এ বছর হজ ফ্লাইট উদ্বোধনকালে মন্ত্রীদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে আমরা মনে করেছিলাম, এবারের হজ মওসুমটা বিতর্কশূন্য থাকবে। কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে হজে যাবার জন্য যে মানুষগুলো হজ এজেন্সিগুলোতে অর্থ জমা দিয়েছে বা দরকারি সব শর্ত পূরণ করেছে, তারা পবিত্র হজ সেরে দেশে ফিরবে। কিন্তু অনেকগুলো হজ ফ্লাইট বাতিলসহ অনেক হজযাত্রীর ভিসা জটিলতার কারণে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় ও এজেন্সিগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু করেছে। এই অভিযোগ আমলে নিলে বলতে হয় মন্ত্রীদের দেয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে আমাদের যে আশাবাদ জন্ম নিয়েছিল তা ইতিমধ্যে আহত হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল বা ভিসা জটিলতার সাথে এমন অভিযোগও এসেছে যে, হাজিদের পাঠানোর বিনিময়ে ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ। এটা অর্থনৈতিকভাবে সবল মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত। মানুষ তার ইবাদত-বন্দেগি পালনের জন্য ঘুষ দেবে বা তা পালনের জন্য সুযোগ করে দিতে তার কাছে ঘুষ দাবি করা হবে এমন অভিযোগ আর যাই হোক ধর্মের সাথে যায় না। সওয়াব বা নেকি কামাইয়ের জন্য ইসলামে বিশ্বাসী কোনো মানুষকে ইসলামে নিষিদ্ধ ঘুষ দিতে বাধ্য হতে হবে এটা কেমন কথা।

তবে প্রতিবছর হজ নিয়ে যেভাবে কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠছে তাতে এটা বলাই যায় যে, যারা হজ করতে যান তাদের নিয়ে যে বিরাট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছে, হজ মওসুমে সমস্যা সৃষ্টির পেছনে তা বিশেষভাবে দায়ী। এই অবস্থা দেখে বলা যায়, আমলাতন্ত্রের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যাক্তি যেমন তাদের অনৈতিক চরিত্রের কারণে ধর্ম মানছে না তেমনি কিছু অসাধু এজেন্সি মালিকও ব্যবসায়িক নৈতিকতাও মানছেন না। সরকারের দায়িত্ব যেমন সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা, তেমনি সব ধরনের অভিযোগ আমলে নিয়ে তার সুরাহা করা।