যশোর জেলার তিনটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের পর সেই পানি না নামায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে মিডিয়াগুলো এই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে যে খবর দিয়ে যাচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে এখানকার বন্যা পরিস্থিতি আরও স্থায়ী হতে পারে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আটকে পড়া পানি সরানোর কাজে হাত দেওয়ায় আশা করা যাচ্ছে দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

তবে এই অঞ্চলের মানুষ শঙ্কিত, এই বন্যা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নেয় কিনা। এই অঞ্চলের মানুষ জানে জলাবদ্ধতা কাকে বলে। পাকিস্তানের শেষ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই অঞ্চলের জোয়ারের পানি আটকাতে যে পরিকল্পনা নিয়েছিল প্রথম কয়েক দশক তা ভাল ফল দিলেও প্রকল্পের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এক সময় এখানকার নদী-খালগুলো পলি পড়ে বন্ধ হয়ে যায়।  ফলে ভাটি থেকে জোয়ারে আসা পানি এবং বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে আসা পানি আটকে পড়ে। প্রথমে বিলগুলোতে, পরে জনপদ চলে যায় পানির তলে। বছরের পর বছর মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকারে পরিণত হয়। অবস্থাপন্ন কৃষকরা পরিণত হয় জনমজুর বা জেলেতে। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অর্থ ব্যয়ের পর সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পানি নিষ্কাশন করতে সক্ষম হয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিছুটা সুদিন ফিরে আসে এই জনপদের মানষের জীবনে। কিন্তু নতুন এক উৎপাতও হাজির হয়। নদী-খাল-বিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়-বাড়ন্ত হয়ে ওঠে ঘের ব্যবসার। এক সময়ের বিশাল বিশাল বিলগুলো পরিণত হয় অসংখ্য মাছের ঘেরে। এই বছরের প্রবল বর্ষণে পানি না নামার অন্যতম প্রধান কারণ নাকি এই সব অপরিকল্পিত ঘের। রেহাই পায়নি ঘেরও।

কিন্তু তারপর কি? এখানকার মানুষ জানে না। কিন্তু তাদের আশঙ্কা, হয়ত আবার তারা স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকারে পরিণত হতে চলেছে।