thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮,  ২৮ রমজান ১৪৪২

ঢাকার প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা, মহল্লা-বাজারে শিথিল নিষেধাজ্ঞা

২০২১ এপ্রিল ১৬ ১৪:৪৮:৫০
ঢাকার প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা, মহল্লা-বাজারে শিথিল নিষেধাজ্ঞা

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের তৃতীয় দিন চলছে। অন্যদিকে আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ দুটোর আমেজে রাজধানী ঢাকার রাস্তা আজ ফাঁকা। গত দুইদিনের তুলনায় রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। আর আজ যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বাসায় ফিরছেন।

এদিকে, চলমান কঠোর নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় দিনে রাজধানীর সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথারীতি কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল্লা এবং বাজারগুলোতে অনেকটাই শিথিল বিধিনিষেধ।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) যাত্রাবাড়ী এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আশেপাশের বিভিন্ন মহল্লা ও বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর লিংকরোড, গুদারাঘাট, গুলশান-১ ও গুলশান-২ ঘুরে দেখা যায়, অন্য দুই দিনের তুলনায় আজ সকাল থেকেই রাস্তায় গাড়ির চাপ অনেকটা কম। খুব জরুরি কাজে বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাসা থেকে বের হয়েছেন কয়েকজন। এছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। গত দুই দিনের তুলনায় আজ রাস্তায় প্রাইভেট কার ও রিকশার সংখ্যাও তুলনামূলক অনেক কম।

রাস্তায় বের হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিধিনিষেধের মধ্যেও যেসব অফিস খোলা ছিল সেগুলোও বন্ধ। তাই রাস্তায় গাড়ির চাপ কমেছে। অন্য দুইদিন অফিস খোলা থাকায় রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ বেশি ছিল৷ কিন্তু আজ বন্ধও সেটা খুবই কম। এছাড়া করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় মানুষও খুব জরুরি কাজ বা বাজার সদাইয়ের কাজ ছাড়া তেমন একটা বাসা থেকে বের হচ্ছেন না।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান এবং প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চলাচল করছে। তাও সংখ্যায় খুব বেশি নয়। মাঝে মাঝে দু-একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও দেখা যাচ্ছিল।

এই মহাসড়কের রায়েরবাগে ‘পুনম’ সিনেমা হলের দিকে মহাসড়কে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখান থেকে যাতায়াতকারী প্রতিটি প্রাইভেটকার এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পুলিশের চেকের মুখে পড়তে হচ্ছে।

চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি আমরা চেক না করে ছাড়ছি না। উপযুক্ত অনুমতিপত্র না দেখাতে পারলে ফিরিয়ে দিচ্ছি। প্রয়োজনে শাস্তিও দেয়া হচ্ছে।’

এই বাসস্ট্যান্ডে রাস্তার উভয়পাশেই বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দেয়া যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া, ভ্যানগাড়িতে চড়ে লোকজনকে এই মহাসড়ক দিয়ে সাইনবোর্ড এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।

মহাসড়কে চোখে পড়ছে ব্যাটারিচালিত ও পায়ে চলা রিকশা। পায়ে চলা রিকশার প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুটা শিথিল হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা পেলেই আটকে দেয়া হচ্ছিল।

রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে একসঙ্গে চারটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উল্টো করে রাখতে দেখা গেছে।

এই মহাসড়কে পাশেই যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ, উত্তর রায়েরবাগ, শনির আখড়া, জনতাবাগ, গোবিন্দপুর, কাজলা, দনিয়া এলাকা। এসব এলাকার ভেতরে চলাচল কিংবা স্বাস্থ্যবিধি পালনের ক্ষেত্রে তেমন কড়াকড়ি চোখে পড়েনি।

মহল্লার ভেতরের বেশিরভাগ দোকানপাটই খোলা দেখা গেছে। এলাকার রাস্তার পাশে অস্থায়ী এবং স্থায়ী কাঁচাবাজারগুলোতে ছিল লোকজনের ভিড়। উত্তর রায়েরবাগে দোতলা মসজিদ এলাকায় বাজার করতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

সেখানকার মুদি দোকানি বাবুল মিয়া বলেন, ‘বেচা-বিক্রি অনেক কম। বেশিরভাগ মানুষই দেশে চলে গেছে।’

প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণ রুখতে সরকার দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। ১৪ এপ্রিল থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। এর আগে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকে সাতদিনের জন্য গণপরিবহন বন্ধসহ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ১১ দফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। দুদিন পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া হয়। এর একদিন পর খুলে দেওয়া হয় শপিংমলও। এতে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে সমালোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।

এরই মধ্যে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই বাড়তে থাকে। প্রতিদিন মৃত্যু ও সংক্রমণের নতুন রেকর্ড হচ্ছে দেশে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘প্রয়োজনে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার’।

এরপর গত ৯ এপ্রিল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর ও সর্বাত্মক লকডাউন’ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীও একই ইঙ্গিত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ এপ্রিল ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার।

এই বিধিনিষেধ আরোপের পর চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েছেন, তারা মুভমেন্ট পাস দেখাতে পারলেই ছাড়া পেয়েছেন। আর যারা যৌক্তিক কোনো কারণ দেখাতে পারেননি, তাদের কাউকে মামলা আবার কাউকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বিধিনিষেধের মধ্যে যাদের একান্তই বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হবে তাদের জন্য মুভমেন্ট পাসের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকালে movementpass.police.gov.bd ওয়েবসাইট ও অ্যাপের উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/১৬ এপ্রিল, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর