যশোর জেলার কেশবপুরে একটি সেপটিক ট্যাংকের বিষক্রিয়ায় পাঁচজন শ্রমিক মারা গেছে। সোমবার (৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বরনডালি গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা সেপটিক ট্যাংক থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে পিতা-পুত্রও রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে যতদূর জানা গেছে, তাতে বলা হয়েছে, সেপটিক ট্যাংকটি কিছুদিন আগে তৈরি করা হয়। নির্মাণ শ্রমিকরা সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনি খুলে বাঁশ-কাঠ খুলতে গেলে ভেতরের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু মুখে পতিত হয়।

সেপটিক ট্যাংকে বিষক্রিয়া বা বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু নতুন অব্যবহৃত কোনো সেপটিক ট্যাংকে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটার বিষয়টি এর আগে দেখা যায়নি। তদন্ত হলে সংঘটিত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য নিশ্চয় জানা যাবে।

তবে যে হারে আমাদের দেশে সেপটিক ট্যাংকে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে শুধু সচেনতা বৃদ্ধি নয়, আধুনিক ব্যবস্থাপনাও জরুরি।

আধুনিক গৃহনির্মাণ পদ্ধতির অংশ হলো মলমূত্রের জন্য সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ। তাছাড়া আমাদের দেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বলে সরকারী ভাবেও সেনিটারি ল্যাট্রিনকে উৎসাহিত করা হয়। এছাড়া নগরায়ন বৃদ্ধির সাথে সাথে সাবেকী সেনিটেশন ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় যদি এভাবে সেপটিক ট্যাংক বিষক্রিয়ায় বা বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলে তা হলে মানুষ বাড়তি ঝুঁকি অনুভব করবে।

এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার। ভাবা দরকার সেপটিক ট্যাংক নির্মাণে কোন কারিগরি ত্রুটি থাকছে কিনা তা নিয়ে। পাশাপাশি দরকার কম খরচে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করা। এ ব্যাপারে পৌর সভা বা সিটি কর্পোরেশন নয়, ইউনিয়ন কাউন্সিলের মত স্থানীয় সরকারেরও সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।