thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫,  ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

অনুবাদ কবিতা

২০১৫ এপ্রিল ১৪ ১৫:১১:০৪
অনুবাদ কবিতা ॥ হাইনরিশ হাইনের ৪ কবিতা

অনুবাদ : সৈয়দ তারিক

[ক্রিশ্চিয়ান যোহান হাইনরিশ হাইনে (জার্মান: Christian Johann Heinrich Heine) (ডিসেম্বর ১৩, ১৭৯৭-ফেব্রুয়ারি ১৭, ১৮৫৬) ছিলেন জার্মান কবি, সাংবাদিক, গদ্যকার এবং সাহিত্য সমালোচক। জার্মানির বাইরে তিনি মূলত প্রথমদিকের গীতধর্মী কবিতাগুলোর জন্য জনপ্রিয় হন। তার কবিতাগুলো পরবর্তীতে রবার্ট স্যুম্যান ও ফ্রেঞ্জ স্যুম্যানের মত বিখ্যত সঙ্গীত পরিচালকরা কম্পোজ করে সঙ্গীতে রূপান্তর করেন। তার অনেক কবিতা রাজনৈতিক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপময় হওয়ায় জার্মান সরকার সেগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তিনি তার জীবনের শেষ পচিশ বছর ফ্রান্সে নির্বাসনে কাটান এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৬ সালে পরলোক গমন করেন। -সূত্র : উইকিপিডিয়া]

সাইকি

হাতে তার জ্বলে ছোট লণ্ঠন

প্রেমাবেগ তার সারা বুকজুড়ে,

সাইকি গোপনে শয্যাপ্রান্তে

দ্যাখে প্রিয় তার ঘুমায় কী করে।

লজ্জায় লাল হয়ে কেঁপে ওঠে

দেখে অপরূপ তার দেহখানি,

সুবিদিত সেই প্রেমের দেবতা

জেগে ওঠে আর পালায় তখনই।

প্রায়শ্চিত্তে আঠারো শতক!

সাইকি কষ্টে হলো ক্ষীণকায়,

শাস্তি নিল সে যেহেতু দেখেছে

নগ্ন শরীরে প্রেম চমকায়।

গাছ

হেমলক গাছ একাকী দাঁড়িয়ে থাকে

উদীচীর পারে এবড়ো থেবড়ো পাহাড়ে;

ঝিমায় সে আর বরফ, তুষারপাত

ঢেকে দেয় তাকে শৈত্য ও শাদা বাহারে।

স্বপ্নে দ্যাখে সে যুবতী খেজুর গাছ

সঙ্গবিহীনা বাঁচে নিরাশার সাথে;

সুদূর প্রাচ্যে সে-গাছ বিলাপময়ী

সূর্য-গ্রাসিত শিলাময় ঢালু পথে।

ধীবর-যুবতীকে ওহে সুন্দরী ধীবর-যুবতী,

তীরে নিয়ে এসো তরণী তোমার,

আমার নিকটে এসে বসো পাশে

হাতে হাত রাখো সুখে নির্ভার।

আমার এ-বুকে রাখো তুমি মাথা,

আমার জন্য পেয়ো না গো ভয়-

যেহেতু নিত্য বিশ্বাসে ঘোরো

চির অবাধ্য সমুদ্রময়।

আমার হৃদয়ও সাগরের মতো

আছে তাতে ঝড় ভাঁটা ও জোয়ার,

এবং রয়েছে সুশ্রী মুক্তা

সুগভীর তলে-অগণ্যতার।

রূপক

কুচকুচে কালো পাল তুলে দিয়ে

ছেড়েছি জাহাজ

উত্তাল এই সাগরের বুকে,

তুমি তো জানোই গাঢ় বেদনায়

আছি বিমর্ষ-

যন্ত্রণা দাও তবু কৌতুকে।

বাতাসের মতো তোমার হৃদয়ও

অবিশ্বাস্য :

ঝাপট মারে সে পিছনে-সমুখে;

কুচকুচে কালো পাল তুলে দিয়ে

ছেড়েছি জাহাজ

উত্তাল এই সাগরের বুকে।

বিপর্যস্ত আবহাওয়া

জলবাতাসের দুর্দশা এ কী!

বৃষ্টি ও ঝড় এবং তুষার,

জানালার পাশে বসে বসে দেখি

নিচেই জমাট কী অন্ধকার!

সঙ্গীবিহীনা ঝিকমিকে আলো

ধীর পায়ে যায় সরণি বেয়ে,

লণ্ঠন হাতে বৃদ্ধা জননী

টলে টলে হাঁটে শিথিল পায়ে।

বুঝি সে কিনেছে ময়দা ও ডিম

এবং মাখন, সে চায় বানাতে

আরেকটি কেক, আজকে রাতেই,

প্রিয় সে ডাগর মেয়েকে খাওয়াতে।

দোলনায় মেয়ে আলুথালু শুয়ে

ঘুমঘুমে আড়চোখে দ্যাখে আলো,

সতেজ মধুর মুখটিকে ঘিরে

স্বর্ণাভ চুল বাঁকা, জমকালো।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সাহিত্য এর সর্বশেষ খবর

সাহিত্য - এর সব খবর