এম এ কে জিলানী, দ্য রিপোর্ট : রাজধানীর গুলশানের কূটনীতিক এলাকায় গত সোমবার গুলিতে তাভেলা সিজার (৫০) নামে ইতালীর এক নাগরিক দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিদেশী কূটনীতিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ঢাকা নিরাপদ নয়, ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার ওই খুনের ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই। এরই মধ্যে ইতালীর নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করতে কাজ শুরু করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। পাশাপাশি ঢাকার কূটনীতিক এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ নয়।

অস্ট্রেলিয়ার ঢাকা মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বাংলাদেশে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশকে দেশটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে। এ জন্য দেশটির জাতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশে অবস্থানরত অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই মুহূর্তে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

জার্মানীর ঢাকা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মিশনটি এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে জানায়, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সামনের সপ্তাহে দেশটির একটি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। এই সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ওই সফর স্থগিত হতে পারে।

ঢাকার যুক্তরাজ্য অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দেশটির পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ারের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সফর না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ঢাকা অফিসের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা ফৌজিয়া ইউনিস-সুলেমান বৃহস্পতিবার দুপুরে দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ঢাকার কূটনীতিক এলাকায় চলতি সপ্তাহে ইতালীর এক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় যুক্তরাজ্য মনে করছে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। তাই পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ারের আসন্ন বাংলাদেশ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বিকেলে জানিয়েছে, ইতালীর নাগরিক হত্যার ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। ইতালীর নাগরিক হত্যা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদশের নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বিদেশীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ঢাকার কূটনীতিক অঞ্চলে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কূটনীতিকপাড়ায় গুলি করে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে দূতাবাস এলাকায় যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের রেড এ্যালার্ট জারি বা বাংলাদেশকে নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানি না। একজন বিদেশী নিহত হলে যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে বিদেশী মিশনগুলো রেড এ্যালার্ট জারির কথা বলে। কিন্তু নিউইয়র্কে কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুলসহ এ পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। তাতে কি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে আমাদের দূতাবাসগুলো রেড এ্যালার্ট জারি করেছে?’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হত্যায় বাংলাদেশে আইএস বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠন সসম্পৃক্ত আছে- এমনটা আমি মনে করি না। এই খুনের সঙ্গে আইএস বা অন্য কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ত থাকার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আমাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে কেউ একজন দাবি করেছে, হত্যাকাণ্ডটি আইএস ঘটিয়েছে। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি।’

(দ্য রিপোর্ট/জেআইএল/এজেড/এইচএসএম/অক্টোবর ০১, ২০১৫