দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : শেয়ার কারসাজির ঘটনা দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ট্রাইব্যুনালের এ ক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে এ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত চেয়েছে বিএসইসি।

এ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত পেলেই ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুমায়ুন কবীরের (জেলা ও দায়রা জজ) কাছ থেকে বর্তমান আইনে বিচার কার্যক্রমে কী কী প্রতিবন্ধকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে। সবার মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়গুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালকে অবহিত করা হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে যে কোনো কারসাজির ঘটনা বিচারের লক্ষ্যে নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের করে বিএসইসি। নতুন এ আইন প্রণয়ন হলে বিএসইসি নিম্ন আদালতে না গিয়ে সরাসরি আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান জানান, শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। তবে বর্তমান আইনে এ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের করা যাবে কী-না সে বিষয়টিতে কিছু বলা হয়নি। তাই ট্রাইব্যুনালকে আরও শক্তিশালী করতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ সংশোধন করা হয় ২০১২ সালে। ওই অধ্যাদেশের ২৫ ধারায় আরও একটি নতুন ধারা ২৫ (বি) সংযোজন করে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা কথা বলা হয়।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরসরি মামলা দায়ের করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তবে অইনী বাধ্যবাধকতার কারণে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে কমিশন। সে সময় সরাসরি মামলা করা প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে কমিশন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেজ্ঞ আবু আহমেদ দ্য রিপোর্টকে বলেন, নিম্ন আদালতে না গিয়ে সরাসরি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলার দায়ের করার আইন প্রণয়ন হলে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে। ফলে মামলাগুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকবে না।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/এইচএসএম/এনআই/অক্টোবর ৩, ২০১৫)