thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮,  ৬ জিলকদ  ১৪৪২

৪ মাসে বজ্রপাতে ১৭৭ জনের মৃত্যু

২০২১ জুন ১১ ১৫:৪৮:২১
৪ মাসে বজ্রপাতে ১৭৭ জনের মৃত্যু

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: ২০২১ সালের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৪ মাসে বজ্রপাতে ১৭৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছে ৪৭ জন। এর মধ্যে শুধু কৃষি কাজ করতে গিয়েই মৃত্যু হয়েছে ১২২ জনের। বজ্রপাত ও কাল বৈশাখী ঝড়ের মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মারা গেছে ১৫ জন। ঘরে অবস্থানকালীন বজ্রপাতে মারাগেছে ১০ জন। নৌকায় মাছ ধরার সময় ৬ জন। মাঠে গরু আনতে গিয়ে ৫ জন। মাঠে খেলা করার সময় ৩ জন ও বাড়ির আঙিনায়/উঠানে খেলা করার সময় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, ভ্যান/রিকশা চালানোর সময় ২ জন এবং গাড়ীর ভেতরে অবস্থানকালীন বজ্রপাতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছর বজ্রপাতে মৃত্যুর মোট সংখ্যার মধ্যে পুরুষ মারা গেছে ১৪৯ এবং নারী ২৮ জন। নারী ও পুুরুষের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৩ জন, কিশোর ৬ ও কিশোরীর সংখ্যা ৩ জন। চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বজ্রপাতে হতাহতের কোনো ঘটনা না থাকলেও মার্চ মাসের শেষের দিন থেকে মৃত্যুর ঘটনা শুরু হয়। এর পর থেকে চলতি জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মারা যায় ১৭৭ জন। অন্যদিকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মারা গেছে ৬৫ জন। মৃত্যুর পাশাপাশি এ বছর বজ্রপাতে আহত হয়েছে ৪৭ জন। এর মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী রয়েছে।

বজ্রপাতে হতাহতের এই পরিসংখ্যান করা হয়েছে জাতীয় দৈনিক, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিউজ ও টেলিভিশনের স্ক্রল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। এবছর বজ্রপাতের হট স্পট হিসেবে চিহিৃত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা। এই জেলায় চলতি বছরের মে এবং জুন মাসেই মারা গেছে ১৮ জন। এছাড়া, চলতি বছরের ৪ মাসে জামালপুরে ১৪ জন, নেত্রকোণায় ১৩ জন, চাপাইনবাবগঞ্জে ১৬ ও চট্টগ্রামে ১০ জন মারা গেছে। কেস স্টাডি: ১। চলতি জুন মাসের ৬ তারিখ বিকালে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার লোহাচড়া গ্রামে বৃষ্টির সময় বাড়ির বাড়ির আঙিনায় খেলা করছিল আশরাফি খাতুন (১০) ও মহসিনা খাতুন (১২) নামের দুই শিশু। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরের পর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বিকেলে বৃষ্টি নামতে শুরু করে। সঙ্গে চলে প্রচ- মেঘের গর্জন। এসময় ওই দুই বোন বাড়ির আঙিনায় ভিজতে শুরু করে। পরে বাড়ির পাশে গাছ থেকে আম পড়ার শব্দ পেয়ে আম কুড়াতে গেলে বজ্রপাতে শিশু দুটি মারা যায়। বজ্রপাতে তাদের শরীর ঝলসে যায়। ২। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বাড়ির উঠানে বজ্রপাতে তামান্না আক্তার (১৫) ও তার চাচাতো ভাই আল আমিন (৬) মারা যায়। প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির সময় এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়ার সময় তারা দুই জন বজ্রপাতে আহত হয়। এসময় হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দাবি সমূহ: ১। বজ্রপাতের ১৫ মিনিট আগেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানতে পারে কোন কোন এলাকায় বজ্রপাত হবে। এটাকে মোবাইল মেসেজ আকারে সংশ্লিষ্ঠ এলাকার সকল মানুষকে জানানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২। ঝড়/জলচ্ছ্বাসের মতো প্রকৃতিক দূর্যোগে মানুষের মৃত্যুর হার যতোটা তার চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যুর হার বজ্রপাতে। তবে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘোষণা করলেও এই খাতে বরাদ্দ কম। মানুষের জীবন রক্ষার্থে এই খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ৩। মাঠে, হাওর, বাওরে বা ফাকা কৃষি কাজের এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। যার উপরে বজ্র নিরোধক দ- স্থাপন করতে হবে। যেন বজ্রপাতের সময় কৃষকগণ সেখানে অবস্থান বা আশ্রয় নিতে পারে। ৪। বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে থান্ডার প্রটেকশন সিস্টেমের সকল পণ্যে শুল্ক মওকুফ করতে হবে। ৫। সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বজ্র নিরোধক দ- স্থাপনের ঘোষণা দিতে হবে। ৬। বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা/ থান্ডার প্রটেকশন সিস্টেম যুক্ত না থাকলে নতুন কোনো ভবনের নকশা অনুমোদন করা যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. কবিরুল বাশার- কীটতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, বজ্রপাত বিশেষজ্ঞ ড. মুনির আহমেদ, কৌশলী মো. মনির হোসেন- রিসার্চ ফেলো, আইডিইবি রিসার্চ ও টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট, রাশিম মোল্লা- সাধারণ সম্পাদক, এসএসটিএএফ, আব্দুল আলীম- নির্বাহী প্রধান- গবেষণা সেল- এসএসটিএএফ, এমদাদ হোসাইন মিয়া- ভাইস প্রেসিডেন্ট-এসএসটিএএফ, রানা ভূইয়া- নির্বাহী পরিচালক, নূরে আলম জিকু- নির্বাহী পরিচালক।

দ্য রিপোর্ট/এএস/১১জুন /২০২১

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর