দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ তুলেছেন, আজ পর্যন্ত তার কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার।

তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমরা এমন কোনো জালিয়াতি পাইনি যা নির্বাচনের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি। নির্বাচনে জয় পেয়েছেন দাবি করে বেশ কয়েকটি মামলা করেছেন তিনি। যদিও কয়েকটি মামলা খারিজও হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের এমন বক্তব্য ট্রাম্পকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে মনে করছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

পরাজয় স্বীকার না করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য তার এই অবস্থানকে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ একদিকে যখন জো বাইডেনকে বিজয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, একই সময়ে পরাজিত হওয়া রাজ্যগুলোয় একের পর এক মামলা করে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জো বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি। আর জনগণের ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে ৬২ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন বাইডেন।

তবে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকেই কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই একের পর পর এক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, উইলিয়াম বার ভোট জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেওয়ার পরও ট্রাম্প কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই টুইটারে আবারো ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন।

নির্বাচন নিয়ে একটি দাবি করা হয়েছে যে, ভোটিং মেশিনগুলো হ্যাক করে এমনভাবে প্রোগ্রামিং করা হয়েছে যে, সেটি ভোটের ফলাফল পাল্টে জো বাইডেনের পক্ষে নিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবির প্রসঙ্গে উইলিয়াম বার বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই দাবি তদন্ত করে এখন পর্যন্ত এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।’

উইলিয়াম বারকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বলে মনে করা হয়। গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে গ্রহণযোগ্য অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখার জন্য তিনি নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে সব কিছু সমাধানের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। কেউ যদি কিছু পছন্দ না করে, তখন তারা চায় যে, বিচার বিভাগ এসে সেটার তদন্ত করতে শুরু করুক।’

তার এই মন্তব্যের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি এবং জেনা এলিস একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেন, 'অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, অনিয়মের এবং পদ্ধতিগত জালিয়াতির যথেষ্ট প্রমাণের ব্যাপারে সেটা নিয়ে তদন্ত বা জ্ঞান ছাড়াই তিনি মতামত দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।’

উইলিয়াম বারের এই মন্তব্যের পর সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ‘আমার ধারণা, এরপরে তিনিই হয়তো বরখাস্ত হতে চলেছেন।’

এর আগে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে 'অত্যন্ত ভুল' মন্তব্য করার জন্য সাইবার সিকিউরিটি এবং ইনফ্রাসট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিসা) প্রধান ক্রিস ক্রেবসকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প।

ক্রেবস এক টুইটে লিখেছিলেন, ‘নির্বাচনী পদ্ধতি জালিয়াতির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ৫৯ জন নির্বাচনী নিরাপত্তা কর্মকর্তা একমত হয়েছেন যে, কোনো ঘটনাতেই এরকম অভিযোগের ভিত্তি নেই এবং প্রযুক্তিগতভাবেও সেটা সম্ভব নয়।’

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/০২ডিসেম্বর, ২০২০)