আর্থিক হিসাবে গোঁজামিল তথ্য দিয়ে শেয়ারবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করতে যাচ্ছে বিবিএস ক্যাবলস। ক্যাশ ফ্লো (নগদ প্রবাহ) ও শেয়ারপ্রতি মুনাফার (ইপিএস) হিসাবে রয়েছে গরমিল। এ ছাড়া একই বিষয়ে পৃষ্ঠাভেদে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের লক্ষে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়ার জন্য বিবিএস ক্যাবলসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড কমিশনে(বিএসইসি) যে সংশোধিত প্রসপেক্টাস দাখিল করা হয়েছে তা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে বেনকো ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট, যারা এই প্রসপেক্টাস দাখিল করেছে।

সংশোধিত প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ৫৯ পৃষ্ঠায় বিগত ৫ বছরের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইনকাম স্টেটমেন্টে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) গণনায় বিএএস-৩৩ অনুযায়ী, শেয়ার ওয়েটেডকরে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ইপিএস হিসাব করা হয়েছে। কিন্তু ২০১২ সালে ওয়েটেড না করে হিসাব মান লঙ্ঘন করা হয়েছে। ফলে ভুল ইপিএস দেখানোহয়েছে। এ বছর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২৯.১৬ টাকার পরিবর্তে ১৪.৩৫ টাকা ইপিএস দেখিয়েছে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ভুলভাবে ২৪.৩৩ টাকার ইপিএস ২৬.১৭ টাকা দেখিয়েছে।

নগদ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) হিসাবেও মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস ক্যাবলস। হিসাব মান অনুযায়ী, প্রতি বছর ওয়েটেড শেয়ার দিয়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ(এনওসিএফপিএস) হিসাব করা হলেও ২০১২ সালে করা হয়নি। ফলে এ বছর এনওসিএফপিএস ঋণাত্মক ২০৬.৬৯ টাকা হলেও কমিয়ে ১০১.৮০ টাকা দেখানো হয়েছে।

বিএএস-১ অনুয়ায়ী, তুলনা করার জন্য চলতি বছরের পাশাপাশি আগের বছরের একই সময়ের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু বিবিএস ক্যাবলস কর্তৃপক্ষ চলতিঅর্থবছরের ১ম প্রান্তিকের ‘স্টেটমেন্ট অব চেঞ্জেস ইন ইক্যুইটি’ হিসাবের তথ্য প্রকাশ করলেও আগের বছরেরটি করেনি।

শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলনের ৩ মাসের মধ্যে ২০ কোটি টাকা ব্যবহার করা হবে বলে প্রসপেক্টাসের ১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই বিষয়ে ১৪৬ পৃষ্ঠায় আবার৬ মাসে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হিসাব মান অনুয়ায়ী, বাংলাদেশে ডাইলুটেড ইপিএস গণনার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, এখানে কোনো কিছুই কমন শেয়ারে রূপান্তর হয় না। এক্ষেত্রে বিবিএস ক্যাবলসও এরবাইরে নয়। যে সুযোগ নেই বলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রসপেক্টাসের ১৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে। তবে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আবার ডাইলুটেড ইপিএস হিসাবেযথাক্রমে ২.৪৬ টাকা ও ২.০১ টাকা দেখিয়েছে। সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও ভুল ডাইলুটেড ইপিএস দেখিয়েছে। একইসঙ্গে একই বিষয়ে পৃষ্ঠাভেদে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে কমন শেয়ারে কোনো পরিবর্তন না আসায় ওয়েটেড করা লাগেনি বলে প্রসপেক্টাসের ১৬৯ পৃষ্ঠায় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এ বছর ৯০ কোটিটাকার শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে বলে ১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ বছর শেয়ার ওয়েটেড করেও ইপিএস দেখিয়েছে। এ হিসাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ একইবিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে।

৬০ পৃষ্ঠা অনুযায়ী, ২০১৪ সালে নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ৮১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এ হিসাবে এ বছর শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়ায় ১.৬৪টাকা। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নিট পরিচালন নগদ প্রবাহে ৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা হিসাবে নিয়ে শেয়ারপ্রতি ৭.৮৭ টাকা দেখিয়েছে। একইসঙ্গে এই ভুল ৭.৮৭ টাকাকেহিসাবে নিয়ে আবারও ভুল শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ/ইপিএস দেখিয়েছে।

কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সংশোধন করে প্রসপেক্টাস প্রকাশ করা হবে। এ লক্ষে কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজার কাজ করছে।’

২০০৯ সালে প্রাইভেট হিসাবে গঠিত বিবিএস ক্যাবলস ২০১১ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। এরপরে ২০১৫ সালে প্রাইভেট কোম্পানি থেকে পাবলিক কোম্পানিতেরূপান্তর হয়। কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ২০ টাকা সংগ্রহ করে প্লান্ট ও মেশিনারিজ ক্রয়, ভবন নির্মাণ, ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খাতে ব্যবহার করবে।

(দ্য রিপোর্ট/আরএ/জেডটি/এনআই/এপ্রিল ২৬, ২০১৭)