস্তর গড়াইয়াছে— সত্য যতো অলীক ও দ্বন্দ্বমুখর হউকনা কেন আমারদের স্ব-স্ব তীব্র জাতীয়তাবোধ গঠিয়া উঠিয়াছে তদুপরও এহার পূর্বকার দশাসমূহ স্বেচ্ছামুদ্রিত আঁখি, আরকে অন্ধ রাখিবার জোর তৎপরতাকারী ব্যতীত অন্যান্য বুদ্ধিমান জানাবোঝা, পাঠকারী-নিকট স্বচ্ছ-জলবৎ-পরিষ্কার মোরা কাহারা ছিনু:?— গৌড়ীয় পুণ্ড্রীয় বরেন্দ্রীয়! রাঢ়ী সুহ্ম তাম্রলিপ্তি বঙ্গ বঙ্গতিন হরিকেল নেপালী! সিকিম ভুটান কামরূপ মণিপুর ত্রিপুরা কাছাড় সমতট বিহার উড়িষ্যা, আরাকান মিজোরাম নাগাল্যান্ড ঝাড়খণ্ড কাহাকার? সমুদায় স্থানে তো বঙভাষী রহিয়াছেলো! গভীর প্রবেশিলে আন্তর অজ্ঞাত মায়া পাওয়া যাইবে; বিভাজনে শতেক বিভক্তি...

মোর সহজ প্রকাশ যে, বঙভাষীগণ যাঁহার যাঁহার স্বঅধীন দেশে বিরাজ করুন: মাত্র-শুধু তাঁহারদের হৃদয় মননের আয়তন, এন্তেলেক্চুয়াল দিগ্, উচ্চ প্রসারণ-সঞ্চালনশীল রাখুন—। যে জনিত ইতোহাস সামান্য মাত্র উল্লেখ করিতে হইলো;— স্ব-স্ব জাতীয়তাবাদের আরামে উচ্চ মননশীল জাতিটি যেন পৃথ্বীর মনুর মুক্তির স্বপ্নাকাঙ্ক্ষা বিভ্রমিত না হয়েন,— প্রশ্ন: তাহাইলে বঙভাষীগণ কি করিবেন?

বঙভাষীগণ তাঁহারদের সংস্কৃতির কেন্দ্রাভীমুখী হইয়া; ও রাজনীতিতে তাঁহার মনন, অতীত-কার্য্যক্রম সম্ভাব্য ভবিতব্য, ক্রমোচ্চ-গতিবিধি,-সিদ্ধান্ত তালাশ করিবেন। কোন চিন্তন পরিক্রমা তো স্থবির রহিবে না। হয় অত্যুচ্চ পর্যায়ে প্রসারণশীল হইয়া জগতের জ্ঞেয়ানের অভিজ্ঞান সৃজিবে নচেৎ নিম্নমুখী আবিলতায় নিমজ্জমান হইয়া মৌল-ক্ষুদে চিন্তনের নথিতে নমুনাজাত হইবে; ধারণা, সম্ভাবনা, বাঙ্গালী (এপার-ওপারগণ) উচ্চ-ক্রমে যাইতেছেন। যে দরুন, কেহ কেহ যে-দল, উপদল, করুন; মহান-ক্ষুদ্র জাতীয়তাবোধই ধারণ করুন-না-কেন, এই জাতিই পৃথ্বীর মনুর মুক্তি নিশান প্রদর্শন ও উড্ডীন রাখিবেক—।

কি বিধে? কি তাঁহারদের করণীয়?...

যাঁহার স্বজাত্য উপলব্ধি শক্ত ও সত্যিকার জাতীয়তাবাদ অন্তরে, তাঁহারই সম্ভাবনা রহিয়াছে আর আর জাতিসহিত সম্মিলনমাত্রেই তাহা ফুরায়ে না ফেলিবার : জনিত প্রারম্ভে আপনাজাতির ধর্ম, দেশ, ব্যাপ্তি ব্যতীত ও আরো মৌল সাংস্কৃতিক উপাদান অন্বেষণ, তাহা চাউর ও অনুশীলনের আওতায় আনিতে হইবে; মোরা জ্ঞাত যে, ‘ভাষা’ই প্রধানতম ঐক্যস্থান এবং বিস্তর উৎসব রহিয়াছে, বাঙ্গালীর প্রাণ। এরূপ সমগীত, নাট্য, নৃত্য, চিত্রণ, স্থাপত্য, ভাস্কর্য্য, পরিচ্ছদ, আচার, দেহভঙ্গ, গড়ন, রঙ, কৃষি, আরো আরো উপাচারগুলিন শনাক্ত করিতে রহিতে হইবে বা প্রবিধেই শনাক্ত চর্চা করিতে রহিতে থাকিতেছেন। আপন আয়নায় আপনাকে পুনর্ব্বার দেখিয়া লইতে হইবে—।

