রবিউল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : ২২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টোয়েন্টি২০ টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসর। আসরটি শুরু হওয়ার আগেই সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিসিবির বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হয়েছেন দেশী ক্রিকেটাররা। সাকিব-তামিম-মাশরাফিদের মান বিচারে বিদেশী ক্রিকেটাদের বেশি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাবেক অনেক ক্রিকেটার।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাবেক পরিচালক খন্দকার জামিল উদ্দিন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘স্থানীয় ক্রিকেটারদের অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ বেশি হলে আকর্ষণ বাড়ত। এতে করে খেলোয়াড়রা উৎসাহ পেত।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আমি মনে করি, বিসিবির সুযোগ থাকলে উচিত হবে দেশী ক্রিকেটারদের আর্থিক অঙ্কটা নতুন করে চিন্তা করা। এটা সম্ভব না হলে, অন্তত আইকন ক্রিকেটারদের বিদেশী ক্রিকেটাদের মতো মূল্যস্থর মালিকদের কাছে ওপেন করে দেওয়া।’

বিপিএল তৃতীয় আসরে মোট ৬টি দল অংশ নিচ্ছে। অংশ নেওয়া দলগুলো এরই মধ্যে ভালমানের বিদেশীদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টায় সফল হয়েছে। গেইল-সাঙ্গাকারা-দিলশান-আফ্রিদিদের দলে ভেড়াতে তাইতো নির্ধারিত ৭০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজির। কেননা, বিদেশীদের ব্যাপারে নির্ধারিত অঙ্কটা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বিষয়টি শিথিল করে দিয়েছে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাছে বিপিএল তৃতীয় আসরের মালিকপক্ষরা।

বিপিএলে আর্থিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সাকিব-তামিম-মাশরাফিরা। বিদেশী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য রাখা হয়েছে ৭০ হাজার ডলার। সেখানে দেশী ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি, ৬ আইকন ক্রিকেটারের, যাদের সর্বোচ্চ দাম ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। অন্য ক্যাটাগরিতে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে ক্রীড়া সংগঠক এবং সাবেক ক্রিকেটারদের কেউই স্থানীয় ক্রিকেটাদের এভাবে অবহেলা মেনে নিতে পারছেন না।

স্থানীয় ক্রিকেটাদের ৬ আইকনের মধ্যে একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। যিনি কিনা সারাবিশ্বে বিভিন্ন টোয়েন্টি২০ ক্রিকেট খেলে বেড়ান। তার মূল্য কিভাবে ৩৫ লাখ টাকা হয়। এই প্রশ্ন বুধবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলর সদস্য সচিব ঈসমাইল হায়দার মল্লিককে করা হলে তিনি বুধবার বলেছেন, ‘আমরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছি। টুর্নামেন্টের টিকে থাকার স্বার্থে এটা দরকার আছে। দুয়েকটা আসর যাক, তখন এই ব্যাপারগুলোও ঠিক হয়ে যাবে।’

তবে বিপিএলের স্বার্থে এমনটা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব এমটা মনে করলেও এটা মানতে পারছেন না খন্দকার জামিল উদ্দিন। তিনি মনে করেন, ‘বিপিএল আর্থিক কাঠামো বণ্টনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ক্রিকেটারদের টাকার অঙ্কটা একটু বেশিই কম হয়ে গেছে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করে দেওয়া হলে; তবু এটা মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু ৩৫ লাখ, এটা খুব কম অঙ্ক। সর্বনিম্ন অঙ্কটাও আরও কম। এটা ১০ লাখ হলে ভাল হতো।’

বিসিবি এটা অন্যায় করছে। স্থানীয় ক্রিকেটাদের এভাবে অবমূল্যায়র করা মোটেও উচিত হচ্ছে না বোর্ডের। এমনটাই মনে করছেন খন্দকার জামিল উদ্দিন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বৈষম্যের শিকার আমাদের ক্রিকেটাররাই। হয়তো বেশি টাকা না পেলে ভাল মানের বিদেশী ক্রিকেটার পাওয়া যেত না। কিন্তু বাস্তব কথা চিন্তা করলে আমাদের দেশী ক্রিকেটারদের মানদণ্ডটা বেশিই নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

খন্দকার জামিলের মতো অনেকেই বিপিএলের প্রক্রিয়াকে মেনে নিতে পারছেন না। হাসিবুল হোসেন শান্ত দ্য রিপোর্টকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বিপিএল আমাদের দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট আসর। সেখানে আমাদের দেশের ক্রিকেটাররাই প্রাধান্য পাবে; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিসিবি স্থানীয় ক্রিকেটাদের অবমূল্যায়ন করছে।’

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/এএস/সা/অক্টোবর ১৫, ২০১৫)