চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার গ্রামে এক তরিকাপন্থী ফকিরের আস্তানায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তারা আস্তানায় বসবাসকারী জুলমত আলী ফকির ও তার গুরু ভাই হরেন হালদারের চুল কেটে নিয়েছে। এ সময় জুলমত ফকির, হরেন হালদার ও জুলমতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের হাত পা ও চোখ বেঁধে রাখে দুর্বৃত্তরা। আগুনে ঘরবাড়ি গাছ-গাছালি ও আস্তানায় থাকা জিনিসপত্র পুড়ে যায়। বিষয়টি দামুড়হুদা থানা পুলিশ অবগত হয়েছে।

এ বিষয়ে মিডিয়ায় যে সংবাদ এসেছে তাতে জানা যায়, ২০-২৫ বছর বয়েসী ৮-৯ জন যুবক ফকিরী আস্তানায় এই হামলা চালায়। কেন তারা জুলমত ফকিরের আস্তানায় হামলা চালালো সে বিষয়ে মিডিয়া কোনো তথ্য দেয়নি। এর পিছনে শুধুমাত্র অপরাধ প্রবণতা কাজ করেছে নাকি মতাদর্শগত প্রশ্ন জড়িত সে বিষয়টি পরিষ্কার হতে আমাদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

সরেজমিন দ্য রিপোর্টের প্রতিনিধি ঘটনাস্থল ঘুরে এসে জানান, ফকির জুলমত আলীর আস্তানা অত্যন্ত নির্জন এলাকায় অবস্থিত। আস্তানার পশ্চিম দিয়ে মাথাভাঙ্গা নদী প্রবাহিত। সৌর ও জেনারেটর দিয়ে সেখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা। পৈত্রিক বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার প্রতাপপুর ছেড়ে জুলমত আলী এই নির্জন স্থানে আস্তানা গেড়েছেন। এখানে তিনি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার সলেমান শাহর তরিকায় সাধন-ভজনের জন্য আস্তানা গড়ে তোলেন।

যে দেশ অসংখ্য পীর ফকির দরবেশ সুফি সাধকের আবাদস্থান, যে দেশে লালন ফকির হাছন রাজার মতো মরমী সাধকের জন্ম, যে দেশে গানে গানে ধর্ম চর্চা হয়ে এসেছে, সে দেশে একজন তরিকাপন্থী ফকিরের আখড়ায় হামলা, সাধকের চুল কেটে দেওয়া, তার আস্তানা জ্বালিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ দেশের প্রাণকেই আঘাত করা হয়েছে।