‘আর্থ-সুসামাজিক দারিদ্র্য’ প্রতি গোএষণা রাখিতে হইবে জারি;— ‘দারিদ্র্যে’ মায়া করিতে চাহিলে পৃথ্বীমধ্যের সকল দারিদ্র্য লইয়াই করিতে হইবে। উচ্চজাতির যাহা কার্য্য— রাজনৈত্যবোধের ব্যাধি আবিষ্কার করিয়া রাজনীতি মধ্যেই মুক্তি সন্ধানী হইতে হইবে: বৃহৎ দৃষ্টিভঙ্গীমাত্রেই, সমস্য সুরাহার ‘ফর্মুলা’ জলবৎ:— বাস্তবায়ন মহাকষ্ট তদিচ অসম্ভব নহে: বস্তুত বিশ্বে প্রবিধ সন্দরশন মনু-মুক্তি লক্ষ্যে, আসিয়াছে। তাহারা কেহ ক্ষুদ্র হইয়াছে, বলপ্রয়োগও করিয়াছে কেহ; আমাদিগকে ‘বল’ হইতে সরিয়া ভাবিতে হইবে— সমূহ জাতির সংস্কৃতিতে সম্মান রাখিয়া ভাবিতে বসিতে হইবে: একক-মনুকেও বাসিতে হবে ভালো, সে জীবিত, সুন্দর রোক, এরূপ...

আন্তঃসংযোগ, সুবৃহৎ কর্মকাণ্ড, পরিচালনের সক্ষমতা অর্জিতে হইবে: জাতিতে-জাতিতে মহাসম্মিলনের সম্ভাবনায় চিন্তন-নিবিষ্ট ‘একটি দফায়’ উপনীত হইতে হইবে; যাহার অর্থ, কোন জাতির বিলীয়মানতা নয়; জাতি,-জাতি, শব্দমধ্যে ‘জাতি’ বিদ্যমানই রহিয়াছে; রহিবে; রহিলে,ও আরসহিত মিলিলেই, মোরা এক এক জাতির আপনত্ব অধিক অবলোকন করিতে পারি: বিশ্বের সুবৃহৎ ইভেন্টগুলিনে (অলিম্পিক ইত্যকার) যাহা দৃষ্ট:।— তবে, কি, মোরা করিবো—? ধীর কার্য্যপ্রণালীতে আসা যাউক—

বাঙ্গালীর আত্মউপলব্ধি ল’য়ে প্রচল যে— দন্ত থাকিতে সে তাঁহার মর্ম বুঝিবে না : আবিষ্কার হইলো— সে ‘হুজুগে’। জনিত পুনঃ পুনঃ ঐতিহ্যস্পর্শী হইয়া সে জাগিয়া উঠিয়াছে। এককালের পৃথ্বীর দ্বিতীয় বৃহৎ নগরী কোলকাতা বিস্তরবার এরূপ ঘটনার সাক্ষী: ধারণা যাইবে কোলকাতা আবারো বাঙ্গালিত্বে জাগরূক হইবে। বাংলাদেশে মোরা দেখিয়াছি খৃষ্টীয় নতুন বর্ষ পালনের জোয়ারের তুলনে পহেলা বৈশাখ হারাইয়াই গিয়াছিলো। পাড়াভিত্তিক সমাজে আপন বৃক্ষের ফুলমাত্র এ, তাঁহাকে, দিতেছে: নকশাকাটা পাতলা রঙিন কাগজের ফুরফুরে সজ্জায় দোকানগুলিনে লুচি মিষ্টান্নে হালখাতা চলিতেছে; তদুপর পহেলা বৈশাখ মরিয়াই গিয়াছিলো, অথচ আজিকে জাগিয়া উঠিয়াছে সমগ্র বাংলাদেশ; এখন এহাই সকল বাঙালীর বৃহৎ ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব। আজিকে দিবসটি দুবাঙলায় দুদিবসে বিস্তারিত হইয়াছে; হউক, আশা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা মণিপুর আসাম বিহার ফের জাগিয়া উঠিবে; উঠিলে দিবসটি দু’দিবসযামে বর্ধিত হইবে। সার্বজনীন দুর্গাপুজোৎসবে ইছামতিতে যেরূপ দুবাঙলা মিলিয়া যায়, সীমানা উন্মোচিত হইয়া পড়ে, এহা পালনে সে সম্ভাবনা থাকিবে; প্রবাসের বঙভাষীগণ এহা জারিই রাখিতেছেন...

তাহা হইলে এই উৎসবকে একটি ‘উৎস-কর্ম’ বলিয়া বিবেচনা করা যাইতে পারে; কেন বঙওয়ালীগণের মিলনপ্রয়াস জরুরী পূর্ব্বে লোচিয়াছি। মোরা জানি পৃথ্বীর বিপুল ধর্মগুনোন এশিয়াউৎপন্ন; ও ভারতবর্ষ উৎপন্ন ধর্ম্মমত পূর্বএশিয়া জুড়িয়াও বিস্তৃত। জনিত, রাজনৈত্য-দরশন অবধি এ স্থান হইতে ছড়ায়া নূন্যাধিক এশিয়ার আশ্রয় হইতে পারে, ও, এ পরিক্রমে পৃথ্বীর মুক্তির স্বপন হইবে স্পর্শ সীমানার নিকট।

মোরা অবগত বৈচিত্র্যময় জাতি রহিয়াছে এশিয়ায়— তাহার মিলিত আর্থ-সামরিক শক্তিও সুবৃহৎ। তাহা হইলে বহির প্রয়োগকৃত এশিয়ার আন্তঃদেশ ও দেশমধ্যে, আপনে-আপনে লড়াই কাটায়ে উঠাইতে হয়। ভারতের রহিয়াছে বিপুল ভাষা, জাতি গোষ্ঠী সমন্বয়ে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনের অভিজ্ঞান। জনিত সমগ্র এশিয়াকে একটি ইউনিয়নের ছাতাতল আনিবার মনঃস্থিরতা তাহারই রাখিতে হইবে; কর্মটি অসম্ভব, ও অবাস্তব প্রারম্ভে এই বোধ উদিত হইতে পারে। তবে তথ্য প্রাগ্রসরতা তাহা বলিবে না: যেমতো কলোনি স্থাপনকারী জাতিসমূহ তাঁহার দেব চৈতন্যের আরো আরো বিকাশ মার্ফৎ এয়োরোপিয়ান ইউনিয়নের জন্ম দিয়াছে— তেমনি ছায়াচ্ছন্ন আফ্রিকাও ইউনিয়ন সুগঠন করিয়াছে:

মোরা আর-আরের ছিদ্র অন্বেষণকরতঃ তৃপ্তি পাইতে চেষ্টা পাইবো- না যে— এই সে দিবসে এ্যামেরিগো রাষ্ট্রপ্রধান বারেক মিঞা জাপানে গিয়া চীনের সহিত তাহার উপদ্বীপসমূহ লইয়া বিরোধে তাহাকে (জাপান) সহযোগ দিবার ঘোষণা দিয়াছেন; কেননা এহাতে চিত্ত রিরংসাপ্রবণ হইবে : কেননা এশিয়া, ল্যাটিন অ্যামেরিকা, আফ্রিকায় বাহ্যপ্রস্তুত বিরোধ জারি রাখা হয়... এহার অর্থ এইও নহে যে স্বঅধীন দেশ জাতি মধ্যে জাতয়ীতাবাদ প্রসূত কোন কলহ সৃষ্টি হয় না; মোরা ওয়াকিবহাল, কলহ, ‘দৃষ্টিভঙ্গী’ প্রসূত; জাতিবোধ অহং উৎভূতঃ : ও বলপ্রয়োগের পারস্পরিক দ্বৈরথ তাহার হাওয়া— এ হাওয়া বহির হইতে বৃদ্ধি করা সম্ভব। মাত্র হাওয়া নহে, মোরা এশিয়ায় বহিরের বল প্রয়োগের ঘাঁটি ও তাহার প্রয়োগ বেশ দেখিতেছি; দেখিলে জিঘাংসার বিকাশ ঘটিতে পারে, তাহা হইলে এশিয়ার মা বাপ কেহ নাই!... ও যে যাঁহার আপনাপন তরিকায় দখলদারী চালাইয়া যুদ্ধ, অস্ত্র, বুদ্ধি, কৌশল্যযোগ বাঁচিয়া রহিয়াছে...। এই স্থানেই নীতিভিত্তিক সুরাহা হইয়া, প্রস্তাব চালাচালি চলিতে পারে:

এ কার্য্যে ভারতকে ব্যস্ত রাখিতে পারে বাংলাদেশ; আমারদিগের দেশে যে সকল বুদ্ধিজীবীগণ রাজনীতির মূল্যায়ন, ও সুক সুবিধা অভিপ্রয়াসী; যাঁহারদের জীবন সরকার, বিরোধীদল, ভোট-গণতন্ত্র লইয়া কাটিয়া যাইতেছে তাঁহারদের মধ্যেও মহত্তর কেহ কেহ সরকার বাহাদুরকে কহিতে পারেন, “সার্কের স্বপনদ্রষ্টারূপে আপনারই শোভন আরো উচ্চতর চিন্তন করা, আপনি সার্ক মাধ্যমে ভারতকে পুনঃ পুনঃ তাগাদা দিয়া আরবলীগ, আসিয়ান, কে ‘একজোট চিন্তনে’ আবদ্ধ করিবার মহাপ্রয়াস চালাইয়া যাউন,” এ ম্মুহূর্তেই... কার্য্যক্রমের ইশারা সূত্রপাতেই ‘সাচ্চা-সমর্থক’ রূপে দু’ বাংলার সাংস্কৃতিক সংহতি, কাজে লাগিবেক।

পশ্চিমবঙ্গে যে সমগ্র রাজনীতিবিদ মাত্র-শুধু অধিকতর ক্ষমতানিষ্ঠা— অর্থাকাঙ্ক্ষায় বেলা নিপাত না করিয়া আমজনতা, মনুষ্যসংস্কৃতি দরুন চিন্তামগন থাকেন, যাঁহারা আপনাপন দল-দেশ ভালোবাসিয়া জগৎ মনুর ভাগ্য উন্নয়নে কার্য্য করিতে চাহিবেন, তাঁহারা, ও আমারদিগের এস্থানের অনুরূপ যদি কেহ থাকেন, তাঁহারা-এতদুভয়, বাঙালি সংস্কৃতির নোতুন জাগরণ ঘটাইতে সহযোগ দিয়া, সিদ্ধ হইবেন।— তাঁহারদেরকে, দল, কেন্দ্র, সহিত, সওয়াল জওয়াব করিতে সক্ষম হইতে হইবে, যাহাতে ‘কেন্দ্র’ তাঁহার ‘মানস-স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখিতে পারিবে, তাহাতেই ‘এককে বাঁচিয়া বিরাজিবো সুখ’ হইতে উপলব্ধ আরস্থান বিচরিবে;— জল নদ সমস্যা নগণ্য হইবে: আমারদিগের লোচনা সমাপনে এ সমস্যা ফুরাইয়া আসিবে।

ইতোহাসে মোরা প্রলখি যে দু‘সংঘাতময়’কে আরো বৃহতে আসিয়া ‘মিল’ করায়ে দেয়— এবং প্রলখি যে দু বৃহৎ বিবাদমনস্ককে ক্ষুদ্রের মধ্যস্থতায় ঐক্যলাভ করিতে:— বাংলাদেশ যদ্যাপি ভারত, চীনকে জোড়-কার্য্যে ভূমিকা রাখিতে থাকিবে— সার্ক তেমন ভাবে— আরবলীগ, আসিয়ান-মধ্যে আন্তঃযোগ ঘটাইতে প্রয়াসী থাকিবে—

তদনন্তর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গিয়া যেরূপ লাটভিয়া, লিথুনিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ, বসনিয়া, হার্জেগোভিনা, এস্তোনিয়া বিবিধ নবসৃজিত রাষ্ট্র এয়োরোপমধ্যে পড়িয়াছে তদ্রুপ একই সোভিয়েত হইতে উৎপন্ন কাজাকস্থান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্তান এশিয়ার নোতুন অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্র হইয়াছে; এহাদেরো তাহা হইলে লোচনা আওতাধীন করিতে হয়। রাশিয়া আমাদিগের ইউনিয়নভুক্ত হইলে সুবিধা বাড়িবে— তাহার সুবৃহৎ ইউনিয়ন গঠিবার ভাঙ্গিবার উভয় অভিজ্ঞান রহিয়াছে; তুরস্ক ইতোমধ্য আইন কানুন ঠিকঠাক উপযোগী করিয়া এয়ারোপীয় ইউনিয়নভুক্ত। রহিলো আরবলীগভুক্ত, লেবানন, জর্ডান, সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, ইয়েমেন, ওমান, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার আর ফিলিস্তিন, এশিয়ারই অংকে ইজরাইল; চিন্তন করিবামাত্র ক্ষিপ্ত হইলে সমস্যা সমাধান হইবে না; ধীরক্রমে আপনার মনঃস্থাপন ঠিক করিলেই দেখা যাইবে পৃথ্বীর রাজনৈতিক কুজ্ঝটিকা সরলে কাটিয়া যাইতেছে; কি কারণে আমারদিগকে এরূপ আটকিত, ক্ষিপ্ত, জাতীয়তাবাদী, গড়িয়া রাখিবার ‘কারণ’ উৎঘাটন হইবে।— লক্ষ্য করা যাইবে বিলেত অদ্যাবধি এয়োরোপ ইউনিয়নভুক্ত হয় নায়, মনে রাখিতে হইবে— তাহারা পূর্বেই যুক্তরাজ্য; তাহারদের আর্থিক ভালো-ভাব মনে রাখিবো, ও আইরিশ প্রজাতন্ত্রের প্রাপ্ত স্বঅধীনতা, তাহারদের পুরাতন স্বঅধীনতা সংগ্রামের ইতোহাস, ভুলিলে চলিবে না।

তাহা হইলে সার্কের নোতুনভুক্ত আফগানস্থান, হইতে শুরু করিতে হয়— এবং আফগান রিপোর্টে বহিরজগতের সামরিক উপস্থিতি মনে রাখিতে হয়, ও, এশিয়াবাসী মিলিয়া আফগান সমস্যা সমাধা করিতে পারিতেছে:— এ কল্পন আকাশকুসুমও নহে। যাহা, এ্যামেরিগো সহিত আফগান প্রসঙ্গে-যুক্ত, পাকিস্তান সম্ম্যক; মোরা তথ্য তুলিয়া রাখি। তাহারা সার্কভুক্ত।— এরপর বুদ্ধজন্মস্থান নেপাল বুদ্ধের ধর্ম্ম প্রসারণস্থল— ভারত, ভুটান, সিকিম, বার্মা— ব্যতিত, এসলাম বিকশিত মালদ্বীপ, বাংলাদেশ, সনাতন মত পথের বৈচিত্র্যময় দ্বীপদেশ শ্রীলংকা;

এহার পর পুরাতন শক্তিশালী যুদ্ধবলশালী দেশ মঙ্গোলিয়ার উল্লেখ করিয়া আসিয়ানভুক্ত ও আরদেশের কোটা পূরণ করিয়া প্রসঙ্গে ফিরিবো; চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, উ. কোরিয়া, দ. কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাপুয়া নিউগিনি, কম্বুচিয়া, ব্রুনেই, পূর্ব তিমুর এসব...

ল্যাটিন অ্যামেরিকা, আফ্রিকা মহাদেশ যুগলের যে বোধোদয় এশিয়ার তাহা হইতেছে, হইয়াছে, ধরিয়া, লোচনা চালু রাখা যায়; যাহার জনসংখ্যা সর্বাধিক, ভূমির পরিমাণ সর্বাধিক সমুদ্রসীমা অনুরূপ, প্রাকৃতিক সম্পদ সবচেয়ে বেশী, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলনারহিত— বুদ্ধিবৃত্তি, বিজ্ঞান, একেবারে ডাউলভাত বলা যাইবে না,— দারিদ্র্য? ক্ষেত্র কয় দেশে রহিয়াছে; আফ্রিকা হইতে উন্নত বলা যাইবে; পরবর্ত্তীতে: বিশ্বের দারিদ্র্য, মনু,- মুক্তির মডেল—

যদিচ ‘বাণিজ্য’ করপোরেশনগুনোনের ‘আন্তঃকাঙ্ক্ষা’ রাজনীতি, সংস্কৃতি বা যে কোন বিন্দু হইতেই এ ‘যাত্রা’ আরম্ভ হইতে পারে,— ও বিস্তর নীতিতে প্রতিজ্ঞা জ্ঞাপন করিয়াও— তাহা অপসারিত হইয়া,— মনুর মহাকারাগারে এ ইউনিয়ন-বন্দোবস্ত রূপান্তরিত হইতে পারে;— তদুপরও, ধারণা রাখিতে হইবে মনুর বন্য, ক্ষুদ্র গোত্র-দলভুক্ত যাপনের, পরবর্ত্ত বিকাশের অনিবার্য্য বৈচিত্র্যশীল প্রকাশ সক্ষমতার মাধ্যমেই এই পথে সকলের চলিবার উপযোগ সৃষ্টি হইবেক:— পরও, প্রারম্ভ প্রশ্ন আসিবেক, এশিয়ার মোট অস্ত্রের কি হইবে ব্যবহারবিধি?;— ও, সকল দেশ-জাতির সুসাধারণ দরিদ্রের নিমিতে ‘অর্থনীতি’র দৃষ্টিভঙ্গী হইবে কিরূপ!; প্রকৃতি, ‘শুদ্ধ’ থাকিতে পারিবে কিনা, পারিলে, কাহারা হইবে উপভোক্তা তাহার? শিক্ষা-সমুদায়, কি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যগুলিকে রক্ষা করিতে পারিবে?— বস্তুত রাষ্ট্র ও ইউনিয়নের অধিকারসীমা ও বলপ্রয়োগের পরিসীমার মানদণ্ড হইতে হইবে পূর্ব্ব-প্রস্তুত;— ধারণা যাইবে— এ বন্দোবস্তে অপরাধ চক্রেরও হইবে পোয়াবারো; যদিচ এহাও সত্য আজিকার কঠোর সীমানা বন্দোবস্ত সত্ত্বেও অপরাধ রাষ্ট্রসীমা অতিক্রমী। যাহা হউক রাষ্ট্রব্যবস্থা যোগ মহা এশিয়ান ইউনিয়নের সমুদায় টেকনোলজি (পরিবিজ্ঞান/প্রযুক্তি) ও সমগ্র অপরাধ চক্রের যুক্তপ্রযুক্তি— তজ্জনিত প্রায়োগিক বলের সীমা— ইত্যকার মীমাংসা এয়োরোপিয়ান ইউনিয়নে পাইবো,— আপাততঃ সম্ভাবনার অভিলক্ষ্যে অধিকতর লোচনায় যাইবার প্রারম্ভে তদিচ, কুফা এলাকাগুলিন স্মরণে রাখিলাম; এ প্রসঙে,— বাহুল্য বলা যে— আমারদিগের এরূপ লোচন চলিতে রহিলে অবশ্যম্ভাবী এক শ্রেণীর নঞর্থক লোচক মহোদয়গণের আবির্ভাব ঘটিবে; এবং নিকট-পূর্ব্ব ‘উল্লেখ্য প্রসঙ’ মারফৎ আমাদিগকে পাড়িয়া ফেলিতে চেষ্টা পাইবেন— তাঁহারা রূঢ় কঠোর ন্যাশনালি — বা ক্ষুদ্র চিন্তন হৃতের অধিকারী কালসীমায় বসতী গড়িয়াছেন বলিয়া কিঞ্চিতোধিক রূঢ় বলিবেন। তাঁহারদের ভুলিয়া আমারদের ধনাত্মক রহিতে হইবে। মনুর অবাধ সঞ্চালন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে, ‘আস্তানা’ কয়কাল কসরতে, কঠোর সড়কে, শুদ্ধ রাখিতে, শ্রম দানিতে, অবিচল থাকিতে হইবে—

