দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ট্যাক্স এবং ভ্যাট সংগ্রহ প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে বৃহস্পতিবার (২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় ব্যবসায়ী সংগঠনটি।

‘প্যাকেজ ভ্যাট’ পুনর্বহাল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭.০৫ শতাংশ। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অর্জিত বিনিয়োগ ২১.৭৮ শতাংশকে ২৭ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ ছাড়াও দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগের বর্তমান হারকে বাড়ানোর জন্য অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশপাশি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নীতিমালার সংস্কার একান্ত আবশ্যক।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৫.২ শতাংশ কম। বিদ্যুৎ খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাসকৃত মূল্যে সরবরাহ করার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। বিদ্যুতের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখাতে হবে।

এতে বলা হয়, এ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ শতাংশ। সরকার এ ঘাটতি বাজেট মেটাতে গিয়ে ব্যাংক উৎস হতে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থাকলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ হারে বেড়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সহজে আদায়যোগ্য ভ্যাট থেকে এককভাবে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়ের পরোক্ষ করের বোঝা সকল ভোক্তার ওপর পড়বে। কারণ ভ্যাট থেকে ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শুল্ক থেকে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় (এডিপি) ১ লক্ষ ১৭ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপি-এর ৬ শতাংশ। কিন্তু এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি এ ফিন্যান্সিয়াল স্পেস ব্যবহার করার সুযোগ নষ্ট করছে কারণ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মার্চ পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে ৫০ শতাংশ। এডিপি বাস্তবায়ন দ্রুতকরণের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয়-ভিত্তিক জবাবদিহিতার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় শূন্য শতাংশ, ১ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্কের আলাদা স্ল্যাব করার প্রস্তাব করছে। ঢাকা চেম্বার কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানায়, এতে করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতে রফতানি বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা চেম্বার মনে করে, গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ পর্যাপ্ত হলেও এ প্রকল্পগুলো বস্তবায়নে আরও মনোযোগী ও সতর্ক হতে হবে। এ ছাড়াও নতুন নতুন গ্যাস কূপ খননের পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার যদিও ২০১৮ সাল থেকে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে তবে এ ক্ষেত্রে দাম নির্ধারণের বিষয়ে ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা প্রয়োজন এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম যৌক্তিক হারে কমানোর প্রতি সরকারের মনোযোগী হতে হবে, যার মাধ্যমে শিল্প খাতে বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পায়।

(দ্য রিপোর্ট/এসএস/এএসটি/এম/জুন ০২, ২০১৬)