thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ মে 24, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,  ৯ জিলকদ  1445

একরাম হত্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে র‍্যাব

২০১৮ জুন ০২ ১২:৫৫:৫০
একরাম হত্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে র‍্যাব

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, র‍্যাব ও একটি সংস্থার লোকেরা তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছেন।

শুক্রবার (১ জুন) বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এদিকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুল নিহত হওয়ার আগ মুহূর্তের কথোপকথন ও ওই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে একটি অডিও টেপ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গণমাধ্যমকে জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও টেপটি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমি হলফ করে বলতে পারি, একরামুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একরামুল ১২ বছর টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৬ মে দিবাগত রাতে টেকনাফে গুলিতে নিহত হন একরামুল হক। এ ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও পরিবার দাবি করে আসছে, বিভিন্ন তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও একরামুল ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন না। একরামুলের স্ত্রী গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেও একই কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে একরামুল হকের সঙ্গে তার কথোপকথনের রেকর্ড সাংবাদিকদের শোনানো হয়। এতে গুলির শব্দ, লোকজনের চিৎকার ও বাঁশির আওয়াজ শোনা যায়।

একরাম নিহত হওয়ার পর তার পরিবার আর টেকনাফে নেই। স্ত্রী আয়েশা বেগম দুই কিশোরী মেয়ে তাহিয়াত ও নাহিয়ানকে নিয়ে চট্টগ্রামে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন। তাহিয়াত অষ্টম ও নাহিয়ান ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

আয়েশা বলেন, একরামকে ধরে নেওয়ার সময় তিন দফা মুঠোফোনে কথা হয়। তখন তিনি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে মেয়ে ও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। রাত ১১টা ১৪ মিনিটে ফোন করলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ইউএনও অফিসে যাচ্ছি। কাজ শেষে ইনশা আল্লাহ ফিরে আসব। এরপর সর্বশেষ রাত ১১টা ৩২ মিনিটে আবারও ফোন করলে ফোন রিসিভ হয়। কিন্তু এ সময় তিনি আর কথা বলছিলেন না। অপরিচিত একটি কণ্ঠের কথা বলতে শোনা যায়। সেই অপরিচিত কণ্ঠ তাকে বলছেন, “তাহলে তুমি জড়িত নও।” আমার স্বামী উত্তর দেন, “না, আমি জড়িত নই।” এরপরই গুলির আওয়াজ ও স্বামীর আর্তচিৎকার শুনতে পাই।’

আয়েশা বিবিসিকে বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে র‍্যাব-৭-এর গাড়ি দেখে তাদের বললাম, আপনারা কেন আমার স্বামীকে খুন করছেন? তখন ওনারা বলেছেন, ওপর থেকে অর্ডার এসেছে। আল্লাহর কাছে বিচার দেন। আমরা কাজ করার মানুষ। আমরা শুধু অর্ডার পালন করছি।’

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/জুন ০২, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

অপরাধ ও আইন এর সর্বশেষ খবর

অপরাধ ও আইন - এর সব খবর