লেখটিকে সাতিশয় প্রলম্ব, অতি ইতোহাস, ও যুক্তি নিগড়ে ভরপুর রাখা মোর উদ্দেশ নহে: কথামোটে এরোম মহতি সুবৃহৎ প্রকল্পের পাঁয়তারা অব্যাহত রাখিতে পারিলেই ধারণা করা যাইতেছে, এক একটি দেশের অন্তরে থাকা বিবিধ জাতি, স্বঅধীনতাকামী আত্মবঞ্চিত ভাবনায় আচ্ছন্ন ও বিশেষতঃ দরিদ্র জনমণ্ডলীর গায়ে মুক্তির পরম হাওয়া লাগিতে থাকিতে পারিবে। যাহাতে রাষ্ট্রসমূহের স্বঅধীনতা সার্বভৌমত্ত্ব ল’য়ে অধিক-চিন্তন কুমিয়া আসিবে। নৃপতিগণের আর আর দেশের জনগণ প্রতি মহব্বত বৃদ্ধি পাইবে, প্রাকৃতিক সম্পদ ন’য়ে লড়বার বা নিজ জনগণের জন্যেই মাত্র কুক্ষিগত করবার মরিয়া প্রচেষ্টায় ‘ভিন্ন-মাত্রা’ পাইবে—।

কি পদ্ধতিতে কার্য্যটি করা যাইবে তা সহজ অনুমেয়— সরকার নিয়োজিত আমলা, বিশেষজ্ঞ বা জনপ্রতিনিধি বা বিদ্যোৎ-সুশীল সমাজগণে গঠিত দল— সরকারী ব্যয়ব্যসনে কার্য্য সম্পাদনের পন্থা, জনিত, গোএষণা ও কর্ম্মপ্রয়াস চালু রাখিবেন; এয়োরোপিয়ান ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়নের মডেল, তাহারকার নথিপত্র লক্ষ্য রাখিলে তাহা জলবৎ সহজ হইবে,— পর, সবের আইন ব্যবস্থায় সাম্য আনিতে হইবে, অমুকে এই দোষি, তমুক দেশের সেই সমস্যা, এ আলাপে বেলা কাটানো যাইবে না। আফ্রিকার ঝামেলা আমারদিগের হইতেও কম কিছু নহে। যা হউক আফগান সমস্যা বা দু’কোরিয়ার মিলনের স্থানটি, বা মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া দেশগুলির বিচ্ছিন্নতা, লক্ষ্য করিলেই পরিষ্কার হইবে যে, বহির— কলোনি ভেদবুদ্ধির প্রভাব, নাগপাশ হইতে এশিয়াকে বড়মনু ন্যায় উপলব্ধি ল’য়ে, দাঁড়াইয়া পড়িতে হইবে মাত্র। যাত্রা আরম্ভ করিলে, সমস্যা কাটিতে শুরু হইবে— সমস্যা কাটিলে, নোতুন ইউনিয়নের আপন শক্তির ঐক্যে, নীতি-ভিত্তিক-বিধে, পৃথ্বীর দেশ সকলের প্রতি দৃষ্টি রাখিতে হইবে:— বিশেষতঃ হুটহাট বেনিয়া কারণে যেন কেহ বহির শস্ত্র আক্রমণের শিকার না হয়েন সে লক্ষ্যে। যুদ্ধ উন্মুখ বা ভিখারি-বেশে নহে, বিশ্বের বৃহৎ ও গভীর মনুমুক্তির দরশনের স্রষ্টার নোতুন দায়িত্বে থির অবিচল র’য়ে... বাংলা ভারত ভুটান নেপাল হইতে এ স্পন্দন চীন হ’য়ে তরঙ্গায়িত, ঐ দেখিতে পাইতেছি— দারিদ্র্য ও শোষণ, মোড়লি ও যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব তৈয়ারী হইতেছে, মোরা পহেলা উৎসব আরম্ভ পারি।...

: জগতের মুক্তিপিয়াসী ও পৃথ্বীর ভাষাপ্রেমী মৃত জীবিত-গণকে লেখখানি উৎসর্গীকৃত :

লেখক : চিত্রকর, ভাস্কর ও ভাষাশিল্পী

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

মুক্তমত এর সর্বশেষ খবর

মুক্তমত - এর সব খবর