দেশে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত সব এলপি গ্যাস সিলিন্ডার মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণ দফতরের অভিযোগ আমলে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসির সরবরাহকৃত শতকরা ৯০ ভাগ সিলিন্ডারই ত্রুটিপূর্ণ বিস্ফোরক অধিদফতরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের এই লিখিত অভিযোগের পর মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিল। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। মন্ত্রী জানান, পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে সেসব গ্যাস সিলিন্ডার বাতিল করা হবে।

শনিবার সিলেট থেকে বগুড়া ডিপোতে পাঠানো তিনশটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং এগুলো বহনকারী ট্রাক তিনটিও পুড়ে যায়। এছাড়া বিপিসি সরবাহকৃত লক্ষ লক্ষ গ্যাস সিলিন্ডারের শতকরা ৯০টির চুলার সাথে সংযোগ স্থলে লিক রয়েছে বা ত্রুটিপূর্ণ বলে বিস্ফোরক অধিদফতর যে চিঠি দিয়েছে সেটিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চাপে ফেলেছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষার জন্য যে জনবল রয়েছে তা দিয়ে দেশের সব গ্যাস সিলিন্ডার দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা করা সম্ভব কিনা সে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তাছাড়া সিলিন্ডারগুলো তো সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। বিস্ফোরক অধিদফতরের পক্ষে সেগুলো হাতে পাওয়াও সহজ নয়। সর্বোপরি গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষার কাজটি সততার সাথে হওয়া দরকার। সরিষার মধ্যে ভূত থাকলে কোন সদিচ্ছাই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারে না, তার ভূরিভূরি নমুনা পাওয়া যাবে আমাদের দেশে।

তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই মাত্রার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। কারণ বিপিসির সিলিন্ডার নিয়ে আতঙ্ক থাকলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হবে।