রবিউল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : জুন মাসের ১ তারিখে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হচ্ছে প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হককে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এসিসির ক্ষমতা নিজের কুক্ষিগত করছে। এই অবস্থায় এশিয়ান ক্রিকেটে যে উন্নয়ন প্রোগ্রাম ছিল সেগুলো হুমকির মুখে পড়বে। তাই তো সৈয়দ আশরাফুল হকের শঙ্কাটাও অমূলক নয়। শুক্রবার ডাচ-বাংলা অডিটোরিয়ামে ‘ক্রিকেটের নির্মাণ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে দ্য রিপোর্টের সঙ্গে আলাপকালে আশরাফুল হক এসিসি ও আইসিসি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তারা (আইসিসি) এখন টাকা পয়সা ছাড়া কিছু বোঝে না।’

ক্রিকেটের যে বিশ্বায়ন, এসিসি ভেঙে দেওয়ার পর এটা কতটা সফল হবে- এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, যারা ক্রিকেটের শীর্ষে আছে তারা কেউই চায় না ক্রিকেটে বিশ্বায়ন হোক। তারা চায় ক্রিকেট ১০টা দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। হয়তো আরও ১৫-২০ দেশ ক্রিকেট খেলবে। কিন্তু ক্রিকেটে বিশ্বায়ন কোনোদিনই হবে না। কেননা বাকি দেশগুলোর আর্থিক সীমবাদ্ধতা আছে। আইসিসি এটা মেনে নিতে পারবে না। তারা (আইসিসি) এখন টাকা পয়সা ছাড়া কিছুই বোঝে না।’

এসিসির উন্নয়ন কার্যক্রম যেভাবে চলেছে, সেটা হুমকির মুখে পড়বে কিনা- এ প্রশ্নে সৈয়দ আশরাফুল হক বলেছেন, ‘এগুলোর (এসিসি) দায়িত্ব নিয়েছে আইসিসি। তবে কতদূর সফল হবে এটা আমি ঠিক বলতে পারছি না। পুরো ক্রিকেটই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তারা কাজগুলো ঠিকভাবে করতে পারবে কিনা, এ ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আমরা মন দিয়ে, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজটা করতাম এশিয়ার অঞ্চলগুলো নিয়ে। এখন ওরা কী করবে এটা সময় হলেই দেখা যাবে। আমার মনে হয়, উন্নয়ন কাজগুলো ব্যাহত হবে।’

বিগ ৩’র (ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড) মাতব্বরি ক্রিকেটকে হুমকির মুখে ফেলছে কিনা, এক্ষেত্রে আপনাদের কিছু করার আছে কিনা- এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই। এটা আইসিসির সিদ্ধান্ত। আমরা যে অর্থটা পেতাম এটা আইসিসি আগামী অর্থবছরে আর দেবে না। কারণ এই অর্থটা চলে যাবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের কাছে। সেক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে কাজগুলো করা আর সম্ভব নয়।’

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এশিয়া কাপ আয়োজন হবে, তা এসিসিই করবে। এসিসির ২ জন স্থায়ী লোক থাকবে। তারা এই বিষয়ে কাজ করবে। এশিয়া কাপটা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে।’

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্বাগতিক হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু- এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ২ বার হয়ে গেল পর পর। অন্য দেশগুলোও চায় আয়োজক হতে। এবার এশিয়া কাপ টোয়েন্টি২০ ফরম্যাটে হবে। কোথায় হবে এখনো ঠিক হয়নি। তবে মার্চ মাসে হবে এটা নিশ্চিত। দুবাইয়ে হওয়ার একটা সুযোগ রয়েছে।’

উল্লেখ্য, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রিকেটের প্রসার ও উন্নয়নের জন্য ১৯৮৩ সালে গঠিত হয় এসিসি। শুরুতে এর নাম ছিল ‘এশিয়ান ক্রিকেট কনফারেন্স’। বাংলাদেশসহ এর সদস্য ২৫টি দেশ। ক্রিকেটে ক্রমেই এশিয়ার দেশগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি মূলত এসিসিরই অবদান। টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা এশিয়াতেই বেশি। এর পরও কেন এসিসির বিলুপ্তি প্রয়োজন, সেটিই প্রশ্ন।

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/কেআই/এজেড/মে ২৯, ২০১৫)