দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : সম্পত্তি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব অথবা ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকে হত্যা করা হতে পারে। এই তিন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নিজ কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে গুলশান জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) এস এম মুস্তাক আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড সুপরিকল্পিত। এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের বা কেউ আটক হয়নি। পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তদন্ত করছে।’

রাজধানীর মধ্যবাড্ডার গোদারাঘাটে জ-১০/১ নং বাড়ির দ্বিতীয় তলায় সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে পরিবারের অন্য সদস্যদের হাত-পা বেঁধে খিজির খানকে গলা কেটে হত্যা করে। বাড়িটির তৃতীয় তলা তছনছ করে পরিবারের অন্য সদস্যদের হাত-পা বেঁধে রাখে দুর্বৃত্তরা। সাত তলা বাড়িটির তৃতীয় তলায় মোহাম্মদিয়া খানকাহ শরীফের কার্যক্রম চলত। এর ঢাকা অফিসের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার বেশকিছু মুরিদও আছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি, মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, খিজির খান নক্সাবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া তরিকার একজন পীর ছিলেন। তার বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের যাতায়াত ছিল। ছয় তলা বাড়ির তৃতীয় তলায় তিনি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন আর দ্বিতীয় তলায় ছিল তার খানকা শরীফ। দুর্বৃত্তরা দ্বিতীয় তলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

রাত পৌনে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোসতাক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনার আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই দুর্বৃত্ত খানকা শরীফে বসেন। তাদের খবর পেয়ে খিজির খান দ্বিতীয় তলায় আসেন। এ সময় তৃতীয় তলার খিজির খানের ছেলের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। বেশকিছু সময় জিম্মি থাকার পর ছেলের স্ত্রী নিজ হাত খুলে দ্বিতীয় তলায় এসে খিজির খানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু জামাকাপড় এলোমেলো ছিল। এ সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখন আর কিছু বলা যাচ্ছে না।’

(দ্য রিপোর্ট/এমএসআর/এমএআর/আরকে/অক্টোবর ০৬, ২০১৫)