দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণীকে আর কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে না। আগামী বাজেটে বরাদ্দ থাকবে না তাদের জন্য। তাই এসব ব্যাংককে নিজেদের টাকায় চলতে হবে।

রোববার শেরে বাংলা নগরে এনইসি মিলনায়তনে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বড় ৪টি ব্যাংককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের যে এক্সারসাইজ, তাদের যে অবস্থান ব্যাংক খাতে; এই ৪টি ব্যাংক চাইলেই সার্বিকভাবে দেশের ব্যাংক খাতকে বেগবান রাখতে পারে। তাই কীভাবে ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী করা যায়। আরও বেগবান করা যা। সেই বিষয়ে ব্যাংকগুলো আমাদের একটি কর্মপরিকল্পনা দেবে। সেজন্য আজকে এখানে বসেছি।

ব্যাংকিং খাতে অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে আর রিফাইন্যান্সিং (অর্থ বরাদ্দ) নয়। প্রতি বছর যে রিফাইনেন্সিং করতাম লস (ঘাটতি) কভার করার জন্য, দ্যাট’স অফ (তা বন্ধ)। দ্যাট’স স্টোরি অব পাস্ট (এটা এখন থেকে অতীত)। আর কোনো দিন রিফাইন্যান্সিং হবে না।’ এখন তাদেরকে অর্থ আয় করতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমমন্ত্রী বলেন, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। ৪ ব্যাংককে ৭ দিনের কর্ম পরিকল্পনা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ৭ দিন পরে তারা ব্যাংকের করণীয় বিষয়ে কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে আসবেন। সরকার এগুলো দেখবে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। তবে অর্থায়ন বাদে তাদের অন্যান্য সহায়তা করা হবে।

৪ ব্যাংক প্রসঙ্গে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ৪টি ব্যাংকের এলাকা অনেক বড় প্রায় ২৫ শতাংশ। তাদেরকে লোকসান কমিয়ে এনে ১৫ শতাংশ লাভ করতে হবে। জনগণকে সেবা দিয়ে মুনাফা বাড়াতে হবে। অর্থনীতি মানুষের জন্য। সরকার এমন কিছু করবে না, যাতে জনগণের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে (এক অংকে) নামিয়ে আনার বিষয়ে শিগগরিই সার্কুলার জারি করা হবে।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সিট প্ল্যান (খেলাপি ঋণ কমানো পরিকল্পনা) বাস্তবায়িত না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেশি দেখাচ্ছে। এটা বাস্তবায়ন হলেই খেলাপি ঋণ অনেক কমে আসবে। এই এক্মিট প্ল্যান আদালতে আছে। এটা বিচারাধীন থাকায় এই বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। আইনের দ্রুত সুরাহা হলেই খেলাপি ঋণের বর্তমান চিত্র থাকবে না। আইনটি বাস্তবায়নাধীন থাকায় অনেক ব্যবসায়ী খেলাপি ঋণ পরিশোধ করছে না।‘

জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা অবকাঠামো খাতে অনেক বিনিয়োগ করেছি। বর্তমানে এসবের সুফল পাবো। এসবের সুফল পেতে থাকলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে নামবে না। আর্থিক খাত ঠিকভাবে চলছে। অর্থনীতির সব খাতই ভালো অবস্থানে রয়েছে। রপ্তানি বাড়ছে। যারা বলছে রপ্তানি কমছে তারা অসত্য বলছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম প্রমূখ।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/আগস্ট ২৫,২০১৯)


রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংককে টাকা দেওয়া হবে না
দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণীকে আর কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে না। আগামী বাজেটে বরাদ্দ থাকবে না তাদের জন্য। তাই এসব ব্যাংককে নিজেদের টাকায় চলতে হবে।

রোববার শেরে বাংলা নগরে এনইসি মিলনায়তনে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বড় ৪টি ব্যাংককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের যে এক্সারসাইজ, তাদের যে অবস্থান ব্যাংক খাতে; এই ৪টি ব্যাংক চাইলেই সার্বিকভাবে দেশের ব্যাংক খাতকে বেগবান রাখতে পারে। তাই কীভাবে ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী করা যায়। আরও বেগবান করা যা। সেই বিষয়ে ব্যাংকগুলো আমাদের একটি কর্মপরিকল্পনা দেবে। সেজন্য আজকে এখানে বসেছি।

ব্যাংকিং খাতে অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে আর রিফাইন্যান্সিং (অর্থ বরাদ্দ) নয়। প্রতি বছর যে রিফাইনেন্সিং করতাম লস (ঘাটতি) কভার করার জন্য, দ্যাট’স অফ (তা বন্ধ)। দ্যাট’স স্টোরি অব পাস্ট (এটা এখন থেকে অতীত)। আর কোনো দিন রিফাইন্যান্সিং হবে না।’ এখন তাদেরকে অর্থ আয় করতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমমন্ত্রী বলেন, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। ৪ ব্যাংককে ৭ দিনের কর্ম পরিকল্পনা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ৭ দিন পরে তারা ব্যাংকের করণীয় বিষয়ে কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে আসবেন। সরকার এগুলো দেখবে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। তবে অর্থায়ন বাদে তাদের অন্যান্য সহায়তা করা হবে।

৪ ব্যাংক প্রসঙ্গে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ৪টি ব্যাংকের এলাকা অনেক বড় প্রায় ২৫ শতাংশ। তাদেরকে লোকসান কমিয়ে এনে ১৫ শতাংশ লাভ করতে হবে। জনগণকে সেবা দিয়ে মুনাফা বাড়াতে হবে। অর্থনীতি মানুষের জন্য। সরকার এমন কিছু করবে না, যাতে জনগণের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে (এক অংকে) নামিয়ে আনার বিষয়ে শিগগরিই সার্কুলার জারি করা হবে।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সিট প্ল্যান (খেলাপি ঋণ কমানো পরিকল্পনা) বাস্তবায়িত না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেশি দেখাচ্ছে। এটা বাস্তবায়ন হলেই খেলাপি ঋণ অনেক কমে আসবে। এই এক্মিট প্ল্যান আদালতে আছে। এটা বিচারাধীন থাকায় এই বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। আইনের দ্রুত সুরাহা হলেই খেলাপি ঋণের বর্তমান চিত্র থাকবে না। আইনটি বাস্তবায়নাধীন থাকায় অনেক ব্যবসায়ী খেলাপি ঋণ পরিশোধ করছে না।‘

জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা অবকাঠামো খাতে অনেক বিনিয়োগ করেছি। বর্তমানে এসবের সুফল পাবো। এসবের সুফল পেতে থাকলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে নামবে না। আর্থিক খাত ঠিকভাবে চলছে। অর্থনীতির সব খাতই ভালো অবস্থানে রয়েছে। রপ্তানি বাড়ছে। যারা বলছে রপ্তানি কমছে তারা অসত্য বলছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম প্রমূখ।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/আগস্ট ২৫,২০১৯)