দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে : ক্রিকেট মাঠে তো কত রকমের আউট দেখা যায়; তবে বলের আঘাতে ব্যাটসম্যানদের স্ট্যাম্প উড়তে দেখে বেশি মজা পান বোলাররা। এই দৃশ্যে উচ্ছ্বসিত হোন খ্যাত-অখ্যাত সকল বোলারই। বাংলাদেশের তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানও এর ব্যতিক্রম নন। মঙ্গলবার বাংলাদেশের ৭৮তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট অভিষেক হয়েছে বাঁহাতি এই পেসারের। আর অভিষেকের দিনটিতেই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ ব্যাটসম্যানকে প্যাভেলিয়নের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। এদের মধ্যে মুস্তাফিজের বলে কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প বাতাসে ভাসার দৃশ্যটা ছিল দেখার মতো।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাই তো মুস্তাফিজ বললেন, ‘ব্যাটসম্যানদের স্টাম্প উপড়ে দিতে ভাল লাগে। এর স্বাদটা ভিন্ন রকমের।’

ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকেই হৈ চৈ ফেলে দিয়ে রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। টেস্টেও তার অভিষেকটা হল স্বপ্নের মতোই। মঙ্গলবার শুরু হওয়া চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে নিজের প্রথম তিন স্পেলে তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে ৪র্থ স্পেলে এক দুর্দান্ত ওভার করে তুলে নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ৩ উইকেট। যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশকে দিয়েছে কমান্ডিং পজিশন। ম্যাচে মোট ৪ উইকেট শিকার করা মুস্তাফিজ অবশ্য সেরা হিসেবে এগিয়ে রাখছেন হাশিম আমলার উইকেটকেই।

মুস্তাফিজ বলেছেন, ‘হাশিম আমলার উইকেটটি বেশি আনন্দ দিয়েছে। কেননা, এটি আমার প্রথম টেস্ট উইকেট; তাও আবার হাশিম আমলার মতো একজন ব্যাটসম্যানকে আউট করে। আমি অনেক রোমাঞ্চিত।’

এ দিন দুই পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজ অভিষিক্ত; আর তার সঙ্গী মোহাম্মদ শহীদ খেলেছেন গুটিয়ে কয়েক টেস্ট ম্যাচ। আরও অভিজ্ঞ কোনো বোলিং পার্টনার পেলে কি আরও বেশি সাফল্য পাওয়ার সুযোগ থাকত? এ প্রশ্নে মুস্তাফিজ বলেছেন, ‘শহীদ ভাই অসাধারণ বোলিং করেছে। পুরো দলই আসলে দারুণ বোলিং করেছে। আমাদের দুই জনের পরিকল্পনা ছিল যত সম্ভব ডট বল করা। কেননা, তাতে করে উইকেট আসবেই।’

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/জেডটি/আরকে/জুলাই ২১, ২০১৫)