দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবির) সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীর মধ্যবাড্ডার গোদারাঘাটে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে পরিবারের অন্য সদস্যদের জিম্মি করে খিজির খানকে গলা কেটে হত্যা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যবাড্ডার জ-১০/১ নং বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ওই খুনের ঘটনা ঘটে। বাড়িটির তিনতলাও তছনছ করে দুর্বৃত্তরা।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল জলিল দ্য রিপোর্টকে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে এ হত্যার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্যবাড্ডার সাততলা বাড়ির তিনতলায় মোহাম্মদিয়া খানকাহ শরীফের কার্যক্রম চলত। খানকাহ শরীফটির ঢাকা অফিসের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার বেশকিছু মুরিদ রয়েছে।

এদিকে, রাত পৌনে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোসতাক আহমেদ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনার আগে সন্ধ্যা সাতটার দিকে দু’জন দুর্বৃত্ত খানকা শরীফে বসেন। তাদের খবর পেয়ে খিজির খান দ্বিতীয় তলায় আসেন। এ সময় তৃতীয় তলার খিজির খানের ছেলের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাত পা বেঁধে ফেলা হয়। বেশ কিছু সময় জিম্মি থাকার পর ছেলের স্ত্রী নিজ হাত খুলে দ্বিতীয় তলায় এসে খিজির খানকে রক্তাক্ত অবস্থান দেখতে পান। তার গলায় ক্ষতচিহ্ন ছিলো। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু জামাকাপড় এলামেলো ছিলো। এসব বিষয মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখন আর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এর আগে, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের ভাড়া বাড়ির দোতলায় ইসলামী ফ্রন্ট নেতা ও টেলিভিশন উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার গোপীবাগের আর কে মিশন রোডের ৬৪/৬ নম্বর বাসার দোতলায় ‘আধ্যাত্মিক পীর’ লুৎফর রহমান ফারুক (৬০), তার ছেলে মনির হোসেন (৩০), অনুসারী সাইদুর রহমান (৩০), মজিবর রহমান (৩২), রাসেল (৩০) ও বাসার তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জুকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

(দ্য রিপোর্ট/কেজেএন/এনএস/পিএম/এসবি/এমডি/অক্টোবর ০৬, ২০১৫)