দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজের একটি ফ্লাইট গতকাল সোমবার দুপুরে ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করেছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে উড়োজাহাজটির ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিলো। বর্তমানে ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের হোটেলে পাঠানোর প্রস্ততি চলছে।

বিমানটি সোমবার বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটের দিকে বিমানটি জরুরি চট্টগ্রামে অবতরণ করে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক কাজী খাইরুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের দুইটি ইঞ্জিনের একটি বিকল হওয়ায় চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করেছে। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে আছেন। বিমানটি সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ঢাকায় অবতরণ করার কথা ছিল।

কাজী খাইরুল কবির আরো বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিমানটি ঢাকায় নামার কথা ছিল। ইয়াংগুন পর্যন্ত আসার পর পাইলট বুঝতে পারেন যে বিমানের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। তখন চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল দুপুরে যাত্রী নিয়ে (বোয়িং-৭৩৭-৮০০) ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্য ঢাকা ছেড়ে যায়। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই মধ্য আকাশেই বোয়িং কোম্পানীর উড়োজাহাজের এক নম্বর ইঞ্জিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত করার পর আবারো ইঞ্জিনে সোমবার একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে রাতভর মেইনটেন্স এবং ঢাকায় ফিরে আসার পর ওই ইঞ্জিন পরীক্ষা করানো হয়। তারপরও কি কারণে একই সমস্যা দেখা দিলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তারা বলছেন ‘এটা সত্যিকারের টেকনিক্যাল সমস্যা না-কি অন্য কিছু?’

এ প্রসঙ্গে সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্বরত অপর একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে শুধু এটুকু বলেন, আমরা বোয়িং কোম্পানীর দেয়া ইন্সট্রাকশন মোতাবেক কাজ করেছি। তারপরও আজ সিঙ্গাপুর থেকে আসার পর আবারো কি কারণে ইঞ্জিনে একই সমস্যা দেখা দিলো সেটি জানাতে বোয়িং কোম্পানীকে আমরা জানিয়েছি।

বিমানের বলাকা ভবন সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল দুপুরে (বিজি-০৮৪) বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরেরর উদ্দেশ্য ঢাকা ছেড়ে যায়। ওই ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সাফা। ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার আগেই নাম্বার ওয়ান ইঞ্জিনটি অটোমেটিক শাটডাউন (বন্ধ) হয়ে যায়। এই অবস্থায় পাইলট অপর ইঞ্জিন দিয়ে ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করান।

ওইদিন ওই উড়োজাহাজের মেইনটেন্স কাজ চলে সারারাত। ঢাকাগামী যাত্রীদের পাঠানো হয় হোটেলে। পাইলট ও কেবিন ক্রুদেরও পাঠানো হয় হোটেলে। মেইনটেন্স শেষে ৭ এপ্রিল দুপুর ১২টায় যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসে ফ্লাইটটি (০৮৫ ডেলটা)। ঢাকায় আসার পর আবারো ইঞ্জিন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য হ্যাংগারে পাঠানো হয়।

মেরামত শেষে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরেরর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে (বিজি-০৮৪)। এদিন ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তারেক। ফিরতি ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় আসার কথা। কিন্তু চট্টগ্রামের আকাশে থাকা অবস্থায় আবারো ১ নম্বর ইঞ্জিনটি অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইলট ঢাকায় আসার ঝুঁকি না নিয়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরী অবতরণ করান।

সোমবার সন্ধ্যার আগে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি এই মুহুর্তে অফিসের ডিউটিতে নাই। যে কোন তথ্য জানতে হলে জনসংযোগ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রকৌশল শাখার অপর এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে চট্টগ্রামে বোয়িং-৭৩৭ এর জরুরী অবতরনের কথা স্বীকার করে বলেন, না মেইনটেন্স বোয়িং এসপার ইন্সট্রাকশন এবং ইঞ্জিন মেন্যুফেকচারিং কোম্পানীর দেয়া ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী যেভাবে যা করতে বলা হয়েছে সেভাবে করার পর গ্রাউন্ডে কোনো প্রবলেম হয়নি এয়ারক্রাফটের। মেইনটেন্স পয়েন্ট এর গ্রাউন্ডে যদি কোনো প্রবলেম না থাকে তাহলে এয়ারক্রাফট রিলিজ করে দেয়া হয়। এবং সেটা এসপার বোয়িং এর ইন্সট্রাকশন মোতাবেক করা হয়।

ঢাকায় আসার পথে আবার একই সমস্যার কথা জানালে তিনি বলেন, এখন আবার বোয়িং কোম্পানী এবং ইঞ্জিন মেন্যুফেচারিং কোম্পানীকেও জানানো হয়েছে। যে তোমাদের ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী কাজ হয়েছে। তারপর আবার একই সমস্যা হয়েছে। তাদের অলরেডি জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো ফিডব্যাক (জবাব) পাওয়া যায়নি।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/এপ্রিল ০৮,২০১৯)