thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি 25, ২৫ মাঘ ১৪৩১,  ৯ শাবান 1446

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

২০২০ মার্চ ০৮ ১০:১৮:৪৮
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: আজ ৮ মার্চ, রোববার। আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে এই দিবসটি। বাংলাদেশেও নারী দিবস উপলক্ষে সরকারী ও বেসরকারিভাবে নারী দিবসে রয়েছে নানা আয়োজন। নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন।

সমতার জন্য নারীদের আন্দোলন ও সংগ্রামকে উদযাপন করতে প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘের মতে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’।

নারী দিবস উপলক্ষে আজ বিভিন্ন সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নানা কর্মসূচী পালন করছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়ে বিশ্বের সকল নারীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বতর্মান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের ফলে নারী উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিরক্ষা মিশনসহ সর্বক্ষেত্রে নারীর সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ক্রমন্বয়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সাড়ম্বরে উদযাপনের লক্ষ্যে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। মুজিব বর্ষে নারী উন্নয়নে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।' রাষ্ট্রপতি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে সমঅধিকারের একটি বাসযোগ্য পৃথিবী, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এটাই হোক সকলের প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের নারী উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করছে। আমরা জাতিসংঘের এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড, প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ, শিক্ষায় লিঙ্গসমতা আনার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ এবং গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছি।’ নারীর মেধা, মনন ও স্বকীয়তাকে সর্বক্ষেত্রে সমসুযোগ ও সমঅংশগ্রহণের মাধ্যমে সুব্যবহার করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

যে কারণে নারী দিবস: নারী দিবস পালনের পটভূমি হচ্ছে, এই দিনে আমেরিকায় ঘটে যাওয়া এক আন্দোলন। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউ ইয়র্কের সুতা কারখানায় কর্মরত নারীশ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। সেদিন বেতন বৈষম্য, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আর কাজের বৈরি পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নারীরা একজোট হলে তাদের ওপর কারখানা মালিকরা আর মদদপুষ্ট প্রশাসন দমন-পীড়ন চালায়।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ১৯০৮ সালে জার্মানিতে এ দিনটি স্মরণে প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে প্রায় ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছিলেন।

এ সম্মেলনেই প্রথমবারের মতো প্রতি বছরের ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেয়া হয়। এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সাল থেকেই ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

১৯৭৫ সালে জাতিসঙ্ঘ ৮ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান করলে এর পর থেকে সারা বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

কর্মসূচী: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও জাতীয় পর্যায়ে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে টকশো, বিশেষ নিবন্ধ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে অসামান্য অগ্রগতি, সমতা সৃষ্টি, বৈষম্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও সকল ধরনের সহিংসতা বন্ধে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, স্যুভেনির প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হবে।

এ ছাড়া আগামী ১৬ থেকে ১৮ মার্চ দেশজুড়ে তিন দিনব্যাপী ‘নারী উন্নয়ন মেলা’ আয়োজন করা হয়েছে।
দিনটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিকেল সাড়ে ৪টায় ‘নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।

এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) উদ্যোগে এ উপলক্ষে বেলা ১১টায় ডিআরইউ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। পরে ডিআরইউ নারী সদস্য ও সকল সদস্যের পরিবারের নারীদের জন্য ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ও ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতামূলক হেলথ ক্যাম্প পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া আগামী ১১ মার্চ ডিআরইউর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নারী সদস্যদের বিশেষ সংকলন ‘কণ্ঠস্বর’ এর বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হবে।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টিভি ও রেডিও স্টেশনগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে। সেই সাথে দৈনিক পত্রিকাগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/০৮ মার্চ,২০২০)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর