রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোতে ব্যাচেলরদের থাকার প্রধান ভরসা মেস। সাধারণত বাড়িওয়ালারা ব্যাচেলরদের বাড়িভাড়া দিতে চায় না। বলা যায় প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই শহরগুলোতে মেস গড়ে উঠেছে। অল্প বেতনের চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ছাত্র, বেকারদের নাগরিক জীবনের ঠিকানা এই মেস। সম্প্রতি জঙ্গিদের আস্তানা হিসেবে মেস চিহ্নিত হওয়ায় মেসের মালিক ও বাসিন্দারা ঝুঁকি অনুভব করছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর এসেছে। ঢাকাসহ সারা দেশেই পুলিশ জঙ্গী খুঁজতে মেসগুলোতে হানা দিচ্ছে। আবার কল্যাণপুরের যে বাড়িতে ৯ জঙ্গী পুলিশী অভিযানে মারা গেছে সেই বাড়ির মালিকের স্ত্রীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সব কিছু মিলিয়ে শহরের মেসে বাস করা ব্যাচেলরদের মনে প্রশ্ন- তারা এখন কি করবে।

পুলিশী অভিযান হোক বা না হোক মেসের মালিক এবং ভাড়াটিয়ারা এখন ভুগছে এই অজানা আশঙ্কায়। যেহেতু মেসে বসবাসকারী বেশির ভাগ মানুষ হলো অস্থানীয়, নানা স্থানীয় রাজনীতি সমাজনীতি থেকে থাকে বাইরে। পুলিশী ঝামেলা হলে তাদের পক্ষে কথা বলার মতো লোকজনও থাকার কথা নয়। তাদের একমাত্র ভরসা বাড়িওয়ালা। কোন ভাড়াটিয়ার জন্য দায়িত্ব নিয়ে বাড়িওয়ালাই বা বাড়তি ঝামেলায় পড়তে যাবে কেন।

কিন্তু জঙ্গি রুখতে বা অপরাধ সংগঠনের আগে তা নস্যাৎ করাও তো পুলিশের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এমন এক অবস্থার মধ্যে প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কিভাবে কাজ করবে। বিষয়টি ছোটখাটো মনে হলেও পাশ কাটিয়ে যাবার মতো নয়। তবে অনেক সময় সমস্যা সামনে না এলে তার সমাধানও মেলে না। নিশ্চয় এক্ষেত্রেও অচিরেই সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে আমরা মনে করি মেসে যদি অভিযান পরিচালনাই করতে হয় তাহলে তা যাতে সাধারণ মেস বাসিন্দা বা বাড়ির মালিকদের জন্য বাড়তি ভীতি তৈরি না করে অভিযান পরিচালনাকারীদের সে বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখা দরকার।